March 13, 2026
ঢাকা: ২৫ অক্টোবরকে সামনে রেখে যে কোনো ধরনের নাশকতা রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। জামায়াত-শিবিরের নাশকতার আশঙ্কায় রাজধানী জুড়ে গোয়েন্দা নজরদারিসহ পুলিশের টহল বৃদ্ধি করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পাওয়ার পর অনেক থানায় তা পালনও করা হচ্ছে।
ফকিরাপুলের একটি বাসায় ককটেল বিস্ফোরণের পর অন্যান্য স্থানেও ককটেল বা বোমা তৈরি হচ্ছে কি না সে ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সূত্রে জানা যায়, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছে জামায়াতসহ তাদের ছাত্র সংগঠন শিবির। আন্দোলন চলাকালে শিবির সারাদেশেই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা থেকে শুরু করে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। বিশেষ করে সাঈদীর রায়ের পরে সারাদেশে ব্যাপক নাশকতা চালিয়েছে শিবির।
উত্তরাঞ্চলে চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে এমন মিথ্যা ধর্মীয় প্রচারণার ফাঁদে ফেলে নাশকতা চালায় তারা। এদিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে যেমন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তেমনি নিহত হয়েছে শিবির কর্মীরাও। নাশকতা চালানোর অভিযোগে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ অসংখ্য নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জামায়াতের আটক নেতাদের মুক্তিসহ শিবিরের নিজস্ব কর্মীদের মুক্তির ব্যাপারে সরকারের শেষ সময়ে এসে মরণ কামড় দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারে এমনটাই ধারণা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এজন্য তারা ভেতরে ভেতরে সংগঠিত হচ্ছে। বিএনপির কর্মসূচিতে মিশে গিয়েও যে নাশকতা করবে না এমনটিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
মতিঝিল জোনের এক কর্মকর্তা বলেন, ফকিরাপুলের যে বাড়িতে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে সেটি আসলে শিবিরের গোপন আস্তানা ছিল। ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটলে বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায়। তারা সে বাড়িতে নাশকতার জন্য ককটেল তৈরি করছিল। বিস্ফোরণের পর সেখানে অবস্থানকারীরা আহত হলেও দ্রুত সটকে পড়ে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর যেসব এলাকায় শিবিরের শক্ত অবস্থান রয়েছে সে এলাকাগুলোতে তারা এখন নাশকতার জন্য এগুলো তৈরি করছে। আবার পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে রাজধানীর অদূরে এরা অবস্থান শক্ত করছে। ২৫ অক্টোবরের পর যে কোনো দিন ব্যাপক নাশকতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
কর্মকর্তারা বলেন, ফকিরাপুল ছাড়াও শিবির বিজয় নগর, পল্টন, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ীর রায়ের বাগ, শনির আখড়া, ধলপুর, পরীবাগ, আজিমপুর, মিরপুর, মগবাজার, রামপুরা, শাহজাদপুর এলাকায় গোপনে আস্তানা গড়ে তারা এসব তৈরি করছে বলে খবর রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে ঠিক কোন জায়গায় এগুলো তৈরি হচ্ছে সে ব্যাপারে জানা না থাকার কারণে গ্রেফতার বা অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। তবে এসব এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে ২৫ অক্টোবরের পর থেকে নাশকতা রোধে পুলিশ এখন থেকেই বিশেষ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের(ওসি)। মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার আশরাফুজ্জামান বলেন, আমরা যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। পাশাপাশি কেউ যেন নাশকতা চালাতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পুরো এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী চলছে। থানার ওসিদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মিনহাজুল ইসলাম বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকায় শিবিরের কিছু কর্মকাণ্ড থাকলেও বর্তমানে আমরা তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখেছি। নাশকতা রোধে আমাদের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। শাজানপুর থানার ওসি সৈয়দ জিয়াউজ্জামান বলেন, পুরো এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ঈদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা অনুসন্ধানও চলছে। তিনি বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পালন করছি।
খিলগাঁও থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, নাশকতা রোধে এই এলাকায় থানা পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি।
সার্বিক বিষয়ে ডিএমপির মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, যে কোনো ধরনের নাশকতা রোধে একদিকে যেমন থানা পুলিশ সচেষ্ট তেমনি ডিবি পুলিশ ও কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে প্রতিটি থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুরো রাজধানীতেই গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের নাশকতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা হবে। ….বাংলানিউজ