February 17, 2026
দেশ থেকে জঙ্গি দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক চলাকালে অনির্ধারিত অলোচনায় তিনি এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, শীর্ষ যে দুই জঙ্গি পালিয়েছে তাদেরকেও খুঁজে বের করা হবে। বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের স্থান হবে না।
বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যরা জানান, পুলিশি নিরাপত্তায় ক্রুটি ছিল। তিনজন জঙ্গী বহনের জন্য পুলিশ ছিল মাত্র চারজন। আর পুলিশের মোবাইল ফোন ছিল জঙ্গিদের হাতে। ওই ফোন দিয়েই তারা ছিনতাইয়ে অংশ নেওয়া জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী না থাকায় এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়নি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
তারা আরও জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনে অনেক জায়গায় নিজেদের কারণেই পরাজয় হয়েছে। বিশেষ করে মন্ত্রী-এমপিদের খবরদারি ও দলীয় কোন্দলের কারণেই হারতে হয়েছে। জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের জন্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে চলমান উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কী কারণে উপজেলা পর্যায়ের প্রার্থীরা তা মানছেন না সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতেও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে কয়েকজন মন্ত্রী টাঙ্গাইল উপ-নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে এই সময় কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই এবং সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘরের ছেলে ঘরে এসেছে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগেই ছিলেন। তিনি আমাদের সমালোচনা করেছেন। নির্বাচন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই নির্বাচনে আসছেন।
এছাড়াও মন্ত্রিসভার বৈঠকে আগামী অর্থ-বছরের বাজেট নিয়ে কয়েকজন মন্ত্রী আলোচনায় অংশ নেন। কেউ কেউ বাজেট কাটছাট না করা নিয়ে এবং নিজের মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছেন।