February 17, 2026
ঢাকা: বিশেষ আদালতের কাঠগড়া থেকে পালানোর ১ দিন পেরিয়ে গেলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলার ৪ আসামির কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে হতাশা তৈরি হয়েছে জুবায়েরের পরিবার ও তার সহপাঠীদের মধ্যে। রোববার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল- ৪ এ হাজির করা হয় জুবায়ের হত্যা মামলার চার আসামি খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রইছ, মাহবুব আকরাম ও ইসতিয়াক মেহবুব অরূপকে। জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় কাঠগড়া থেকে পালিয়ে যায় ওই চার জন। একই দিনে ত্রিশালে কমান্ডো স্টাইলে জঙ্গি সংগঠন জেএমবি‘র তিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিনতাই ও জুবায়ের হত্যা মামলার চার আসামি আদালতের কাঠগড়া থেকে পালানোর ঘটনা ছিল `টক অব দ্যা কান্ট্রি`। জেএমবির ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কিছুটা কৃতিত্ব দেখাতে পারলেও জুবায়ের হত্যার আসামিদের কাউকে ধরতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আইশা সিদ্দিকা বাংলানিউজকে জানান, পলাতকদের ধরতে আইন শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাবির ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ও জুবায়েরের সহপাঠী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, এ রকম একটি চাঞ্চল্যকর মামলা আসামিরা আদালতের কাঠগড়া থেকে যেভাবে পালালো তা কোনাভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের পালানোর সঙ্গে পুলিশ ও কোর্টের লোকজন জড়িত।একটি হত্যা মামলার আসামিরা কোর্টের হাজিরার সময় সেখানে কোন পুলিশ সদস্য থাকবে না এটা কী ভাবে সম্ভব। এতেই বোঝা যায় ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে ট্রাইব্যুনাল-৪ আদালতে জুবায়ের হত্যার মামলার জামিন শুনানি চলছিলো। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে দেয়। শুনানি চলাকালে পুরো সময়েই আদালতে কোন পুলিশ উপস্থিত ছিল না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। জামিন বাতিল হওয়া পর আসামিরা কাঠগড়ার নিচে একটি ফাঁকা জায়গা দিয়ে বের হয়ে যায়। ঘটনার প্রায় ২৫ মিনিট পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের সংশ্লিষ্টরা আসামি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
আসামিদের পলায়ন প্রসঙ্গে ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এস এম রফিকুল ইসলাম রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, জামিন বাতিলের আদেশ হওয়ার পরপরই আসামিদের কাঠগড়ার নিচে থাকা এটি ফাঁকা জায়গা দিয়ে তারা বেরিয়ে চলে যায়। রোববার এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল।এই দিন গুলশান থানার তৎকালীন এসআই হুমায়ুন কবির ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। জবানবন্দি প্রদানের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করেন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে।সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২৭শে ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করে।এ মামলায় গত ৮ই সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়।
২০১২ সালের ৮ই জানুয়ারি বিকেলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদকে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা।পরদিন ভোরে রাজধানী একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জুবায়ের। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার হামিদুর রহমান বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে মাহবুব আকরাম ও নাজমুস সাকিব ওরফে তপু ২০১২ সালের ১৫ই জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গত বছরের ৮ই এপ্রিল ঘটনাটি তদন্ত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মীর শাহীন শাহ পারভেজ ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে এ বিষয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।