পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

আশরাফের দাবি উড়িয়ে দিলেন ফখরুল

Posted on January 22, 2014 | in রাজনীতি | by

BNP-Office-Ove (1)20140122124625ঢাকা:  যৌথবাহিনী নিয়ে খালেদার  দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে আশরাফের দেওয়া ‘আল্টিমেটাম ও অভিযোগ’ উড়িয়ে দিয়ে একে ‘মিথ্যাচার’ বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা আলমগীর দাবি করেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন এমন কোনো বক্তব্য দেন নি, যা নিয়ে কেউ অভিযোগ করতে পারে। বিএনপি বক্তব্য প্রত্যাহার  করবে না। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সৈয়দ আশরাফের মুখে এমন বক্তব্য শোভা পায় না। আল্টিমেটামের সময় তিনি কোন অবস্থায়, কিভাবে ছিলেন তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ফখরুল।’ বুধবার দুপুর বারোটায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ হুঁশিয়ারি দেন, সাতক্ষীরায় যৌথবাহিনীর অভিযান সম্পর্কে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে, তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। এজন্য একটি প্রহসনের নির্বাচনের পরে দেশ ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফেরাতে পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

সাতক্ষীরায় অভিযান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সোমবার খালেদা জিয়া বলেন, সাতক্ষীরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ‘আদৌ যৌথ বাহিনী’ এবং বাংলাদেশের কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিলেন কি না, তা নিয়েও সংশয় আছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পুলিশ ও অন্য বাহিনী এত নিষ্ঠুর হবে, এটা নিয়ে মানুষের সন্দেহ রয়েছে। তাদের কাজকর্ম দেখে মনে হয় না সার্বভৌমত্ব অটুট আছে। ৪২ বছর পর আবার স্বাধীনতা হারাতে বসেছি। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’গাইবান্ধায় যৌথ বাহিনীর হামলা নিয়েও খালেদা জিয়া একই রকম সংশয় প্রকাশ করেন ।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরাসহ দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে যৌথবাহিনী।

যৌথবাহিনী দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হয়রানি, নির্যাতনের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘তাদের বাড়ি ঘর লুটপাট, ভাঙচুর, গণগ্রেফতার বাণিজ্য করে দূর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আতঙ্কে শুধু বিএনপির নেতাকর্মীই না, সাধারণ জনগণও ঘরে থাকতে পারছে না বলে দাবি করেন তিনি।

এ সময় বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, গত তিন মাসে বিএনপির ২২৭জনকে বিচার বহির্ভূতভাবে হত্যা ও ৮৭ জনকে গুম করা হয়েছে। এছাড়া মোট ২৯৪ জন যৌথবাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। গত ১০ দিনেই ১০টি লাশ পাওয়া গেছে দলে দাবি  ফখরুলের।

মির্জা আলমগীর বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন না থাকলে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এ ধরনের বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড হয়। এ ধরনের হত্যাকান্ডকে ৭১-এ হানাদার বাহিনীর নির্যাতনে মিল রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এ সময় হিউম্যান রাইটসের  একটি প্রতিবেদন তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতানসীনরা যে ভাষায় কথা বলছে তা মানবাধিকারের পুরোপুরি লঙ্ঘন। জনগনের মৌলিক অধিকারের জন্য হুমকি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকার বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে প্রশাসন সবকিছু ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী জুলুম নির্যাতন করতে এসব রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে।’

‘ক্ষমতাসীনরা বিএনপি নিধনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে’ এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এজন্য সরকার সরাসরি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়ে অসহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। যারাই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে তাদেরই ধ্বংস করার উৎসবে মেতেছে সরকার।’

মির্জা আলমগীর বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র প্রকৃতপক্ষে মৃত। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে দেশে গণতন্ত্রের শবযাত্রা শুরু হয়েছে। সারাদেশের মানুষ নির্বাচন পরবর্তী নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে পারে না।’

যৌথ বাহিনী দিয়ে নির্যাতন বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এর বিরুদ্ধে দেশী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে  সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হচ্ছে’-এমন অভিযোগ করে তাদের মুক্তি দাবি করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ করে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন।

‘৫ জানুয়ারি নির্বাচন জনগণ মেনে নেয় নি’ মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষে সংকট নিরসনে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। এজন্য ক্ষমতা স্থায়ী করার বাসনা পরিত্যাগ করে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম প্রমূখ।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud