February 19, 2026
ঢাকা : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি’র জনসমর্থন দেখে সরকার ভিত হয়ে পরেছে। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে ১৯ দলের প্রার্থীদের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিচ্ছে তারা।
বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বাসায় বাসায় তল্লাশি, প্রাণনাশের হুমকি, পরিবারের লোকজনের সঙ্গে অশালীন ব্যবহারসহ সমস্ত ঘটনায় মনে হয় বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের প্রাক্কালে এগুলো সরকারের আধিপত্য বিস্তারের আগাম উদ্যোগ।
তিনি বলেন, প্রথম দফার চেয়ে এবারে সরকারের বিরোধী দলের ওপর আক্রমণের মাত্রা ভয়াবহ রকমের বেশি। ১৯ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারকর্মীদের ওপর সরকারি নানাবিধ জুলুম-নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে বর্তমান অবৈধ সরকারের এটি একটি সাইক্লোজিক্যাল ওয়ারফেয়ার। জনমনে সন্ত্রাসের ভীতি সৃষ্টি করা। শান্তি প্রিয় জনগণের ভোট প্রদানকে বানচাল করার জন্য অবৈধ সরকারের অপকৌশল মাত্র।
তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, রাজশাহী, ভেড়ামারাসহ দেশব্যাপী বেশকিছু উপজেলায় সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের জিতিয়ে আনার জন্য তাদের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত কর্তব্যনিষ্ঠার সঙ্গে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে।
রিজভী বলেন, ফেনী, বরিশাল, পিরোজপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলাধীন উপজেলায় ১৯ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারণায় লিপ্ত নেতাকর্মীদের শাসক দলের অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পথে-ঘাটে বাজারে যেখানেই তারা প্রচারে যাচ্ছেন সেখানেই আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে মারধর করছে।
তিনি বলেন, সরকারি সন্ত্রাসীদের কর্তৃক পোস্টার, ব্যানার ছেঁড়া এবং লাগাতেও বাধা দেয়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির দফতরের দায়িত্বে নিয়োজিত এ নেতা বলেন, কিন্তু কেন এ ভয়াবহ মৃত্যুযজ্ঞ? এর একটাই উদ্দেশ্য ক্ষমতা যেন হাতছাড়া না হয়। তাই দেশ যদি জনবিরান উষর ধুষর মরুভূমিতে পরিণত করেও ক্ষমতা দখলে রাখতে হবে। অমল-ধবল ক্ষমতা চিরকালীন করতেই বিরোধীদের নির্মূল অভিযান এই উপজেলা নির্বাচন চলাকালীন সময়েও অব্যাহত রাখা হয়েছে।
রিজভী বলেন, যখনই যেখানে গণইচ্ছার প্রতিফলন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে তখনই তা নির্মম দলন-পীড়ণে গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রথম দফার নির্বাচনে পরিকল্পিত তান্ডব করে ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়ে বেশ কিছু সংখ্যক উপজেলা চেয়ারম্যান পদ হাইজ্যাক করার পরও বিরোধী দলের সাফল্যে ক্ষমতাসীনরা হতভম্ব হয়ে পড়েছে। তাই দ্বিতীয় দফায় তাদের আগ্রাসী ক্ষুধার এখন কিছু আলামত দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম, খুন এবং গায়েব করে দেয়ার মধ্য দিয়েই সেই প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের অমানবিক বহিঃপ্রকাশ জনগণ দেখছে। অন্ধহিংসার বশবর্তী হয়ে শাসকদল সরকারি শাসনযন্ত্রকে একটি দুর্নীতির চক্রে ও উৎপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
রিজভী বলেন, এই অবৈধ সরকার দেশের স্বাধীনতাকে ফিকে করে দিয়েছে, সার্বভৌমত্বকে অনেকখানি হাতছাড়া করেছে, দেশের গণতন্ত্রকে লাঠিপেটা করে মুখ থুবড়ে ফেলেছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সারবত্তা ও মর্যাদাকে বিনষ্ট করে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে নিজেদের একচ্ছত্রবাদী একদলীয় শাসনব্যবস্থা পূণঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই এই উপজেলা নির্বাচনে তারা ভোটকেন্দ্রগুলো জনশূন্য করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে শুধুমাত্র নিজেদের প্রার্থীদের নির্লজ্জের মতো বিজয়ী করার অশুভ অভিপ্রায়ে বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন সরকারের আজ্ঞাবাহী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীনদের সশস্ত্র ক্যাডাররা দেশব্যাপী সন্ত্রাসী দাপট চালিয়ে যাচ্ছে। তাই দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনে প্রহসনের আর একটি কেরামতি দেখানোর আয়োজন চলছে কী না-এ নিয়ে জনমণে গভীর সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনের সরকারি তান্ডবে নির্বাচন কমিশনের উদাসীন দায়িত্বহীনতায় বোঝা যায় সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ কতোটুকু নিশ্চিত হবে। নির্বাহী বিভাগের ইউনিফর্ম পরা কর্তাভজা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সর্বগ্রাহ্য নির্বাচন নিশ্চিত হবে কী না তা নিয়ে জনগণের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। যাদের কাছে দেশ ও দেশের মানুষ এবং মানুষের স্বাধীনতার চেয়ে চাকরিটাই বড় বিষয় তাদের কাছ থেকে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে একটি আশঙ্কা সর্বমহলে বিদ্যমান।
রিজভী বলেন, একের পর এক বিভিন্ন পর্যায়ের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করে গণতন্ত্রের প্রাণশক্তিকে সঞ্জিবিত রাখার মহান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। অথচ ৫ জানুয়ারি ইতিহাসের জঘন্যতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে এই নির্বাচন কমিশন সংবিধান বর্নিত স্বাধীন স্বত্ত্বাকে কালিমালিপ্ত করেছে।
রিজভী আহমেদ ১৯ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সতর্কতা, যোগ্যতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েই সমস্ত প্রতিকূল পরিবেশের মোকাবেলা করবেন। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনকারী, ভোটকেন্দ্র দখলকারী, জালভোট প্রদানকারী এবং ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদর্শকারীদের শুধু নয়, নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবৈধ ও অন্যায় নির্দেশ মান্যকারী সরকারি কর্মকর্তাদের নাম-ঠিকানা আপনাদের খাতায় ব্ল্যাক লিস্ট করে রাখবেন।