April 22, 2026
জাতীয় গণমাধ্যমে এবং স্থানীয় চ্যানেলে প্রচারিত ‘ক্রেস্ট না, ক্যাশ চাই, ক্যাশ’ মর্মে চিফ হুইপের বক্তব্য শুধু ন্যাক্কারজনকই নয় বরং তা দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের জন্য এক অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড, ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন। রোববার টিআইবির এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। সম্বর্ধনার জন্য উপঢৌকন হিসেবে ক্রেস্টের পরিবর্তে নগদ অর্থ প্রদানের জন্য জাতীয় সংসদের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রকাশ্য জনসভায় এধরনের নজিরবিহীন বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি নির্মূলের অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক বলেও বিবৃতিতে বলা হয়। টিআইবি পরিচালক বলেন, ‘সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অনুপার্জিত আয়কে পরিষ্কারভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অতএব জাতীয় সংসদের সদস্য, এমনকি চীফ হুইপ পদে আসীন একজন ব্যক্তির পক্ষে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের ঘোষণা দিয়ে শুধু দুর্নীতি সহায়ক অবস্থানই নেননি, বরং সংবিধান লংঘন করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আরো উদ্বিগ্ন এ কারণে যে, ইতিপূর্বে যারা বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের নিকট দশ লক্ষ টাকা করে চাঁদা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছিল। সরকারের এরূপ অবস্থান রাজনীতি ও সরকার পরিচালনায় নৈতিকতা বিবর্জিত অন্ধকার জগতে নিমজ্জিত করবে।’
‘নির্বাচন করতে অনেক (টাকা) লাগে’ মর্মে চীফ হুইপের বক্তব্যকে ঠাট্টা-তামাশা নয়, বরং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যায়িত করে নির্বাচনে কালো টাকা এবং রাজনীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের যে ধারা সামপ্রতিক কালে হলফনামা সহ বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হচ্ছে তারই এক লাগামহীন প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ইঙ্গিত বলে ড. জামান অভিমত প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পটুয়াখালির বাউফল উপজেলা সদরে এক গণ-সংবর্ধনায় ‘ক্রেস্ট না, ক্যাশ চাই, ক্যাশ’ বলে সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বক্তব্য রাখেন।