May 6, 2026
ঢাকা: পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বাড়ছে ইলিশের দাম, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে রাজধানীর বাজারে প্রচুর ইলিশ মাছ উঠলেও দাম বেশ চড়া। দাম বেড়েছে আদা, রসুন, গুড়ো দুধসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের। সবজি ও ডিমের দাম কিছুটা কম। তবে মুরগির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বেশি। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বৈশাখ আসার দশ দিন আগেই হাত দেয়া যাচ্ছে না ইলিশের গায়। এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে অন্তত আট হাজার টাকায়। এদিকে মাছ-ভাতে বাঙালির জন্য চালের বাজারের তাপটাও বেশ বেশি। সরু চালের দাম কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা। মোটা চাল কিনতেও কেজিতে গুনতে হচ্ছে ৩৫ টাকা।
বৈশাখ মানেই পান্তা ইলিশ। তবেই না মাছে-ভাতে বাঙালী। কিন্তু সেই মাছ-ভাতে বাঙালী হওয়ার খরচ কুলিয়ে উঠতে পারছে কজন? পহেলা বৈশাখের দশ দিন বাকি থাকতেই, এক কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম উঠেছে দু হাজার টাকায়। ওজনের হিসাব না করলেও, হাজার-বারোশোর কমে ইলিশের গায়ে হাত দেয়ায় দায়। বৈশাখে ইলিশের বাড়তি দামকে অস্বাভাবিক বলছে না বিক্রেতারা। গত বছর হিমাগারে রাখা মাছের দাম খানিকটা কম হলেও, টাটকা তোলা ইলিশ কিনতে খরচটা একটু বেশি হবে বলেই জানালো তারা।
গত এক মাসে সরু চালের দাম বেড়েছে পাঁচ থেকে সাত টাকা। মোটা চালেও গুনতে হচ্ছে অন্তত দুই টাকা বেশি। মিনিকেট ৫২, নাজিরশাইল ৫০ আর মোটা চাল কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। মৌসুম শুরু আগে আড়ৎদারদের তৈরি কৃত্রিম সংকটকেই দাম বাড়ার কারণ বলছে বিক্রেতারা।নতুন চাল বাজারে এলে চালের দাম কমতে পারে বলে ধারণা করছে বিক্রেতারা।
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বাড়ছে ইলিশের দাম, বরিশালেও চড়াবরিশালের পাইকারী বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ইলিশের দাম। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে এই সুস্বাদু মাছটি।বিক্রেতারা বলছনে, পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশের দাম বাড়ছে এবং তা শেষ চৈত্র পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের বাঙালিদের কাছে ইলিশের চাহিদা ব্যাপক।
অন্যদিকে, চলছে ইলিশের পোনা বেড়ে ওঠার জন্য জাটকা সংরক্ষণ অভিযান। আর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বেড়েই চলছে ইলিশের দাম। এ অবস্থায় ইলিশ সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
এ বিষয়ে কথা বললে ক্রেতারা জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ইলিশের দাম বাড়তেই আছে। দামটা সাধারণ মানুষের কেনার নাগালের অনেক বাইরে। ইলিশ মাছের দাম কমেনি। ইলিশ মাছের দাম বাড়তেই আছে।আর ইলিশের পাইকারী বিক্রেতারা বলছনে, ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ইলিশের দাম বাড়া অব্যাহত থাকবে।এ প্রসঙ্গে একজন পাইকারী ইলিশ বিক্রেতা সময় সংবাদকে বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলেক্ষ্যে ইলিশের দামটা বাড়তেছে এবং ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এ দাম বাড়াটা অব্যাহত থাকবে।অপর এক বিক্রেতা বলেন, ইলিশের প্রকারভেদে বিভিন্ন ধরনের ইলিশের দাম বাড়ছে প্রতি মণে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
বরিশালের ইলিশের পাইকারী বাজারে দেড় কেজি পর্যন্ত ইলিশের প্রতি মনের দাম ৯০ হাজার টাকা। ১ কেজি ২শ গ্রাম বা তদুর্দ্ধ ইলিশের মণ ৭৫ হাজার, ১ কেজির ওপর ৫৫ হাজার এবং ৬শ থেকে ৯শ গ্রাম পর্যন্ত ইলিশের মণ ৩৮ হাজার টাকা।
