February 16, 2026
বাংলাদেশে থ্রিজি ও ফোরজি পরিসেবার অনুমোদন নিয়ে বৈষম্য করা হচ্ছে। ওয়াইম্যাক্স অপারেটররা অল্প টাকা বিনিয়োগ করে যে সুযোগ পাচ্ছে মোবাইল অপারেটররা তার চেয়ে অনেক বেশি বিনিয়োগ করা শর্তেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণ কমিশন এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়ে লেবেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি না করলে বাংলাদেশ থেকে থ্রিজি হারিয়ে যাবে! বৃহস্পতিবার রূপসী বাংলা হোটেলে রবি’র ২০১৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন রবি’র চিফ ফাইনান্সিয়াল অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। এ সময় তিনি আরও বলেন, পুন:বিনিয়োগ অব্যাহত থাকায় ২০০৬ সাল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোন ডিভিডেন্ড দেয়া যায়নি। ২০১৩ সালে রবি ১১ হাজার ১শ ৮৪ মিলিয়ন টাকা সরকারকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর দিয়েছে যা মোট রাজস্বের শতকরা ৪৩ ভাগ। বর্তমানে সিম রিপ্লেসমেন্ট ট্যাক্স নিয়ে এনবিআরের যে দাবী তা টেলিকম খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। খুব দ্রুতই এই বিষয়ের একটি গ্রহনযোগ্য সমাধান হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন মাহতাব।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজার ব্যবস্থা, রাজনৈতিক অস্থিরতা মধ্যে গত বছর মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড ৪৩ লাখ নতুন গ্রাহক যোগ করে মার্কেট শেয়ার বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। গ্রাহক মার্কেট শেয়ার এবং নতুন গ্রাহক যোগের ক্ষেত্রে পুরো বছর জুড়েই ধারাবাহিক অগ্রগতি ছিল। ২০১৩ সালের শেষের হিসেব অনুযায়ী গত বছর ৪৩ লাখ নতুন গ্রাহক যোগের মাধ্যমে রবি’র সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা এখন ২ কোটি ৫৪ লাখ। এটি দেশের মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর শতকরা ২৩.৩ ভাগ।
এতে জানানো হয়, গত প্রন্তিকের প্রতিকূল পরিবেশেন পরেও ২০১৩ সালে রবি’র রাজস্ব বৃদ্ধি হয়েছে শতকরা ১৬ ভাগ। দক্ষ ও পেশাদারী পরিচলনার কারণে রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি, অপারেটিং প্রফিট, ইবিআইটিডিএ (আর্নিং বিফোর ইনকাম ট্যাক্স ডেপ্রিসিয়েশন অ্যান্ড অ্যামোরটাইজেশন) ও পিএটিতেও (প্রফিট আফটার ট্যাক্স) প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রবির চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদ, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চতুর্থ প্রান্তিক, ২০১৩-এর ফলাফল
দেশের অস্থির পরিবেশের কারণে ২০১৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকে রাজস্ব কমেছে শতকরা ৬ ভাগ। তৃতীয় প্রান্তিকের মোট রাজস্বের পরিমান ছিল ১১.৭ বিলিয়ন টাকা এবং চতুর্থ প্রান্তিকে এর পরিমান ১১ বিলিয়ন টাকা। মূলত; রাজস্ব কমে যাওয়া, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং থ্রিজি সংক্রান্ত খরচের কারণে চতুর্থ প্রান্তিকে ইবিআইটিডিএ কমে হয়েছে ২.৯ বিলিয়ন টাকা যা তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ৪.৭ বিলিয়ন টাকা। তৃতীয় প্রান্তিকে পিএটি ১.৪ বিলিয়ন টাকা হলেও চতুর্থ প্রান্তিকে তা শূণ্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৩ সালে এটাই প্রথম নেগেটিভ পিএটি।
২০১৩ সালের পারফরমেন্স:
বাজারের প্রতিকূলতাকে জয় করতে সক্ষম হয়েছে রবি, যার প্রমান ২০১৩ সালে নতুন গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি, গ্রাহক হিসেবে মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধি, রাজস্ব, ইবিআইটিডিএ ও পিএটি প্রবৃদ্ধি। ২০১৩ সালে মোট রাজস্বের পরিমান দাঁড়িয়েছে ৪৫.২ বিলিয়ন টাকা যা ২০১২ সালে ছিল ৩৮.৯ বিলিয়ন টাকা। বছর শেষে ইবিআইটিডিএ দাড়িয়েছে ১৬ বিলিয়ন টাকা যা ২০১২ সালে ছিল ১২.৩ বিলিয়ন টাকা, অর্থাৎ এক্ষেত্রেও প্রবৃদ্ধি শতকরা ৩০ ভাগ। অপরদিকে কোম্পানি কস্ট এক্সিলেন্সের দিকে নজর রাখায় ২০১২ সালে যেখানে পিএটি ছিল ০.৯১ বিলিয়ন টাকা সেখানে ২০১৩ সালে তা হয়েছে ৩.৬৫ বিলিয়ন টাকা।
মোবাইল নেটওয়ার্ক আবকাঠামোতে বিনিয়োগ
তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও এ সম্পর্কিত মূলধনী ব্যয় বেড়েছে ১০০ ভাগেরও বেশি। থ্রিজির সংক্রান্ত ব্যয়, ভয়েস সার্ভিসের বর্ধিত চাহিদা মেটানো এবং ডাটা সংযোগের মান উন্নয়নের কারনেই এই মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে । ২০১৩ সালে মোট মূলধনী ব্যয় ছিল ১২.৮ বিলিয়ন টাকা যার মধ্যে চতুর্থ প্রান্তিকে মোট বিনিয়োগের পরিমান ছিল ৬.৩ বিলিয়ন টাকা (৮১.৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার)। ২০১২ সালের চেয়ে বিনিয়োগ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৫৭.৩ ভাগ। টেলিকম অবকাঠামোতে রবি’র এই বাড়তি বিনিয়োগ ভয়েস এবং ডাটা সংযোগ সহ সকল সার্ভিসে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের ইচ্ছারই বহি:প্রকাশ।
প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়া ভিত্তিক আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ এবং জাপানের এনটিটি ডোকোমোর যৌথ বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড। রাজস্ব মার্কেট শেয়ার অনুযায়ী রবি এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী রবি’র মোট গ্রাহকের সংখ্যা ২৫ মিলিয়ন বা ২.৫ কোটি। মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগ এখন রবি’র নেটওয়ার্কের আওতায়। বর্তমানে রবি’র টুজি বিটিএস এর সংখ্যা ৯,৪৫০ টি এবং ৩.৫ জি বিটিএস এর সংখ্যা ১,০০০ টি। বর্তমানে রবি’র রোমিং সার্ভিস চালু রয়েছে বিশ্বের ২০৭ টি দেশে এবং এই সেবার জন্য রবি’র সাথে অংশীদারিত্ব রয়েছে বিশ্বের ৫০০টিরও বেশি কোম্পানির। রবিই দেশে প্রথম জিপিআরএস এবং ৩.৫ জি সেবা চালু করে। এছাড়াও এধরনের বিবিধ ডিজিটাল সার্ভিস বাংলাদেশে চালু করেছে রবি। গ্রাম এবং উপশহর গুলোতে সকল শ্রেণীর জনগোষ্ঠীর হাতের নাগালে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস পৌঁছে দিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে রবি ।