March 14, 2026
ঢাকা: ৭ বছর আগের স্মৃতিকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে ২৫ অক্টোবর প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত জামায়াত-শিবির। চারদলীয় জোট সরকারের ক্ষমতার শেষ দিনে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রাণহারায় বেশ কয়েকজন শিবির কর্মী। সেই ঘটনার প্রতিশোধ এবং একই সঙ্গে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে এখন কৌশলেই এগোচ্ছে দলটি।
প্রতিশোধের জন্য ২৫ অক্টোবর ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশের দিনটিকেই কাজে লাগানোর পরিকল্পনা জামায়াতের। এজন্য সারাদেশ থেকে কর্মীদের ঢাকায় আসার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে বাঁধা দিতে পারে এই শঙ্কায় কিছুটা কৌশলেই পরিকল্পনা করেছে দলটি।
বেশ কয়েকজন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বলেন, ‘১৮ দলের জোটের সমাবেশকে সফল করতে আমরা প্রস্তুত। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ বহাল রেখে একতরফা এবং একদলীয় প্রহসনের নির্বাচনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’ নেতারা আরও বলেন, ‘দেশের জনগণের মতামত ও ইচ্ছা-অভিপ্রায় অগ্রাহ্য করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ বর্তমান দলীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করার যে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তা আওয়ামী লীগ মানলেও দেশের জনগণ মানবে না। জনগণ প্রহসনের একতরফা নির্বাচনের নাটক গণআন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিহত করবে।’
দলটির নীতি নির্ধারকদের একজন বলেন, ‘২৫ অক্টোবর ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে সরকার বাধা দিলে নেতা-কর্মীরা চুপ করে বসে থাকবেন না। নিজেদের নিরাপদ রাখতে তারাও মাঠে প্রস্তুত থাকবেন। সরকারের পতন ঘটিয়েই আমাদের আন্দোলন সমাপ্ত হবে।’
তবে এবার মাঠে ইসলামী ছাত্র শিবিরকেই সক্রিয় ভাবে মাঠে দেখতে চায় জামায়াত। এজন্য সারাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীকে ঢাকায় আসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পুলিশ যেন পথে পথে বাঁধা না দিতে পারে এজন্য ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরা মানুষদের সঙ্গেই ঢাকা ফিরবে নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে ঢাকায় এসে হোটেলে না থেকে রাজধানীতে থাকা নেতা-কর্মীদের আশ্রয়ে থাকার পরিকল্পনা শিবিরের। দেশের বিভিন্ন জেলার শিবিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই কর্মীদের ঢাকায় আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কর্মীদের সংখ্যা অনুপাতে প্রতি জেলা থেকে ৫ শ থেকে ১ হাজার কর্মীকে ঢাকায় আনার নির্দেশনা আছে। সবাই একসঙ্গে ঢাকায় না এসে ভিন্ন ভিন্ন পথে আসাসহ বিভিন্ন কৌশলও নেয়া হবে।
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল আবদুল জব্বার বলেন, ‘সরকার আমাদের প্রায় প্রতিটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাঁধা দিয়েছে। পুলিশ যেভাবে অস্ত্রসহ হামলে পড়েছে তা গোটা জাতিকে বিস্মিত করেছে। সরকারের নির্দেশে পুলিশের এই বর্বরোচিত ভূমিকা।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক মিছিলে পুলিশ অতর্কিত গুলি করে শিবির কর্মীদের হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমেই পরিস্কার হয়ে গেছে, সরকার বন্দুকের নলকে পুঁজি করেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। অবৈধ ক্ষমতা পাকাপুক্ত করতেই শিবির কর্মীদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে জনগণের বুকে গুলি চালাতেও তারা কোন দ্বিধা করবে না।’ শিবির গুলিকে ভয় পাই না জানিয়ে জব্বার বলেন, ‘বুকের তাজা রক্ত ঢেলে হলেও আমাদের আন্দোলন সফল করবো। দলের বন্দী নেতাকর্মীদের মুক্ত করেই ক্ষান্ত হবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকার দেশব্যাপী যে পরিস্থিতির তৈরি করেছে, তার মাশুল সরকারকে দিতেই হবে। জনতার মিছিলে হামলার নির্দেশদাতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের কোন কর্তাব্যক্তিই পার পাবে না। সরকার যতই চালাকি করুক না কেন, শেষ রক্ষা হবে না। আর যদি একটি মিছিলেও হামলা হয় কিংবা নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতি উৎসাহী সংশিষ্ট সদস্য নির্দেশদাতা কাউকেই রেহাই দেয়া হবে না।’ ………….বাংলামেইল