April 19, 2026
ঢাকা : বিরাজমান সহিংসতা ছেড়ে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমঝোতায় না এলে প্রধান দু’ রাজনৈতিক জোটের প্রধানদের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করার হুমকি দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। সমস্যার সমাধান না হওয়াপর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা। এরপরও যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটে তবে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রোববার দুপুরে মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদবন্ধনে ব্যবসায়ী নেতারা এসব কথা বলেন। শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অবকাঠোমো ধ্বংস ও মানুষ হত্যার প্রতিবাদে এবং শান্তির দাবিতে সমগ্র দেশের ব্যবসায়ীদের সাদা পতাকার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সাদা পতাকা হাতে ব্যবসায়ীদের এ মানববন্ধন দৈনিক বাংলা মোড় থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। একই সময়ে রাজধানীসহ সারাদেশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন থেকে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মুক্তির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ীরা শান্তি চায়। এভাবে যাত্রীবাহী বাসে, পণ্যবাহী ট্রাকে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করবেন না। সমঝোতায় আসুন। অসুস্থ রাজনীতি বলি নিরীহ মানুষকে করবেন না। অচিরেই রাজনৈতিকভাবে এর সমাধান করা না হলে ব্যবসায়ীরা আরো কঠোর কর্মসূচি দেবে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা কর্মচারীদের বেতন দিতে পারবে না। এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি একে আজাদ বলেন, ব্যাংক-বীমা, রপ্তানি পোশাক শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা কাজ করতে পারছে না। দিন মজুররা কাজ পাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। পণ্যবাহী ট্রাক পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের আমরা বসিয়েছি। আমাদেরকে আপনারা তৈরী করেননি। আপনারা ( হাসিনা-খালেদা) ব্যবসায়র সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করুন। সাদা পতাকার শান্তির দাবি জানানোর পর সমাধান না হলে দু’ নেত্রীর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়া হবে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমরা সরবো না।
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান বলেন, রাজনীতিবিদরা সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে, নেতৃত্ব আমাদের নিতে হবে। আমরা সংগঠিত হচ্ছি। এ হীন রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। দেশটাকে সোজাা পথে আনতে হবে। আনিসুল হক বলেন, ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নয়, দোকানে থাকার কথা। চারিদিকে লাশের মিছিল। এদেশে প্রতি পাঁচ বছরে ইতিহাস বদল হয়। এভাবে ১৬ কোটি মানুষের ৫৪ হাজার বর্গমাইলকে জিম্মি করবেন না। দ্রুত আলোচনায় বসে সমাধান করুন। তিনি বলেন, আমরা রাতের বেলায় যখন টকশো দেখি। তখন মনে হয় এটা বাংলাদেশ না কি সোমালিয়া। ইরান নাকি ইরাক। লিবিয়া নাকি আফগানিস্তান। এদেশের রাজারা রাজনীতি ছেড়ে মরণনীতি নিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, নব্বই সালে যারা স্বৈরাচারের ভূমিকায় ছিল। এখন গণতন্ত্রের রক্ষায় তাদের কদমবুচিতে ব্যস্ত রাজনৈতিক এসব নেতারা। বিজিএমইএ সভাপতি মো, আতিকুল ইসলাম বলেন, পোশাক শিল্পের মেরুদন্ড ভেঙ্গে গেছে। তিনি বলেন, এ অসুস্থ রাজনীতি ত্যাগ করুন। এ অসুস্থ রাজনীতির কারণে আমরাও অসুস্থ হয়ে গেছি।
সমাবেশে ব্যবসায়ীদের সকল সংগঠন ও এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।