April 23, 2026
চেন্নাই: লালবাতির সাইরেন বাজিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে শাঁ শাঁ করে ছুটে যায় গাড়ি। পরিণামে সড়কে আটকা পড়ে দুর্ভোগ পোহায় সাধারণ মানুষ। অনেক সময় এই লালবাতিওয়ালাদের জন্য সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছতে না পারার কারণে রোগীর জীবনও যায়। কিন্তু গতকাল সোমবার এক বিরল দৃশ্য দেখল যানজটে নাকাল ভারতের চেন্নাই শহর। সাধারণ এক রোগীর জীবন বাঁচাতে সেখানকার ব্যস্ততম সড়কে ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করা হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অন্যান্য যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত না করেই শহরের ব্যস্ততম সড়কে ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করা হয়। ওই গ্রিন করিডর দিয়ে লালবাতিওয়ালা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গাড়ি চলাচলের সুযোগ বন্ধ রাখা হয়। এ কাজে সহযোগিতা করেন ট্রাফিক পুলিশ, চিকিত্সক ও জনতা। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে নিরাপদ ও দ্রুত গতিতে চেন্নাইয়ের সরকারি জেনারেল হাসপাতাল থেকে ফর্টিস মালার হাসপাতালে প্রতিস্থাপনের জন্য একটি হৃৎপিণ্ড নেওয়া হয়। দুই হাসপাতালের মধ্যকার ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ১৪ মিনিটেরও কম। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭ বছর বয়সী এক তরুণের শরীর থেকে হৃৎপিণ্ডটি সংগ্রহ করেন চিকিত্সকেরা। এরপর তা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় একটি বিশেষ পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। মুম্বাইয়ের ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর শরীরে হৃৎপিণ্ডটি প্রতিস্থাপন করার লক্ষ্যে হাসপাতাল দুটির চিকিত্সকেরা আগে থেকেই ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করেন। এরপর তা পরিবহনের জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হাসপাতাল দুটির মধ্যকার সংযোগ-সড়কটি যানজটের জন্য পরিচিত। দিনের ব্যস্ততম সময়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যেতে অন্তত ৪৫ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু গ্রিন করিডর দিয়ে ১৩ মিনিট ২২ সেকেন্ডের মধ্যে হৃৎপিণ্ডটি স্থানান্তর করা সম্ভব হয়। ফর্টিস মালার হাসপাতালে আগে থেকেই রোগীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। হৃৎপিণ্ডটি পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। পরিকল্পনামতো হৃৎপিণ্ড স্থানান্তরের অভিযান সফল হয়। এ প্রসঙ্গে হাসপাতালটির সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক সুরেশ রাও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সব কাজ ঠিকমতো সম্পন্ন হয়েছে।’ পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার করুণাসাগর (ট্রাফিক) বলেন, সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত না করেও গ্রিন করিডর তৈরিতে শহরের ট্রাফিক পুলিশ তাদের সাহসের পরিচয় দিয়েছে।