February 21, 2026
স্টাফ রিপোর্টার: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক দুই দুর্ধর্ষ জঙ্গি মিজান ওরফে বোমারু মিজান এবং সোহেলকে গ্রেফতারে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করছে। আগামী দুই/একদিনের মধ্যে তাদের গ্রেফতারে সফলতা আসবে বলে মনে করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। অভিযানের সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ধর্ষ দুই জঙ্গি দেশে থাকার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কোনো এক জেলায় তারা লুকিয়ে থাকতে পারেন। তবে র্যাব, পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশ যে অভিযান পরিচালনা করছে, তাতে করে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আগামী দুই/একদিনের মধ্যে তারা পলাতক দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করতে সফল হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। পলাতক দুই জঙ্গি ছাড়াও যারা পালাতে সহযোগিতা করেছেন এবং সেই সঙ্গে তালিকাভুক্তদেরও গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির দুর্ধর্ষ জঙ্গি সালাহ উদ্দীন ওরফে সালেহীন ওরফে সোহেল, মিজান ওরফে বোমা মিজান, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত রাকিব ওরফে হাফিজ মাহমুদ ওরফে রাসেলকে পুলিশের ওপর হামলা করে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা।
এ ঘটনায় এক পুলিশ কনেস্টবল নিহত হয়। অপরদিকে, ঘটনার পরের দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় জঙ্গি রাকিব। টার্গেট ২০:
পলাতক দুই জঙ্গি ছাড়াও আরো প্রায় ২০ জঙ্গিকে আটক করতে অভিযান হচ্ছে। এদের মধ্যে জঙ্গি ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ১০ জন রয়েছেন। বাকি ১০ জন যারা বিভিন্ন সময় জঙ্গি সংগঠন সংগঠিত করার কাজে যুক্ত ছিলেন। ছিনতাইয়ে জড়িতরা হলেন- জাকারিয়া, সবুজ, সাজেদুর, মানিক, মাজিদ, ফারুক, শফিক ও মিলন। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে যারা সংগঠিত করার কাজে জড়িত, তাদের মধ্যে রয়েছেন- কফিল উদ্দিন ওরফে রব মুন্সি, আজিবুল ইসলাম ওরফে আজিজুল, শাহান শাহ, হামিদুর রহমান, বজলুর রহমান, বাবর, শরিফ, খাইরুল ইসলাম, নাদিম, ময়েজ উদ্দিন, মহব্বত ওরফে তিতুমীর ওরফে নাহিদ এবং ওয়ালিউল্লাহ ওরফে হামিদ। ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুল ইসলাম (ক্রাইম) বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগামী দুই/একদিনের মধ্যে সফলতা আসবে বলে আমরা আশাবাদী।
পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পলাতক দুই জঙ্গি সালেহীন ওরফে সোহেল ওরফে সালাউদ্দীন ও মিজান ওরফে বোমা মিজান দেশের বাইরে যেতে পারেনি। ছিনতাই হওয়া তিন জঙ্গির মধ্যে রাকিব দাড়ি কেটে অন্য বেশে পালানোর চেষ্টা করলেও পরে তিনি ধরা পড়েন। কিন্তু, অপর দু’জন এখনো আত্মগোপন করে আছেন। কর্মকর্তারা বলেন, পলাতক দু’জন উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় অবস্থান করতে পারেন এমন ধারণা করা হচ্ছে। জেলাগুলো হলো বগুড়া, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁ। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় জঙ্গিদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। এই এলাকাতে হয়ত আত্মগোপন করে থাকতে পারেন। র্যাব, ডিবি পুলিশ এমনকি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এ নিয়ে কাজ করছেন। র্যাব সদর দফতর থেকে এ ব্যাপারে র্যাবের সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২, রাজশাহী র্যাব-৫ এবং রংপুর র্যাব-১৩ কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সদর দফতর থেকেও কয়েকটি দল বিভক্ত হয়ে সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে হানা দিচ্ছে। তবে এখনো তাদের সঠিক অবস্থানের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পলাতক দুই জঙ্গিকে গ্রেফতারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইউনিটও কাজ করছে। ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুল ইসলাম (ক্রাইম) বলেন, অভিযানে আমাদের অগ্রগতি হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর টাঙ্গাইলের দিকে এসেছে। সেহেতু, আমরা মনে করছি, তারা যদি টাঙ্গাইল থেকে বেরিয়ে যায়, তবে উত্তরাঞ্চলের দিকেই যাবে। আর এ কারণে এদিকটার বিবেচনায় আমরা ওই এলাকাতে অভিযান জোরদার করেছি। তিনি বলেন, সম্ভাব্য সব জায়গাতেই হানা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কিছু চিহ্নিত জঙ্গি ধরতেও আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। তিনি আশা করেন দুই/একদিনের মধ্যে সফলতা আসবে। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, পলাতক জেএমবি জঙ্গিদের গ্রেফতারে কাজ করে যাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। দেশের বিভিন্ন এলাকার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এখনো তাদের আটক করা যায়নি। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, পলাতক জঙ্গিদের নিয়ে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দিক-নির্দেশনায় তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সঠিক অবস্থান জানা যায়নি। তাদের আটকের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।