May 6, 2026
ঢাকা: উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ।বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিবের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা যাতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন,উপজেলা নির্বাচনে সরকার-সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে নিষিক্রয় রেখে নির্বাচন কমিশন নির্লজ্জের মতো কাজ করেছে।বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করেন, পুলিশের মামলার পাশাপাশি সরকার-দলীয় সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। এ জন্য তাঁরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়, এমন কোনো কর্মসূচি দিচ্ছে না বিএনপি। জনগণকে সম্পৃক্ত করে, এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অনেকের বিরুদ্ধেই সাজানো ও বানোয়াট মামলা দেয়া হচ্ছে, যাতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারে। মনে হচ্ছে আওয়ামী বাকশালীদের ক্ষমতার শেষ বসন্ত উৎযাপিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণ বর্জন করলেও উপজেলা নির্বাচনগুলো অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ এবং সবার অংশগ্রহনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে ভেবে জনগণ নির্বাচনী মহোৎসবে মেতে ওঠার আশা বুকে ধারণ করেছিল। কিন্তু তা নিরাশায় পর্যবসিত হয়েছে।বিএনপির এ নেতা বলেন, ভোট ডাকাতি এবং মানুষের মৌলিক অধিকারহরণের মাধ্যমে বর্তমান অবৈধ সরকার সন্দেহাতীতভাবে দেশে একদলীয় শাসন বাকশালের দিকেই এগোচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও সরকারের অত্যন্ত আজ্ঞাবহ ক্রীতদাসের ভূমিকা পালন করেছে। এখানে সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের নিকট জনগণ, বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ এবং বিদ্বজ্জন কারো মতামত বা সমালোচনা বিবেচ্য বিষয় নয়।উপজেলা নির্বাচনের প্রতিটি ধাপেই আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে নিষ্ক্রিয় রেখে সরকার সমর্থিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের জেতাতে নির্লজ্জ ভূমিকা পালন করেছে অপদার্থ নির্বাচন কমিশন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ, জালভোট প্রদান, ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই এবং নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা থেকে শুরু করে সরকারি দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সহিংসতা সৃষ্টিতে সহযোগিতা দেয়াই ছিল আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের মূখ্য ও মূল দায়িত্ব।এর মাধ্যমে দলবাজ নির্বাচন কমিশন দেশকে অস্থিতিশীল, সংঘাত ও অশান্তি সৃষ্টিতে সহযোগিতা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে ধরে থাকাটাই যেন আওয়ামী লীগের বড় কথা। জনপ্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীকে দিয়ে নিষ্ঠুর ও পৈশাচিকভাবে বিরোধী দল দমানোর জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে।
দলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, উপজেলা নির্বাচনের শেষ ধাপে সোমবার রাতে টাঙ্গাইল জেলাধীন গোপালপুরে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়েছে যা বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের জুলুম র্নির্যাতনে বিএনপি নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গোপালপুরের বিভিন্ন গ্রাম এখন পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া শেষ ধাপের উপজেলা নির্বাচনের দিন থেকে সিলেট, লক্ষীপুর, রাজবাড়ী, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী সন্ত্রাসী এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর তাণ্ডবে এলাকাগুলোতে এক বিভীষিকাময় পরিবেশ বিরাজ করছে।
খবরের কাগজের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়া, সুবর্ণচর, বাগেরহাটের রামপাল, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও চৌহালী, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর, কক্সবাজারের উখিয়া, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জসহ সারাদেশে বিভিন্ন উপজেলায় বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর, দোকান-পাট লুটপাট, ভাঙচুর, দলীয় কার্যালয় ভাংচুর, নেতা-কর্মীদের মারধর, মামলা-হামলা অব্যাহত রয়েছে।
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভোট জালিয়াতি, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে সোমবার রাত থেকেই সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের ওপর নির্বিচারে হামলা এবং দলীয় কার্যালয় ও বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সাংবিধানিক বিচ্যুতি ও সংবিধান লঙ্ঘন করে আওয়ামী লীগ সরকার জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাইছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, তারা এখন পেশী শক্তি, অপপ্রচার, কুৎসা ও গুজবের ওপর নির্ভর করছে। এদের বিরুদ্ধে অবিরাম আন্দোলন-সংগ্রাম ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে বর্তমান গণধিকৃত সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
দল ও জোটের জোটের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় বর্তমান অবৈধ জুলুমবাজ সরকারকে উৎখাতের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।
আশা প্রকাশ করে তিন বলেন, দেশের মুক্তিকামী জনগণ ধৈর্য, সংযম, এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে গণআন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতালোভীদের চিরকাল ক্ষমতাভোগের দিবাস্বপ্নকে চুরমার করে দেবে।ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান, খায়রুল কবির খোকন, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আব্দুল লতিফ জনি, আসুদুল করিম শাহীন ও আব্দুস সালাম।