April 21, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক: কোনো সংসদীয় আসনে একক প্রার্থী থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা-সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯ ধারার বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে ‘না ভোটের বিধান’ সংযোজনের নির্দেশনা চেয়ে করা অপর রিটটিও আদালত খারিজ করে দেন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়। রায়ের তারিখ ধার্য করেন আদালত। রায়ে আদালত বলেছেন, সংবিধানের সঙ্গে আরপিওর সংশ্লিষ্ট ধারাটি সাংঘর্ষিক নয়। সংবিধানের সঙ্গে কোনো আইন সরাসরি সাংঘর্ষিক হলে, আদালত তা বাতিল করতে পারেন। বর্তমান আইনি কাঠামোতে ১৫৩ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে ‘না ভোটের বিধান’ সংযোজনের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের প্রসঙ্গে আদালত বলেছেন, না ভোটের বিধান আইনে নির্ধারণ করা সংসদের এখতিয়ার। রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে একটি বহুল বিতর্কিত বিষয়ের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে আমি মনে করছি। এখন আর ১৫৩ জনের নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ আছে বলে মনে করি না। হাইকোর্টের এই রায়ের পর তাঁদের নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও আর কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না। রায় ঘোষণার পর নিজ কার্যালয়ে মাহবুবে আলম আরও বলেন, আদালত এই মর্মেও রায় দিয়েছেন যে, আরপিওতে কোনো কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করা সম্পূর্ণ পার্লামেন্টের এখতিয়ার। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ একমাত্র পার্লামেন্টই নিতে পারে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৯ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জকারীর আইনজীবী হাসান এম এস আজিম জানান, মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে আপিলের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা-সংক্রান্ত ১৯ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার আবদুস সালামের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেন।
কোনো সংসদীয় আসনে একক প্রার্থী থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা-সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৯ ধারা কেন সংবিধানের ৭, ১১, ২৭, ৩১ ৬৫ (২), ১২১ এবং ১২২ (১) অনুচ্ছেদ পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। আদালত ১২ মার্চ অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে মতামত দিতে জ্যেষ্ঠ ছয় আইনজীবীসহ সাতজনের নাম ঘোষণা করেন। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, রফিক-উল হক, আজমালুল হোসেন কিউসি, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, মাহমুদুল ইসলাম এবং সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মতামত দেন।
এর আগে গত নভেম্বরে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে ‘না ভোটের বিধান’ সংযোজনের নির্দেশনা চেয়ে দুই আইনজীবী একটি রিট করেন। প্রাথমিক শুনানির পর গত ২৪ নভেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ রুল দেন। রুলে ব্যালটে ‘না ভোটের বিধান’ সংযোজনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। দুটি পৃথক রিটের ওপর চূড়ান্ত শুনানি একসঙ্গে শুনানি হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন সরকার। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম, আবদুস সালামের পক্ষে আইনজীবী হাসান এম এস আজিম, অপর রিটের পক্ষে আইনজীবী রেদোয়ান আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন।