পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল, নাকচ হামাসের

Posted on July 15, 2014 | in আন্তর্জাতিক | by
কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে না। তবু এসব মুখ দেখলে বোঝা যায় প্রিয়জন হারানোর শোকে তারা কতটা মুহ্যমান।

কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে না। তবু এসব মুখ দেখলে বোঝা যায় প্রিয়জন হারানোর শোকে তারা কতটা মুহ্যমান।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সংঘাত বন্ধে মিসরের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ইসরায়েল। তবে প্রস্তাবটি নাকচ করেছে হামাস। আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের হামলায় ১৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সহস্রাধিক। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের কেউ নিহত হয়নি। তবে কয়েকজন আহত হওয়ার দাবি করেছে তেল আবিব। গাজায় সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গতকাল মিসরের রাজধানী কায়রোতে জরুরি বৈঠকে বসেন আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠক শেষে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন ধাপের একটি যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ১২ ঘণ্টার মধ্যে উভয় পক্ষ শর্তহীনভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে। গাজার সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে। এ ছাড়া কায়রোতে দুই দিনের মধ্যে আলোচনায় বসার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ওই সময় অতিক্রমের আগেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা আজ সকালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি গ্রহণের পক্ষে ভোট দেয়। স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দাবি করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে প্রস্তাবের ব্যাপারে গাজার হামাস কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হামাসের সামরিক শাখা কাশেম ব্রিগেডের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি ‘আত্মসমর্পণ’ সমতুল্য আখ্যায়িত করে তা নাকচ করা হয়েছে।
ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার সূত্রপাত ইসরায়েলি তিন কিশোরকে সম্প্রতি অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হামাসই ওই ঘটনা ঘটায় বলে মনে করে ইসরায়েল। তবে হামাস তা অস্বীকার করে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে, এমন দাবি তুলে ‘অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ’ শুরু করে ইসরায়েল। কয়েক দিনের বিমান হামলার পর গত শনিবার রাতে স্থল অভিযানে নামে ইসরায়েলি নৌ কমান্ডোরা। পাল্টা জবাব দিতে গাজা থেকে রকেট ছোড়া হয়।
এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে গাজায় অভিযান চালায় ইসরায়েল। তখন আট দিনের মাথায় মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বনে্দ্বর জের ধরে ফিলিস্তিনের দুই অংশ পশ্চিম তীর এবং গাজা ২০০৭ সালের আগস্টে চলে যায় দুটি দলের নিয়ন্ত্রণে। সেই থেকে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বে ফাতাহ পশ্চিম তীরে ও খালেদ মেশালের নেতৃত্বে হামাস গাজা শাসন করছিল। এই অবস্থায় গত এপ্রিলে দুই দলের মধ্যে একটি চুক্তি হয়, সে অনুযায়ী নতুন করে নির্বাচনের পর চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি জাতীয় সরকার গঠনের কথা। কিন্তু হামাস-ফাতাহর চুক্তিকে ভালোভাবে নেয়নি ইসরায়েল। তাদের মতে, হামাস একটি জঙ্গি সংগঠন। হামাস-ফাতাহ জাতীয় ঐক্যের সরকার হলে সেই সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যাবে না বলে জানিয়ে দেয় ইসরায়েল।
১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য ইসরায়েল রা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন রারে দাবিতে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের শুরু। এর পর থেকে নিয়মিত রক্ত ঝরলেও আজও তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের স্বাধীন সত্তা মেনে নিতে রাজি নয় ইসরায়েল।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud