May 7, 2026
ঢাকা: যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের ডাকে গণজাগরণের মুখে চাপা পড়ে গেছে বিএনপির নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে মাঠে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে রাজধানীতে বড় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, দলটি ১৭ ফেব্র“য়ারি রাজধানী ঢাকায় জনসভার এবং পরদিন সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া ২১ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত পূর্বঘোষিত দলীয় কর্মসূচিগুলো ভালোভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে, এসব কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে রাখা হবে না। শাহবাগের আন্দোলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতকে নিয়ে জোটবদ্ধ কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার কৌশল নিয়েছে বিএনপি।
শাহবাগ পরিস্থিতি নিয়ে গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এসব কর্মসূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
তবে, জামায়াতকে নিয়ে এই ‘আপাতকৌশলের’ কথা স্বীকার করতে রাজি নন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার। তিনি দাবি করেন, ‘বিএনপির কৌশল আগে যা ছিল, এখনো তা-ই আছে। কিছু কর্মসূচি আমরা যৌথভাবে (বিএনপি-জামায়াত) করি। আবার কিছু কর্মসূচি বিএনপি একা করে। আর জামায়াত তাদের মতো করে।’
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরিক দল জামায়াতের নেতা আবদুল কাদের মোল্লাসহ অভিযুক্ত সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের আন্দোলন নিয়ে শুরুতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থার মধ্যে পড়ে বিএনপি। তাই শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের শুরুর দিকে একদম নিশ্চুপ ছিল। অবস্থান কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনে এসে গত সোমবার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে বিএনপি নতুন প্রজন্মের আন্দোলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে ‘ফ্যাসিবাদের সুস্পষ্ট প্রতিধ্বনি’ শোনা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। অবশ্য, পরদিনই অবস্থান পরিবর্তন করে এবং আরেক বিবৃতিতে শাহবাগে তারুণ্যের উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বিএনপি।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, প্রথম বিবৃতি তরুণ প্রজন্মের কাছে বিএনপি সম্পর্কে ভুল ধারণার জন্ম দেবে বলে মনে করেন দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁরা ওই দিনই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে শাহবাগ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকার তাগাদা দেন এবং ওই দিন (সোমবার) রাতেই খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক হয়। তাতে স্থায়ী কমিটির বাইরেও কয়েকজন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বৈঠকে স্থায়ী কমিটির আর এ গণি, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও আবদুল মঈন খান এবং দলের সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমদু চৌধুরী শাহবাগের বিষয়ে আলোচনা করেন। সেখানেই পরদিন দ্বিতীয় বিবৃতি দিয়ে শাহবাগের আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়ে ও ক্ষমতায় গেলে মানবতাবিরোধীদের বিচারের আশ্বাসের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা প্রত্যাশা করে আবার বিবৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, একদিকে জোটের শরিক দল জামায়াত, আরেকদিকে তরুণ প্রজন্মের মহাজাগরণের চাপ—এ নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় আছে বিএনপি। এ অবস্থায় দুই কূল রক্ষার কৌশল নিয়ে বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করে বিএনপি। সূত্রগুলো আরও জানায়, সরকারের সঙ্গে জামায়াতের গোপন সমঝোতার যে গুঞ্জন রয়েছে, সে সন্দেহও শাহবাগে তারুণ্যের উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পেছনে কিছুটা ভূমিকা রেখেছে।
কাউন্সিল পেছাতে পারে: শাহবাগের প্রভাবে আগামী ৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কাউন্সিলের স্থান ঠিক করতে না পারায় এটি আরও এক সপ্তাহ পেছানো হতে পারে বলে দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, কাউন্সিলের জন্য বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও পল্টন ময়দান—এ তিনটি জায়গা প্রাথমিক নির্ধারণ করা হয়েছিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও পল্টন ময়দান বরাদ্দ না পাওয়ায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র খালি পাওয়া যায়নি।
এদিকে জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে ১৫ ও ১৬ ফেব্র“য়ারি জেলা ও মহানগরে বিএনপির বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছিল। তা গতকাল স্থগিত করা হয়েছে।