April 21, 2026
ঢাকা: এমএলএম কোম্পানির নামে গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ৩৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চরমোনাই পীরের ছেলেসহ এইমওয়ের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টন থানায় দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোজাহার আলী সরদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। মামলা নং- ২০ (১) ২০১৪। এ মামলায় আসামিরা হলেন- এইমওয়ে করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও আলোর দিশারী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি চরমোনাই পীরের ছেলে সাইয়েদ রিদওয়ান বিন ইসহাক, ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, এইমওয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও আলোর দিশারী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, এইমওয়ের পরিচালক (অর্থ) ও আলোর দিশারী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের যুগ্ম-সম্পাদক মো. মশিউর রহমান ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম সালাউদ্দিন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোজাহার আলী শীর্ষ নিউজকে বলেন, ‘এইমওয়ের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের পর প্রমাণিত হওয়ায় পল্টন থানায় এ মামলা করা হয়।’
দুদক সূত্র জানায়, আসামিরা রাজধানীর পল্টনের গ্রান্ড আজাদ হোটেলে আলোর দিশারী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অধীনে এইমওয়ে নামীয় একটি প্রতিষ্ঠান খোলে। এখানে ১ লাখ টাকা জমা রাখার বিনিময়ে ৬ মাসে ২ লাখ টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩ লাখ গ্রাহক তৈরি করে।
এসব গ্রাহকদের কাছ থেকে কোম্পানি প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করে। ২০০৯ সালে কাজ শুরু করার পর মাথায় চুল গজানো তৈল, বলবর্ধক সামগ্রী, টুথপেস্ট ও হারবাল প্রোডাক্ট তৈরি করে গ্রাহকদের কাছে বেশি মূল্যে বিক্রি করা শুরু করে। আর ছয় মাস পর কিছু গ্রাহককে টাকা প্রদান করতে পারলেও অধিকাংশ গ্রাহক তাদের মূলধন থেকে বঞ্চিত হয়।
পরে প্রতারণামূলক এমএলএম পদ্ধতি ব্যবহার করে কমিশনের ভিত্তিতে স্বল্প বিনিয়োগে অধিক লাভের প্রলোভনে আলোর দিশারী সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রায় ৪০ হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারীর অর্থ স্থানান্তর করেন। এতে আসামিরা প্রায় ৯ কোটি ২৪ লাখ ৫২ হাজার ৫৮৯ টাকা স্থানান্তরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন।
এছাড়া প্রচলিত ও অনুমোদিত নিয়ম-নীতি অনুসারে ব্যবসা করার আড়ালে এমএলএম পদ্ধতিতে ব্যবসা করে নিজেরা অধিকহারে লাভবান হওয়ার উদ্দেশে কথিত হারবাল পণ্য বিপণনপূর্বক মোট প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্র্যাক ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় জমা এবং পরবর্তী সময়ে তা নিজেদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে অভিযুক্তরা এ কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে আসামিরা আরো ১০ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৩৬ টাকা নিজেদের ভোগ দখলে নেন।
সূত্র আরো জানায়, অভিযোগটি আমলে আনলে দুদক উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এইমওয়ে করপোরেশন নামে কোম্পানি খোলার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ এর ৪(১)-এর বিধান, ২০১১ ও সমবায় সমিতি বিধিমালা-২০০৪ ও সোসাইটির অনুমোদিত উপ-আইনের বিধান লঙ্ঘন করেছেন।
একইসঙ্গে তারা গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। অনুসন্ধান শেষে অভিযোগটি প্রমাণিত হওয়ায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০০৯ এর ৪(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২)(৩) ধারা মোতাবেক মামলাটি দায়ের করা হয়।