পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

জামায়াত নিষিদ্ধের আরজি তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে

Posted on March 25, 2014 | in ইসলাম | by

jamat_danmonঢাকা: দল হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে একাত্তরের মামনবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবারই তা জমা দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর আলোকে তৈরি এ তদন্ত প্রতিবেদনে জামায়াত ও তার সকল অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ ও অবলুপ্তির আরজি জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এক ব্রিফিংয়ে জানান, দলবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র বিরোধিতাকারী জামায়াতের বিরুদ্ধে ৩৭৩ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামায়াত, তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ, শান্তি কমিটি, রাজাকার বাহিনী, আলবদর বাহিনী ও আলশামস বাহিনী এবং জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের সকল অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে এ তদন্ত প্রতিবেদনে। গত বছরের ১৮ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয় জামায়াতের বিরুদ্ধে। তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিউর রহমান দীর্ঘ ৭ মাসেরও বেশি সময় ধরে এ তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। তদন্ত সংস্থার ধানমণ্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্ত সংস্থা জানান, একাত্তরে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জেনেভা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র এবং এসব অপরাধ ঠেকাতে ব্যর্থতাসহ সাত ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামায়াত, তাদের সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা দিতে গঠিত শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী এবং জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ৪ এর ১ ও ৪ এর ২ ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছে। জামায়াতসহ এসব সংগঠনের নীতিনির্ধারক, সংগঠক, পরিচালক এবং কেন্দ্র থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে এসব অপরাধের জন্য দায়ী করা হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জামায়াত ও তার সকল অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ ও অবলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানান তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল হান্নান খান। ভবিষ্যতেও যেন কেউ এ ধরনের রাজনীতির আলোকে রাজনৈতিক দল গঠন বা রাজনীতি করতে না পারেন সে রায়ও চাওয়া হয়েছে।

তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সদস্য সানাউল হক, জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ প্রমুখ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মূল তদন্ত প্রতিবেদন ৩৭৩ পৃষ্ঠার। এর সঙ্গে ৭ খণ্ডে ২ হাজার ২ হাজার ৩০৩ পৃষ্ঠার জব্দ তালিকা ও দালিলিক প্রমাণপত্র, ১০ খণ্ডে ৩ হাজার ৭৬১ পৃষ্ঠার অন্যান্য ডকুমেন্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিপূর্বেকার রায় ও জামায়াতের বিরুদ্ধে পর্যবেক্ষণ এবং ২ শতাধিক বইপত্র, ম্যাগাজিন ও গবেষণাপত্র দাখিল করা হবে। জামায়াতের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী করা হচ্ছে ৭০ জনকে। তদন্ত সংস্থা জানান, আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যক্তির পরে সংগঠনের বিচারে তদন্ত এই প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন জমা হতে যাচ্ছে। এটা জামায়াতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন। জামায়াত সৃষ্টির পর থেকে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী, স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন এবং স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। এককথায়, জামায়াতের অতীত-বর্তমানের সকল বিষয়ই উঠে এসেছে তদন্তে।  বিশেষ করে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে জামায়াতের অপরাধ প্রমাণে মূলত চারটি বিষয় নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সেগুলো হল, জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশল, ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, শান্তির বিরুদ্ধে কৃত অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যা।  তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সাংগঠনিক গঠনকে সামনে রেখে তুলে ধরা হয়েছে জামায়াতের অপরাধ। এর মধ্যে রয়েছে জামায়াতের হাইকমান্ড (গোলাম আযম, মজলিসে সুরা), জামায়াতের ছাত্র শাখা (ইসলামী ছাত্রসংঘ, শিবির এবং ইসলামী ছাত্রীসংস্থা), একাত্তরে জামায়াতের লিয়াঁজো কমিটি (শান্তি কমিটি), অপারেশন কমিটি (রাজাকার, আলবদর, আলশামস), প্রপাগাণ্ডা (দৈনিক সংগ্রাম)।

