পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

বিদ্যুত ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় স্কাউটদের ভূমিকা রাখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

Posted on April 5, 2014 | in জাতীয় | by

05-04-14-PM_Gazipur-4মৌচাক (গাজীপুর থেকে): দেশে বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে স্কাউটদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সরকার দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করেছে তবে যতই উৎপাদন হোক সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত না করলে তা ফল দেবে না। প্রধানমন্ত্রী স্কাউটদের উদ্দেশ্যে এ লক্ষ্যে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করার আহ্বান জানান। শনিবার সকালে গাজীপুর কালিয়াকৈরের মৌচাকে নবম বাংলাদেশ স্কাউট ও প্রথম সার্ক স্কাউট অর্গানাইজেশন (সানসো) জাম্বুরীর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী স্কাউটদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভবিষ্যতে এদেশকে তোমরাই নেতৃত্ব দেবে। তাই, শিক্ষা, মেধা, মনন ও সততার সংমিশ্রনে নিজেদের তৈরি করতে হবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার এই লড়াইয়ে তোমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য দূর করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই।

এর আগে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে গাজীপুরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। গাজীপুরের মৌচাক জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শান্তি সম্মৃদ্ধির জন্য স্কাউট এই প্রতিপাদ্যে নবম বাংলাদেশ স্কাউট ও প্রথম সার্ক স্কাউট অর্গানাইজেশন (সানসো) জাম্বুরীতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। বাংলাদেশ স্কাউটসের গাজীপুর, রংপুর, খুলনা ও শরিয়তপুর কন্টিনজেন্ট এতে অংশ নেয়। সার্কভুক্ত দেশগুলো থেকেও আসে বিশেষ স্কাউট দল। জাম্বুরিতে সার্কভুক্ত দেশ শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও নেপালের ২৭ জন স্কাউট ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রায় সাড়ে আট হাজার প্রশিক্ষণার্থী ও কর্মকর্তা অংশ নেয়।

সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৌচাকের এই গ্রাউন্ডে পৌছান। বাংলাদেশ স্কাউটের সভাপতি, প্রধান কমিশননার ও নির্বাহী পরিচালক স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম এই স্লোগানে স্কাউটরা তাকে অভিনন্দন জানাতে থাকে।প্রধানমন্ত্রীকে স্কাউটস ব্যাজ পরিয়ে দেওয়ার পর তাকে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। এরপর জাম্বুরি পতাকা হস্তান্তর হয়। জাম্বুরি পতাকা গ্রহণ করে চৌকষ একটি স্কাউট দল। পরে প্রধানমন্ত্রী স্কাউটদের ঘুরে দেখেন।

বক্তৃতার পর বেলুন ও শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে নবম বাংলাদেশ ও প্রথম সানসো স্কাউট জাম্বুরীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় আরও বলেন,  কিশোর ও যুবদের সৎ, চরিত্রবান, আত্মপ্রত্যয়ী ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে স্কাউট আন্দোলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় স্কাউটদের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় স্কাউট সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও শীতার্ত মানুষের সেবায় তাদের কার্যক্রম জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

এছাড়া বৃক্ষরোপণ, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্য শিক্ষা, ইপিআই কর্মসূচি ও পরিবেশ সচেতনতায় স্কাউটদের সেবামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তথ্য প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্কাউটদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব তথ্যপ্রযুক্তির উপর ভিত্তি করেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্কাউটদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজেদের আধুনিক বিশ্বের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তৈরির লক্ষ্যে আমাদের সরকার স্কুলগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাদানের জন্য কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুমের ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ‘ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্র’ চালু করা হয়েছে।

২০০৯ থেকে ২০১৩ মেয়াদে দেশব্যাপী স্বাস্থ্য ক্যাম্প এবং বিদ্যুৎ ক্যাম্পে নিজের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  তোমাদের সাথে এ কর্মসূচিগুলোতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কনফারেন্স করেছি। আমি বিশ্বাস করি এর ফলে তোমরা স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকাণ্ডে আরও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কার্যকর অবদান রাখছ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগকে বাংলাদেশ স্কাউটস এর সহযোগিতা নিয়ে নিয়মিত বিদ্যুৎ ক্যাম্প ও স্বাস্থ্য ক্যাম্প আয়োজনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যতই বিদ্যুৎ উৎপাদন করি তার সাশ্রয়ী ব্যবহারে সচেতন হতে হবে। এই সচেতনতা তৈরিতে স্কাউটরা ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশে স্কাউট আন্দোলনকে জোরদার করতে সম্ভাব্য সবধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাবিং সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট থ্রু স্কাউটিং প্রকল্পের মাধ্যমে অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে কাব স্কাউট ও স্কাউট দল গঠন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১২ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মত এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল স্কাউট কনফারেন্স আয়োজন করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।মৌচাকের জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ট্রেনিং কমপ্লেক্সে পরিণত করতে এরইমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশ স্কাউটস সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। মৌচাকের এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য একটি পৃথক প্রকল্প গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নিতে স্কাউট নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

জেলা পর্যায়ের স্কাউট কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সকল জেলায় স্কাউট ভবন নির্মাণ করে দক্ষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করছি। আমি মনে করি, উন্নত ও দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরীতে বাংলাদেশ স্কাউটস সব সময় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তাই সরকার স্কাউটিংয়ের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বাংলাদেশ স্কাউটস এর সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১৩ লাখ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি জনসংখ্যার তুলনায় খুব বেশি নয়। স্কাউটসের গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখে এ সংখ্যা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুটো করে স্কাউট দল খোলার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ স্কাউটস গার্ল-ইন-স্কাউটিং কার্যক্রম তাদের ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে এবং স্কাউটিং এ মেয়েদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৬৭ জন জন। তিনি বলেন, এজন্য বাংলাদেশ স্কাউটসকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। স্কাউটিং এ মেয়েদের সংখ্যা আরও বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় তিনি এ জাম্বুরিতে অংশ নেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমুহের স্কাউটসদস্যদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, সার্ক ন্যাশনাল  স্কাউট অর্গানাইজেশন (সানসো) জাম্বুরী আয়োজনে বাংলাদেশকে সুযোগ দেওয়ার জন্য সার্ক দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। হিংসা, বিদ্বেষ ও নৈতিক অবক্ষয়ের উর্ধ্বে উঠে আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দিতে স্কাউটদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে স্কাউটিং এর সুমহান ব্রতকে তোমরা জীবনের সকল ক্ষেত্রে ধারণ করে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্কাউটের প্রধান জাতীয় কমিশনার মো. আবুল কালাম আজাদ ও জাম্বুরির সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি আবদুল করিম। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud