পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

জিএসপি পুনর্বহাল: শ্রমিকদের ভয় দেখানো বন্ধ না হলে সুপারিশ নয়

Posted on March 25, 2014 | in ব্যবসা-অর্থনীতি | by

ঢাকা: তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক নেতা ও কর্মীদের ওপর মালিকদের হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো বন্ধে বিজেএমইএ সভাপতিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেন্দেজ। তা না হলে মার্কিন সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের জিএসপি পুনর্বহাল প্রক্রিয়ায় সমর্থন দেওয়াটা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের মালিক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠনের (বিজিএমইএ) সভাপতি আতিকুল ইসলামকে গতকাল সোমবার লেখা চিঠিতে এ কথা জানিয়েছেন রবার্ট মেনেন্দেজ। মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানের মুখপাত্র  মঙ্গলবার এ তথ্য জানান। মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির দ্বিতীয় শুনানিতে বাংলাদেশের শ্রমিকদের পরিস্থিতি নিয়ে লিখিত বক্তব্য দেওয়ায় চিঠির শুরুতে আতিকুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান রবার্ট মেনেন্দেজ। বাংলাদেশের শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় মার্কিন সিনেটের প্রথম শুনানিতে তিনি জিএসপি স্থগিত করার প্রস্তাব দেন। মার্কিন সিনেট কমিটির এ প্রস্তাবের কয়েক দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ বাজার-সুবিধা (জিএসপি) বাতিল হয়। এখন জিএসপি পুনর্বহালে কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়গুলো বিজেএমইএ সভাপতিকে চিঠিতে মনে করিয়ে দেন মার্কিন সিনেটর।

মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘কর্মপরিকল্পনায় ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও কর্মীদের ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষার কথা কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে। সিনেটে দেওয়া বিবৃতিতে আপনি উল্লেখ করেছেন, শ্রমিকদের স্বার্থের বিষয়টি দেখার জন্য বিজেএমইএ একটি নতুন বিভাগ চালু করেছে, শ্রম পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে এবং শ্রম আইনের ব্যাপারে মালিক ও শ্রমিকদের সচেতন করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রাথমিক এসব পদক্ষেপকে আমি স্বাগত জানাই। তবে আরও অনেক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’ রবার্ট মেনেন্দেজ চিঠিতে লিখেছেন, বিজেএমইএর সদস্যদের কারখানাতে ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠক ও নেতাদের এখনো ভয়ভীতি ও বরখাস্তের শিকার হচ্ছেন। গত মাসে একটি বড় কারখানায় শ্রমিকদের সংগঠিত করতে গিয়ে দুজন নারীসহ চার শ্রমিক সংগঠককে দুই ডজনের বেশি লোক হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এসব রোধে বিজেএমইএর কঠোর ভূমিকা পালন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মেনেন্দেজ চিঠির শেষে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক নেতা ও কর্মীদের ওপর মালিক ও ব্যবস্থাপকদের নির্যাতন, ভয়ভীতি ও সহিংসতা বন্ধ না হলে সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও অর্থবিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবে আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। তাই এ ধরনের অন্যায়, অবিচার বন্ধ ও শ্রমিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় নেতৃত্ব দিতে আপনার প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud