February 1, 2026
ঢাকা: বাংলাদেশের স্বার্থহানি ঘটবে- এমন কোনো শর্তে কারো কাছ থেকেই সহায়তা নিতে সরকার চায় না বলে বিশ্ব ব্যাংকের আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপ লা হুরে-এর সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠকে তিনি একথা জানান বলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল জানিয়েছেন। ঢাকা সফরে আসা ফিলিপ লা হুরে দুপুরে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত নিয়ে রেষারেষিতে বিশ্ব ব্যাংকের ১২০ কোটি ঋণ না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর বেশ কয়েকবারই ঋণদাতা সংস্থাগুলোর শর্তের বেড়াজাল নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন হাসিনা।বাংলাদেশের উন্নয়নের দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসাবে বিশ্ব ব্যাংকের ভূমিকা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অবশ্যই বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তাকে স্বাগত জানায়।
তবে সেই সঙ্গে উন্নয়নের ধারণার সঙ্গে আঞ্চলিক মিথষ্ক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি দেশের উন্নয়ন দর্শন, সে দেশের সংস্কৃতি, মানুষের মনসতত্ত্ব, ভৌগলিক এবং পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে।কিন্তু, বাংলাদেশ কারো কাছ থেকে দেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো শর্তযুক্ত সহায়তা চায় না।১৯৭২ সালে বাংলাদেশে অফিস স্থাপনের পর থেকে বিশ্ব ব্যাংকের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে ফিলিপ লা হুরে বলেন, উন্নয়নের পথে অগ্রযাত্রায় বিশ্ব ব্যাংক সব সময়ই বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে বাংলাদেশকে সাহায্য করার আগ্রহের কথাও প্রকাশ করেন বলে জানান শাকিল।২০১৩-১৪ অর্থ বছরে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশকে ২৮০ কোটি ডলার সহায়তা করার অঙ্গীকার পূরণ করবে বলে জানান সংস্থার আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট।২০১৪ সালের ফেব্র“য়ারির মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক ১৭৩ কোটি ডলারের সাহায্য সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশের সঙ্গে।
অর্থনৈতিক ভাবে নারীর ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসাও করেন বিশ্ব ব্যাংকের আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার একমাত্র লক্ষ্য দেশের জন্য ভালো কিছু করা। দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও নিরক্ষরতামুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যা ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন।শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।বিশ্ব মন্দা সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধি ৬ ভাগের ওপর রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আশাবাদী, ২০২১ সালে বাংলাদেশ এই প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিট অতিক্রম করবে।
গত সোমবার রেকর্ড পরিমাণ ৭ হাজার ৩৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথাও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। বিদ্যুতের সিস্টেম লস ৪০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে নেমে আসার কথাও বলেন তিনি।শাকিল বলেন, ৬ ভাগ প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার অভাবনীয় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে ফিলিপ লা হুরে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনি সফলভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এই অঞ্চলের উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে এক্ষেত্রে সহায়তার আগ্রহও প্রকাশ করেন বিশ্ব ব্যাংকের আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট।প্রধানমন্ত্রী তাকে জানান, বাংলাদেশ, ভুটান ও ভারত এবং বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের মধ্যে দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে।
এদিকে, মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে দেড় লাখ কৃষি শ্রমিক নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।মালয়েশিয়ার স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আহমেদ জাহিদ হামিদি আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মাহবুবুল হক শাকিল সাংবাদিকদের এ কথা জানান।আলোচনাকালে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানান, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশেরযে সকল শ্রমিক এখনো বৈধতা পায়নি তাদের বৈধতা দেয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি বাংলাদেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে আরো বেশীসংখ্যক শ্রমিক নেয়ার আহবান জানান।বৈঠকে বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়ার ব্যাপারে ফলপ্রসু আলোচনা হয়।প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের দক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানে মালয়েশিযা সরকারের সহায়তা চান। তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ এবং আশা প্রকাশ করেন এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরদার হবে।
মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের পুরনো বন্ধু হিসাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়াই প্রথম ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের সর্ম্পকের যে দৃঢ়ভিত্তি গড়ে উঠে তার উপর নির্ভর করেই পারস্পরিক সর্ম্পক আরো শক্তিশালী হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৭ থেকে ১৯ নবেন্বর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দু’দেশের মধ্যেকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার এই সফর ছিল খুবেই গুরুত্বপূর্ণ ।প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ান এয়ার লাইন্সের নিখোঁজ বিমানের যাত্রীদের পরিবোরের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এসময় মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নৌবাহিনীর জাহাজ ও টহল বিমান পাঠিয়ে মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমান অনুসন্ধানে সহায়তা করায় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান ।
তিনি বলেন, নিখোঁজ বিমানের যাত্রীদের সমবেদনা জানিয়ে তার দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো পত্রটি নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, অ্যাম্বসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব আব্দুস সোবহান সিকদার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মাহবুবুল হক শাকিল এসময় উপস্থিত ছিলেন।