February 22, 2026
ঢাকা: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সদ্য সংযোজিত নতুন উড়োজাহাজ ‘আকাশপ্রদীপের’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটায় হযরত শাহজালাল (রহ,) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি ৠাম্পে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেক কেটে বিমান বহরে সদ্য সংযোজিত এই অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, বিমান সচিব খোরশেদ আলম, বিমানের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) জামালউদ্দিন আহমেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেভিন স্টিল প্রমুখ। বক্তব্য রাখার পর কেক কেটে আকাশপ্রদীপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সোয়া এগারোটায় শুরু হওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগের মাধ্যম বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তাই যখনই সরকারের এসেছি বিমানকে আরও উন্নত করার পদক্ষেপ নিয়েছি। ৯৬ সালে যখন ২১ বছর পর প্রথম আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন ঢাকা এয়ারপোর্ট এ রকম ছিলো না। ৯৬ সালে সরকারে আসার পর বিমানবন্দরের বোর্ডিংব্রিজ, কারপার্কিং ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর ‘পালকি’ ও ‘অরুণ আলো’ সংযোজন হয় বিমান বহরে। আজ ‘আকাশপ্রদীপ’ যুক্ত হলো, অচিরেই ‘রাঙ্গা প্রভাত’ও আসবে।
তিনি বলেন, বিমান শুধু সাধারণ যাত্রী পরিবহনই নয়, সুনামের সঙ্গে হজ যাত্রীও বহন করে আসছে। প্রত্যেক বছরই এই হজ যাত্রী বহনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭২ সালে একটি ডিসি-৩ উড়োজাহাজ নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রা শুরুর কথা উল্লেখ করে এ সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা বিমানের লোগো করেছিলেন, তত্ত্বাবধান করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিমানকে আরও আকর্ষণীয় করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমি নিজে বিমানের ক্রুদের পোশাক ডিজাইন করে দিয়েছিলাম। তিনি বলেন, বিদেশে ৮০-৯০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছে। তাদের কথা চিন্তা করে বিমান যাত্রীদের আকর্ষণের জন্য বৈচিত্রপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষের দেশের প্রতি টান রয়েছে। তাই অন্য এয়ারলাইন্সে সুযোগ সুবিধা বেশি থাকলেও সুযোগ থাকলে বিমানের উড়োজাহাজেই চড়েন তারা।
প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারকে আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন। এ ছাড়া তিনি বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে সরাসরি বিমানবন্দর টার্মিনালে আসার জন্য একটি আন্ডারপাস টানেল তৈরি, বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ পুলিশ বাহিনী তৈরির কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ই-টিকেটিং শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ বিমানের পাইলটদের দক্ষতার প্রশংসা করে বলেন, আমাদের যারা বৈমানিক রয়েছেন, তারা এখন অনেক দক্ষ। বাঙালি পাইলটরাই সাহস করেছেন, এতদিন ধরে ডিসি-১০ পরিচালনায়। বিশ্বের অন্য কোনো দেশের পাইলট এটি পারতো না।
তিনি বিমানের পুরনো ডিসি-১০ উড়োজাহাজের কথা উল্লেখ করে বলেন, ডিসি-১০ কে বিদায় জানাচ্ছি। এটি বিশ্বের সর্বশেষ যাত্রী পরিবহনকারী ডিসি-১০। নতুন বোয়িং উড়োজাহাজে যাত্রীরা আরও উন্নতমানের, আরামদায়ক সেবা পাবেন বলে আশা করছি। এ সময় তিনি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করায় বোয়িং কোম্পানিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিমান আগামীতে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এটাই আমাদের লক্ষ্য। এ জন্য আমরা সবাই কাজ করছি।
পৌনে এগারোটার সময় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কার্যক্রম। কোরআন তেলাওয়াতের পর বক্তব্য রাখেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেভিন স্টিল। এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বিমান সচিব খোরশেদ আলম, চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
মজীনা বলেন, বাংলাদেশ এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক টাইগার হবে, এটাই আমার স্বপ্ন। এ সময় তিনি ডিসি-১০ ও বোয়িং উড়োজাহাজের প্রশংসা করে বলেন, উভয় উড়োজাহাজই মার্কিন প্রকৌশল বিদ্যার কারিগরি উৎকর্ষতার প্রমাণ। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকারও ঘোষণা দেন তিনি। বিমানের বহরে যোগ হওয়া তৃতীয় বোয়িং উড়োজাহাজ ‘আকাশপ্রদীপ’। আর আগে ২০১১ সালে ‘পালকি’ ও ‘অরুণ আলো’ নামে দু’টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ উড়োজাহাজ যোগ হয় বিমান বহরে। এছাড়া অচিরেই ‘রাঙ্গা প্রভাত’ নামে আরও একটি ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ যোগ হবে বিমান বহরে।
মঙ্গলবার বিদায় জানানো হয় বিমানের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ডিসি-১০ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে। দীর্ঘ তিনদশক ধরে ডিসি-১০ উড়োজাহাজগুলো সেবা দিয়ে আসছিলো বাংলাদেশ বিমানকে। তবে পুরনো হওয়ায় উড্ডয়ন ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে এগুলোকে সরিয়ে বিমান বহরে নতুন ও অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ সংযোজনের পরিকল্পনা হাতে নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবেই পর্যায়ক্রমে বোয়িংয়ের অত্যাধুনিক উড়োজাহাজগুলোর একে একে সংযোজন শুরু হয়েছে বিমান বহরে।
বিমানের সর্বশেষ ডিসি-১০ ফ্লাইট পরিচালিত হবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন বার্মিংহামের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে ডিসি-১০ উড়োজাহাজটি। ডিসি-১০ বিমানের বহরে যুক্ত হয় ১৯৮৩ সালে। ডিসি-১০ পুরনো হওয়ায় ২০০৮ সালে নতুন প্রজন্মের ১০টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের জন্য বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে বিমান। চুক্তির আওতায় চারটি সুপরিসর উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭ এবং চারটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার পর্যায়ক্রমে বিমানের বহরে যুক্ত হবে। ২০১৭ অথবা ২০১৯ সালের কোনো এক সময় সর্বশেষ ড্রিমলাইনারটি যুক্ত হবে বিমান বহরে।