পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

গাজায় এবার সম্মুখ যুদ্ধ, নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৯

Posted on July 13, 2014 | in আন্তর্জাতিক | by

gaza1রোববার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি নেভাল কমান্ডোদের সাথে হামাসের মুখোমুখি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধবিমানের সহযোগীতায় ইসরায়েলি সেনারা গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চল, যেখান থেকে দূরপাল্লার রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়, সেখানে এই অভিযান চালায় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবহিনীর মূখপাত্র ল্যাফটেনেন্ট কর্ণেল পিটার লার্নার জানিয়েছেন। তিনি জানান, জঙ্গীরা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, চারজন কমান্ডার গুরুতর আহত হয়েছেন, তবে ইসরায়েলি বাহিনী শেষ পর্যন্ত ওই রকেট লঞ্চিং এলাকা দখল করতে পেরেছে। এদিকে হামাস বলেছে, তাদের যোদ্ধারা সমুদ্র তীর থেকে দূরে থাকা অবস্থায় ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, যাতে তারা অবতরণ করতে না পারে। অপরদিকে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অসংখ্য মানুষ আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। হতাহতদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়টি। এদিকে ইসরায়েল তার সেনাবাহিনীর আরো ২০ হাজার সৈন্যকে গাজা উপত্যকা উদ্দেশ্যে মার্চ করার আদেশ দিয়েছে। এদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার ভোরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক নারী ও তিন বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু নিহত হয়েছে। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৪৯ ছাড়াল। শনিবার গাজা পুলিশ শেফ তায়সীর আল-বাতশ’র বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১৮জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসময় হামাস তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘সালভো’ নিক্ষেপ করে তেল আবিবকে লক্ষ্য করে। হামাস সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ শেফ তায়সীর আল-বাতশ এর অবস্থা আশঙ্কাজনক। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূখপাত্র আশরাফ আল-কিদরা জানান, এঘটনায় আরো ৪৫ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েল দাবি জানিয়েছে, তারা সাধারণ মানুষকে এড়াতে চাইছে কিন্তু হামাস সাধারণের মাঝে লুকিয়ে আত্মরক্ষা করছে বলে তারা নিরুপায় হয়ে পড়েছে। এদিকে শনিবার বিকেলে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলে রকেট হামলা হয়েছে আবার। এবং ইসারায়েলি সেনাবাহিনী আর্টিলারি ফায়ার দিয়ে তার প্রতিউত্তর করেছে। দক্ষিণ লেবানন হিযবুল্লাহ’র শক্ত ঘাঁটি বলে সর্বজনবিদীত। হিযবুল্লাহ সাত বছর আগে সিরিয়া ইস্যুতে ইসরায়েলের সাথে সংঘাতে জড়ায়। এবং এখনো সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে তাদের সম্পৃক্ততা আছে বলে ধারণা করা হয়। তবে লেবানন থেকে রকেট হামলায় হিযবুল্লাহকে এখনো দায়ী করছে না ইসরায়েল। তারা মনে করছে, হামাস প্রভাবিত কোনো ছোট সংগঠন এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে। এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শনিবার ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মাঝে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব করেছে এবং সাধারণ মানুষের জানমাল হানির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কালের পরিক্রমায় ইসরায়েলের পেটে হারিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিন
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৪ মে ১৯৪৮ তারিখে ইহুদি এজেন্সির প্রধান ডেভিড বেন-গুরিয়ন ইসরায়েল সাষ্ট্রের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার সাথে সাথে মিশর, সিরিয়া, জর্দান এবং ইরাক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে যা ইরব-ইসরায়েল যুদ্ধ নামে পরিচিত। মিশরীয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ যুদ্ধে সৌদি আরবও সেনাবাহিনী প্রেরণ করে। ইয়েমেন যুদ্ধ ঘোষণা করলেও অংশ নেয়নি। একবছর যুদ্ধ চলার পর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং ‘গ্রিন লাইন’ নামে একটি অস্থায়ী সীমান্ত নির্ধারিত হয়। জর্দান পশ্চিম তীর ও পশ্চিম জেরুজালেমকে নিয়ন্ত্রণে নেয় আর মিশর নেয় গাজা উপত্যকা। এসময় অন্তত ৭ লাখ ফিলিস্তিনি বহিস্কৃত হয় এবং পালিয়ে যায় প্রানভয়ে, যাদের জমি দখল করেই পরবর্তীতে গড়ে ওঠে ইসরায়েল রাষ্ট্র।

১৯৪৯ সালের ১১ মে অধিকাংশের বোটে ইসরায়েল জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৮ সাল, দশ বছরের মাঝে ইসরায়েলে জনসংখ্যা ৮ লাখ থেকে বিশ লাখে উন্নিত হয়। এই সময়ের মাঝে দেশটি খাদ্য, কাপড়ে জনগণকে রেশনের ব্যবস্থা করে। জাতিসংঘের অনুমতিক্রমে ইসরায়েল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। ৫ জুন ১৯৬৭ তারিখেিইসরায়েল একযোগে মিশর, জর্দান, সিরিয়া এবং ইরাকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। ছয়দিনের সে যুদ্ধে শক্তিশালী আরব বাহিনীকে অপেক্ষাকৃত দূর্বল ইসরায়েল বাহিনী পর্যুদস্ত করে ফেলে খুব সহজেই। সে যুদ্ধে জয়ী হয়ে ইসরায়েল পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা, সিনাই এবং গোলান পর্বতমালা দখলে নেয়। ৬ অক্টোবর ১৯৭৩ সালে মিশর এবং সিরিয়া একযোগে আচমকা সিনাই পেনিনসুলা এবং গোলানে ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ করে বসে। ২০ দিন স্থায়ী সে যুদ্ধেও ইসরায়েলের কাছে মার খায় মিশর এবং সিরিয়া বাহিনী। এভাবে ধীরে ধীরে একসময়ের ছন্নছাড়া ইহুদি জাতি ফিলিস্তিনকে গ্রাস করে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, ভয়েস অব রাশিয়া, উইকিপিডিয়া

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud