April 21, 2026
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রকাশিত টিআইবির প্রতিবেদনে অসত্য ও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, শিক্ষার মান ও শিক্ষাব্যবস্থাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তা করা হয়েছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আজ মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নাহিদ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত ৩০ জুন টিআইবি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। দেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াগুলো সেখান থেকে নেওয়া নেতিবাচক দিকগুলো ফলাও করে প্রকাশ করেছে। টিআইবি গত ৭ জুলাই আমার (শিক্ষামন্ত্রীর) নামে প্রেরিত তাদের রিপোর্টের একটি কপি সচিবালয়ের গেটে জমা দিয়ে গেছে। আমরা ওই দিনই তা পেয়েছি। একেবারে প্রথম দেখায়ই তাদের রিপোর্টের কয়েকটি দুর্বল দিক নজরে এসেছে।
মন্ত্রী বলেন, টিআইবির রিপোর্টের দুর্বল দিকগুলো হলো, তাদের গবেষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গিয়ে অসত্য ও ভুল তথ্য দিয়েই শুরু করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার ২৯৭ জন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেছে যা ২০১২ সালে ছিল সাত লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন। প্রকৃত তথ্য হলো- ২০১২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে সাত লাখ ২১ হাজার ৯৭৯ জন। ২০১৩ সালে পাস করেছে সাত লাখ ৪৪ হাজার ৮৯১ জন। ২০১৩ সালের পাস করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৭৫ হাজার ৫৯৪ জন কম দেখানো হয়েছে। (রিপোর্টের চার পৃষ্ঠার ২য় প্যারা দ্রষ্টব্য)। রিপোর্টে ২০১২ সালের হিসাব উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৬০টির মধ্যে ৪৭টি ঢাকায় অবস্থিত অর্থ্যাৎ সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৯৪টি। (১৯ পৃষ্ঠার ৪.১.১-এর দ্বিতীয় প্যারার শেষ দুই লাইন দ্রষ্টব্য)।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখানে প্রশ্ন হলো, তাদের হিসাব অনুযায়ী ৬০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকায় ৪৭টি। ৯৪টি থেকে ৪৭ বাদ দিলে আর থাকে ৪৭টি। ২০১২ সালে দেশে মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৩৩টি। এর মধ্যে ঢাকাতে পাঁচটি। তাহলে সরকারি সবকটিকে ঢাকায় তুলে আনলেও বাকি থাকে আরো ১৩টি? আন্তর্জাতিকমানের গবেষণা রিপোর্টের এ কোন রূপ। তিনি আরো জানান, রিপোর্টে একজন তথ্যদাতার তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ অর্থ লেনদেন ও জড়িত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে একটি সারণি দেওয়া হয়েছে। সেখানে লেনদেনের খাত ও পরিমাণ দেওয়া হলেও জড়িত ব্যক্তিদের কোনো উল্লেখ নেই। (২৭ পৃষ্ঠার ৪.২.৪) এই তথ্যদাতার নাম, পরিচয়ও উল্লেখ নেই। এই তথ্যদাতা কোন পর্যায়ের মানুষ ও তার তথ্যের ভিত্তি কী সেটিও জানানোর দরকার ছিল। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। ইউজিসি ও মন্ত্রণালয় তা প্রসেস করে।
শুধুমাত্র একজন তথ্যদাতার তথ্যের ভিত্তিতে এমন ঢালাও অভিযোগ প্রকাশ করা কতটা নৈতিক ভিত্তিসম্পন্ন? লেনদেনকারী ব্যক্তিরা কারা? প্রশ্ন নাহিদের। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৩০ জুনে টিআইবির প্রেস ব্রিফিং করে নেতিবাচক এই সারণিটি অধিক গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ হয়েছে। শুধু এই সারণিটি ব্যবহারে সাংবাদিকদের উসকে দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণবিহীন ঢালাও এ অভিযোগে সবকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গবেষণার দৃষ্টিতে এটি কতটা যৌক্তিক?
তিনি বলেন, রিপোর্টে মূখ্য তথ্যদাতা হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি-এর কর্মকর্তার কথা উল্লেখ আছে। (রিপোর্টের ৫ পৃষ্ঠার ১.৯-এর দ্বিতীয় প্যারা)। দুই বছরব্যাপী টিআইবির আন্তর্জাতিকমানের একটি গবেষণা চালাতে গিয়ে তথ্য পাবার জন্য তারা মন্ত্রণালয়ে কোনো যোগাযোগ করেনি। তারা কোনো চিঠিপত্র দেয়নি। এই গবেষণা তো কোনো গোপন কর্মকাণ্ড নয়। দুই বছরব্যাপী এতবড় আন্তর্জাতিকমানের একটি গবেষণার কাজ তো গোপনে চলতে পারে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি’র তথ্যদাতার নাম-পরিচয় জানতে আমরা টিআইবিকে গত ১৪ তারিখে চিঠি দিয়েছি। টিআইবি ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ২২টি নিয়ে গবেষণা করেছে। ২২টির নাম দেওয়া উচিত ছিল। সেগুলো কখন কখন অনুমোদন পেয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রিপোর্টে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২-এর সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়েছে। (১৫ পৃষ্ঠার ৩.২.১)। যেহেতু নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ চালু হয়েছে এখন ঐসব দুর্বলতা তুলে ধরা কতটা প্রয়োজনীয়? রিপোর্টে বহুক্ষেত্রে পত্রপত্রিকার রিপোর্টকে প্রাথমিক তথ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।