April 23, 2026
জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যাপারে ধারণা আছে অনেকেরই, বিশেষ করে দম্পতিদের। জন্মনিয়ন্ত্রণের যেমন আছে বেশ পুরনো কিছু পদ্ধতি তেমনি আবিষ্কার হয়ে চলেছে নতুন পদ্ধতিও। এবার জন্মনিয়ন্ত্রণে এলো মাইক্রোচিপের ব্যবহার। গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে MIT গবেষকেরা তৈরি করেছেন এমন এক যন্ত্র যা কিনা মানুষের চামড়ার নিচে স্থাপন করা যাবে এবং একে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে। হাতের ওপরের অংশে, পেটে অথবা ঊরুতে চামড়ার নিচে স্থাপন করা যাবে এই চিপ। এ থেকে দৈনিক রক্তে নিঃসৃত হবে লেভনোরজেস্ট্রেল। এটা এমন এক হরমোন যা সাধারণত জন্মবিরতিকরন পিলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। উপযুক্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ২০১৮ সাল নাগাদ এই চিপ বাজারজাত হতে পারে।
এই চিপের সুবিধা কি? নিঃসন্দেহে ব্যবহারের স্বাচ্ছন্দ্য। বর্তমানে বাজারে থাকা যে কোনো হরমোনাল বার্থ কন্ট্রোল মোটামুটি পাঁচ বছর পর্যন্ত কাজ করে। কিন্তু এই চিপ কাজ করবে ১৬ বছর পর্যন্ত। আর ডাক্তাররা যদি হরমোনের ডোজ কম-বেশি করতে চান অথবা অন্য কোনো পরিবর্তন আনতে চান তবে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে হাসপাতালে না গিয়েই সে কাজটি সেরে ফেলা যাবে। এমনকি এই চিপ ব্যবহারকারী যদি গর্ভধারণ করতে চান তবে শুধুমাত্র এই চিপটিকে “অফ” করে দেওয়াই যথেষ্ট। এই পদ্ধতি সারা পৃথিবীর নারীদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াটি করে তুল্বে আগের চাইতে অনেক বেশি সহজ এবং সুবিধাজনক। গেটস ফাউন্ডেশন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করে থাকে। তাই ধরে নেওয়া যায় এই পদ্ধতিটি সফল এবং নিরাপদ প্রমাণিত হলে তারা একেও সবার মাঝে ছড়িয়ে দেবার ব্যবস্থা করবে।
এই চিপটির কি কোনো অসুবিধে আছে? রয়েছে কি কোনো বিপদের আশঙ্কা? একটাই সমস্যা দেখা দিতে পারে আর তা হলো হ্যাকিং। বিভিন্ন মেডিক্যাল ডিভাইস হ্যাকিং করা যায়, আর একেও সেভাবে হ্যাক করে অচল করে দেওয়া বা অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে।
(মূল: Yahoo Shine)