এছাড়াও তদন্ত করা হয়েছে, জামায়াতের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফালাহ আম ট্রাস্ট, ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শতাব্দী প্রেস, ইসলামিক ইকনোমিকস্ ব্যুরো, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, বাংলা সাহিত্য পরিষদ, বিপরীত উচ্চারণ, সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী, ফুলকুঁড়ি, ইসলামিক ইন্সটিটিউট, জামায়াতের প্রকাশনা সংস্থা আধুনিক প্রকাশনী প্রেস, ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটি, দারুল ইসলাম ট্রাস্ট, সোনার বাংলা পত্রিকা, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, রাবেতা-ই ইসলাম, ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদসহ আরো নানা সহযোগী প্রতিষ্ঠান-সংগঠনের বিরুদ্ধেও।

তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন তদন্ত সংস্থা। দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণের পাশাপাশি মৌখিক সাক্ষ্য-প্রমাণও প্রস্তুত করেছেন তারা।  তদন্ত সংস্থা জানান, জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং দলটির ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং নিবিড়ভাবে তদন্তকাজ করা হয়েছে। যারা স্বাধীনতা বা স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকা, কৌশল এবং দলটির সার্বিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ভালো জানেন তাদেরই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।

১৯৫১ সালের আহম্মদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঙ্গা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী জামায়াতের রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকাণ্ডের দালিলিক তথ্য-উপাত্ত রয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদুদীর দর্শন ও আদর্শকেও।  অন্যান্য অনেক বইয়ের পাশাপাশি ‘জামায়াতের ইতিহাস’, ‘একটি জীবন একটি ইতিহাস’, ‘মাওলানা মওদুদী’, ‘মওদুদী, জামায়াত ফেৎনা স্বরূপ’, ‘মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী: আলবদর থেকে মন্ত্রী’ বইগুলো থেকে তথ্য সন্নিবেশিত করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। এছাড়া পাকিস্তান জামায়াত প্রকাশিত সৈয়দ ভেলি রেজা নসরের লেখা বইও রয়েছে তথ্য সংগ্রহের তালিকায়।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অপরাধ প্রমাণের জন্য জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামই যথেষ্ট। তারপরও তথ্য-প্রমাণ আরো সমৃদ্ধ, গ্রহণযোগ্য এবং যৌক্তিক করে তুলতে মুক্তিযুদ্ধকালীন দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক আজাদ, দৈনিক পয়গাম ও অবজারভারে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ, প্রতিবেদন থেকে আমরা তথ্য সংগ্রহ করেছি। এছাড়াও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পুলিশের গোয়েন্দা প্রতিবেদন থেকেও জামায়াতের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা ‘ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ অ্যাবস্ট্রাক্ট অব ইন্টিলিজেন্স-১৯৭১’ শিরোনামে দালিলিক প্রমাণের সঙ্গে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘ফোর্টনাইটলি রিপোর্ট অন পলিটিক্যাল সিচ্যুয়েশন-১৯৭১’ শিরোনামের আরেকটি প্রতিবেদন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুট ও অগ্নিকাণ্ডের মতো অপরাধের জন্য জামায়াত কখনোই ভুল স্বীকার করেনি। বরং স্বাধীনতার পর ১৯৮০ সালের ৭ ডিসেম্বর জামায়াতের প্রথম এবং ১৯৮১ সালের ২৯ মার্চ দ্বিতীয় সংবাদ সম্মেলনে দলটির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমির আব্বাস আলী খান একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে সঠিক বলেই উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয়, সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘একাত্তরে বাংলাদেশের কনসেপ্ট ঠিক ছিল না’। সে সময় পাকিস্তানের নাগরিক (পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতের আমির) গোলাম আযম এ বক্তব্যে সুর মিলিয়ে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ মাটির নাম, আদর্শের নাম নয়’।