ফাল্গুন মাসের চেয়ে চৈত্রে মাসে সব শ্রেণীর ইলিশের দাম মণ প্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।৫০০ গ্রাম ওজনের বেশি ইলিশ প্রতিকেজি ৫০০-৫৫০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের বেশি ইলিশ প্রতিকেজি ৭৫০ টাকা, জাটকা মাঝারি ৩৫০-৪০০ টাকা। কাতল মাছ ৩৫০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছের কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, বড় রুই মাছ ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি (বড়) ১ হাজার ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শীত শেষে গরম শুরু হলেও মৌসুমী সব সবজিই পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও এ সপ্তাহেও েেবশিরভাগ জিনিসের দামই বাড়তির দিকে। বেড়েছে আদার দামও। কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে আদা বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা করে। রসুনের দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তবে আবারো বেড়েছে গুড়ো দুধের দাম। কারণ হিসেবে বাজার তদারকির অভাবকেই দায়ী করলেন ক্রেতারা।
আর খুচরা বিক্রেতারা দায় চাপালেন পাইকারী বিক্রেতাদের ওপর। প্রতি কেজি চায়না আদা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়। দেশি আদা ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় পেঁয়াজ, আলুসহ সবজির দাম কমেছে, চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চায়না আদা সংকটের কারণে দেশি আদার দাম বেড়ে গেছে।
গত সপ্তার তুলনায় পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা কমেছে। কারওয়ান বাজারে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) পেঁয়াজ ১১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ভারতীয় পেঁয়াজের পাল্লা পাইকারি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। চালের বাজার রয়েছে স্থিতিশীল।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মিনিকেট চাল পাইকারি ৫০ থেকে ৫১ টাকা, খুচরা ৫২ থেকে ৫৩ টাকা, বিআর (২৮) পাইকারি ৪৪ থেকে ৪৬ টাকা, খুচরা ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা, পারিজা পাইকারি ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা, খুচরা ৩৯ থেকে ৪০ টাকা, নাজিরশাইল পাইকারি মান ভেদে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, খুচরা ৫৩ থেকে ৫৫ টাকা। স্বর্ণা পাইকারি ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা, খুচরা ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা, গুটি পাইকারি ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা, খুচরা ৩৬ থেকে ৩৭ টাকা, মোটা চাল ৩১ থেকে ৩২ টাকা, খুচরা ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বরবটি, পটল, করলা, ঝিঙা, ঢেঁড়সের দাম কমেছে। প্রতি কেজি আলুর দাম পাইকারি ১১ থেকে ১২ টাকা, খুচরা ১৪ থেকে ১৫ টাকা। পটলের কেজি ৩৫-৪০ টাকা, ঝিঙার কেজি ছিল ২০-২৫ টাকা, ঢেঁড়সের কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গোল বেগুন ৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ২০-২৫ টাকা, উস্তা ২০-২৫ টাকা, ফুল কপি আকার ভেদে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, বাঁধা কপি ২৫ টাকা, শিম মানভেদে ২৫-৩৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ টাকা, বরবটি ৪০-৪৫ টাকা, ঝিঙ্গা ২০-২৫ টাকা, মাঝারি আকারের লাউ ১৫ থেকে ২০ টাকা, শশা ৩০ টাকা, খিরাই ২০ টাকা, টমেটো ২৫ টাকা, পেঁপে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১০০ টাকা। সুপার ৮৫ টাকা। এদিকে প্রতিকেজি পেঁয়াজ পাইকারি ৩০ টাকা, খুচরা ৩২ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫, চায়না বড় রসুন ৭০-৮০ টাকা, দেশি রসুন ৪০-৪৫ টাকা, দেশি আদা ১৯০ টাকা, শুকনা মরিচ পাইকারি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, খুচরা ১৮০ টাকা, হলুদ ১২০ টাকা, মশুর ডাল দেশি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। মোটা দানা মশুর ডাল ৮০ টাকা, খেসারি ডাল ৪৪ টাকা, মুগডাল ১৩০ টাকা, ছোলা ৫৫ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৪২ টাকা, মাষকলাই ১২০ টাকা, বুট ৬০ টাকা, প্রতি হালি ডিম ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
দারুচিনি ৩০০ টাকা, এলাচি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা, জিরা ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা, খোলা চিনি ৪৪ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।গরুর মাংস প্রতিকেজি ২৮০ টাকা, খাসির মাংস ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪০-১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।