April 21, 2026

চড়া দামেও দুষ্প্রাপ্য বাসের টিকিট। গাবতলীর পর্বতা বালুর মাঠে বাস কাউন্টারে গতকাল যাত্রীদের ভোগান্তি।
নিজস্ব প্রতিবেদক: চড়া দামেও দুষ্প্রাপ্য বাসের টিকিট। গাবতলীর পর্বতা বালুর মাঠে বাস কাউন্টারে যাত্রীদের ভোগান্তি। ছবি: সাজিদ হোসেনপবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাসের টিকিটের দাম বাড়ানোয় ক্ষুব্ধ ঘরমুখো মানুষ। ঢাকা থেকে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসগুলোতে টিকিটের দাম বেড়েছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের রুটে চেয়ার কোচের টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। মঙ্গলবার রাজধানীর শ্যামলীর কাউন্টারে বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা তো রীতিমতো ডাকাতি। একধাপে টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে ৮০০ টাকা। তাই ১২০০ টাকার এসি বাসের টিকিট কিনেছি দুই হাজার টাকায়।’ ইমরান আহমেদ সাতক্ষীরার ইয়েলো লাইন নামের একটি পরিবহনের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের জন্য টিকিট কাটতে গিয়েছিলেন। ঈদ সামনে রেখে লাগামহীন এই মূল্যবৃদ্ধির কোনো সদুত্তর নেই ইয়েলো লাইন বাস মালিক কর্তৃপক্ষের কাছে। পরিবহনটির কাউন্টারে টিকিট বিক্রেতারা নানা যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। নাম জানাতেও অস্বীকার করেন তাঁরা। দাম জিজ্ঞেস করলে এক টিকিট বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা ১৮০০ টাকা নিচ্ছি। তাও টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।’ বাসের মালিকের মুঠোফোন নম্বর দিতে রাজি হননি তাঁরা। ঈদের টিকিটপ্রতি কেন ৮০০ টাকা বাড়ানো হলো—জানতে চাইলে কাউন্টারে বসা বিক্রেতারা বলেন, তাঁদের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসে আসনসংখ্যা ২৭টি। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার সময় পুরো আসনে যাত্রী থাকবেন। কিন্তু ফেরার পথে কোনো যাত্রী থাকবেন না। তাই টিকিটের দাম না বাড়িয়ে তাঁদের কোনো উপায় নেই।
একই অবস্থা উত্তরবঙ্গের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসেও। রাজশাহী, রংপুর ও পঞ্চগড়ের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের টিকিটেরও দাম বাড়িয়েছে হানিফ পরিবহন। স্বাভাবিক সময়ে এসি বাসের একটি টিকিটের দাম ছিল ৮০০ টাকা। ঈদের জন্য ৬০০ টাকা বাড়িয়ে সেটি এক হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে। গাবতলী কাউন্টারে হানিফ পরিবহনের ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই বাস অন্য এসি বাসের চেয়ে অন্য রকম। আমরা একেকটি বাস সাড়ে চার কোটি টাকায় কিনেছি। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি খরচও বেশি। ঢাকা ছাড়ার সময় যাত্রী ভরা থাকবে। কিন্তু ফিরবে একেবারে খালি। তাই এই দাম বেশি রাখা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের টিকিটের মূল্য নির্ধারণে মালিক সমিতির কোনো নির্দেশনা নেই।
খুলনাগামী একে ট্রাভেলস পরিবহনের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের একটি টিকিটের দাম ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে এক হাজার ৩০০ টাকা। তবে ১১ জুলাই একই রুটে গ্রিন লাইন পরিবহনের এসি বাসের টিকিট বিক্রি হয়েছে এক হাজার ১০০ টাকায়। অবশ্য ২৩ জুলাই থেকে তাদের কোনো টিকিট নেই। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটে চেয়ার কোচের টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে দেড় থেকে ২০০ টাকা। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর রুটে ৪৫০ টাকার টিকিট বিক্রি করা হয়েছে ৬৩০ টাকায়। খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর রুটে টিকিটপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৭০ টাকা করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় হানিফ পরিবহনে বাসের টিকিট মূল্য ৪৫০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০০ টাকা। তবে সব পরিবহন কর্তৃপক্ষের দাবি, মালিক সমিতির নির্ধারিত মূল্যে তাঁরা টিকিট বিক্রি করছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৪ জুলাই বাসের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ১৭ জুলাই পর্যন্ত বাসের টিকিট বিক্রি করা হবে। এ জন্য গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলীতে গতকাল ভোর থেকে ছিল ঘরমুখী মানুষের ভিড়। তবে আজ কাউন্টারগুলো ছিল একেবারে ফাঁকা। বেশিরভাগ কাউন্টারে টিকিট শেষ হয়ে গেছে বলে জানানো হয়।
…..প্রথম আলো