জামায়াতের ভ্রান্ত নীতি-দর্শন মামলায় তুলে ধরতে তদন্ত সংস্থা সংগ্রহ করেছেন ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আব্দুল আওয়ালের লেখা অনেকগুলো বই। এই লেখকের ‘জামায়াতের আসল চেহারা’ গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী ১৯৩৪ সালে ‘তরজমানুল কোরআন’র ডিসেম্বর সংখ্যায় লিখেছেন, ‘আজ আপনাদের সামনে জার্মানি ও ইতালির দৃষ্টান্ত মজুদ রয়েছে। হিটলার ও মুসোলিনি যে শক্তি অর্জন করেছেন, সমগ্র বিশ্বে তা স্বীকৃত। নাজি ও ফ্যাসি দল কখনো এতো শক্তি অর্জন করতে পারতো না, যদি তারা নিজেদের নীতির প্রতি অটল বিশ্বাস না রাখতো’। ১৯৪১ সালে জামায়াত গঠনের পর এক ভাষণে মওদুদী বলেছিলেন, ‘আমরা সত্যিকার এবং আসল ইসলাম নিয়ে যাত্রা করছি। পূর্ণ ইসলামই হলো আমাদের আন্দোলন’। এ বিষয়গুলোও উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।  তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী ৭৫ জন সদস্য নিয়ে ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে সামাজিক-রাজনৈতিক ইসলামী আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, হিন্দ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর মওদুদী ভারত থেকে পাকিস্তান চলে যান। পাকিস্তান সৃষ্টির পর জামায়াতে ইসলামী ভারত ও পাকিস্তান দু’টি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতের শাখা থেকে সৃষ্টি হয়।  তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে জামায়াত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করে। কেবল বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত থাকেনি দলটি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে জামায়াত দলের নেতা-কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী গড়ে তোলে।

এসব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে কাজ করে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে এসব বাহিনীর নেতাকর্মী, সদস্যরা গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট চালান। সাম্প্রদায়িক নিপীড়ণের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের ধর্মান্তরিত এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাত্র দু’দিন আগে রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে হত্যা করে বুদ্ধিজীবীদের। মানবতাবিরোধী এসব অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের মামলার রায়সহ ছয়টি রায়ের মধ্যে পাঁচটি রায়ের পর্যবেক্ষণে জামায়াতকে অপরাধী সংগঠন (ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন) বলা হয়েছে।  রায় হওয়া এসব মামলার পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, পাকিস্তান রক্ষার নামে সশস্ত্র সহযোগী বাহিনী গঠন করে নিরস্ত্র বাঙালি, হিন্দু সম্প্রদায়, বুদ্ধিজীবী, আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের নিশ্চিহ্ন করতে জামায়াতে ইসলামী বিশেষ ভূমিকা রাখে। ওই সময় তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগী আধা সামরিক বাহিনী (প্যারামিলিশিয়া) গঠন করে। এসব বাহিনীর মধ্যে রয়েছে, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটি। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে জামায়াতের অনেক নেতা নিজের নামে বাহিনী গড়ে তোলেন।

দলটির সাবেক সদস্য (রোকন) আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু রাজাকারের রায়েও জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে। বিশেষ করে সাবেক আমির গোলাম আযম, বর্তমান সেক্রটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের মামলার রায়ে জামায়াতকে ‘অপরাধী সংগঠন’ বলা হয়েছে। গত বছরের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল-২ বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে জামায়াত ও ছাত্রসংঘ, আলবদর বাহিনী নৃশংস অপরাধ করে।  দলটির আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে পরিচিত, সাবেক আমির গোলাম আযমের মামলার রায় হয় গত বছরের ১৫ জুলাই। এ রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল-১ বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে গোলাম আযমের নেতৃত্বে জামায়াত অপরাধী সংগঠনের ভূমিকা পালন করেছে। রাষ্ট্রের শীর্ষ কোনো পদে স্বাধীনতাবিরোধীদের থাকা উচিত নয় বলেও পর্যবেক্ষণ দেন এ ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ১৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া মুজাহিদের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়ে আলবদর বাহিনী গঠন করা হয়। এছাড়া জামায়াতের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় রাজাকার বাহিনী। এসব বাহিনীর মাধ্যমে জামায়াত ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও দেশান্তরের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে। কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়েও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে শাহবাগে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চ। ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনে বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন আন্দোলনকারী জনতা। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদে সংবিধান সংশোধন করে ট্রাইবুন্যাল আইনে সংশোধনী আনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত মহাজোট সরকার। এ সময় ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠন বা দলের বিচার করার বিধানটি যুক্ত করা হয়। ফলে দল বা সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারে দূর হয় আইনি বাধা।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud