পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ঢাকা রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে দুর্নীতির আখড়া, ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না

Posted on October 2, 2013 | in জাতীয় | by

SDSDSDSD

তোফাজ্জল হোসেন: জমি রেজিষ্ট্রেশন করতে গেলেই উত্তরার সাবরেজিষ্ট্রার এসএম সারোয়ার হোসেনকে ঘুষের টাকা দিতে হচ্ছে। নইলে নানাভাবে জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এই অফিসের সাবরেজিষ্ট্রারের ইন্দনে বহিরাগতদের দিয়ে বিশাল একটি সিণ্ডিকেট করে সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। কারণ টাকা না দিলেই নানা অজুহাত দেখানো হয়! এজন্য জমি ও ফ্ল্যাট ক্রেতারা আগে ভাগেই দলিল লেখকদের সঙ্গে সমাজোতা করে জমি রেজিষ্ট্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ঘুষের টাকা সাব-রেজিষ্ট্রারকে চাওয়া লাগে না, এমনিতেই বহিরাগতদের মাধ্যমে চলে আসে। আর দলিল লেখকরা টাকা দেয়ার জন্যই তৈরী থাকে। জমির দাম যত বেশি,ঘুষের টাকাও তত বেশি। ঘুষের টাকায় রাতারাতি বনে যাচ্ছে সাব-রেজিষ্টার অফিসের বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী। ভূমি রেজিষ্ট্রেশনের সাব-রেজিষ্টাররা আবার নিবন্ধন পরিদপ্তরে মাসোহারা দিয়ে থাকে প্রতিনিয়ত।
এ বিষয়ে নিবন্ধক পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শক আবদুল মান্নানের নামে ঘুষের টাকা তোলা হচ্ছে তার এক আÍীয়র মাধ্যমে। ঘুষ-দুর্নীতি আর হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত নিষ্পেষিত সাধারণ সেবাপ্রার্থীর আর্জি-আহাজারিতে তেমন একটা কাজ হয় না। তবে আইন মন্ত্রণালয় রেজিষ্টেশন বিভাগের যথাযথ নজনদারি না থাকায় ঘুষ দুর্নীতির মাত্রা বেড়েছে।
চলতি মাসে নকল নবীশ নিয়োগ নিয়ে সদর সাব-রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে ঘূষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কারণ হচ্ছে দীর্ঘদিন যাবত যে সব নকলনবীশকে পদোন্নতির আশ্বাস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাদের পদোন্নতি না দিয়ে সুবিধা নিয়ে দুজন মহিলাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। বিষটি দ্রুত ক্ষতি দেখার জন্য দাবি উঠেছে।
সূত্র জানায় সদর রেকর্ড রুমে কিছু অসাধু বহিরগতরা আইন প্রতিমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে দাপটের সঙ্গে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে।
প্রতিদিন যেসব খাত থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠছে: আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধিনেপরিচালিত ঢাকা সদর রেকর্ড এর সাব-রেজিষ্ট্রার আনোয়ার চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিদিন দলিল লেখকদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, জমির দলিল তুলতে আসা জনসাধারণের কাছ থেকে এসব টাকা আদায় করা হয় বলে একজন দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান। এ কারণে দলিল লেখকরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিথ্যা খরচের হিসেব দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর মূল কারণ সাব-রেজিষ্টারের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী।
জানা গেছে, প্রতিদিন ঢাকা সদরসাবÑ রেজিষ্ট্রার আনোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রত্যেক দলিলের নকলের ফি জমার নামে। প্রতিদিন প্রায় ৩শ’থেকে ৩৫০ টি দলিলের নকলের ফি জমা হয়। প্রতি নকলে সরকারি ফিস ৭ পাতা বিশিষ্ঠ দলিলের ফিস ১শ’ টাকা সেখানে সাব-রেজিষ্টারকে দিতে হয় ২শ’ টাকা এখান থেকে প্রতিদিন ৭০ হাজার টাকা উৎকোচ আদায় করেন এই সাবরেজিষ্ট্রার।
এছাড়াও আরো যেসব খাত থেকে প্রতিদিন অর্থ আসে তা হচ্ছে, প্রতিদিন দায়মুক্ত ১৫০ টি রশিদের জন্য সরকারি খাতে প্রতিটি নকলের জন্য জমা হয় ৮০টাকা। আর সাব-রেজিস্ট্রারকে দিতে হচ্ছে ১শ’ ২০টাকা । ৫ থেকে ১০ দায়মুক্ত সার্টিফিকেট হাউজিং রশিদ যা রেজিষ্ট্রারের স্বাক্ষরসহ নিতে হলে ২ হাজার ১শ’ টাকা দিতে হচ্ছে।
প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি মুল দলিল পুড়িয়ে ফেলা হয় ডিস্টর সিলসহ এই নকল সরবরাহের জন্য সরকারি কোন ফি দিতে হয়না। অথচ সেখান ক্হে নকল নিতে চাইলে প্রতিটির জন্য ৩শ’ টাকা করে দিতে বার্ধ্য হচ্ছে সেবা প্রার্থীরা। মূল রশিদ না থাকলে ৭শ’ টাকা দিতে হচ্ছে। এখাত থেকে প্রতিদিন পাচ্ছেন প্রতিদিন ৬ হাজার ৫শ’ টাকা । এই চারটি থাত থেকে প্রতিদিন অবৈধ উপায়ে আদায় করছেন। প্রতিদিন ৫টি খাত থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার টাক্।া প্রতিদিন দলিল করা হয় প্রায় ৫শ’ তল্লাসীর সরকারি ফিস ৫ টাকা। সেখানে তাদেক দিতে হচ্ছে। প্রতিটির জন্য ২০ টাকা করে এখাত থেকে ১০ হাজার টাকা অর্জিত হচ্ছে।
ইতিপূর্বে তল্লসী কারকরা টাকা দিতে, আস্বীকুতি জানিয়েছিল। কিন্ত তখন তাদের দলিল আটকিয়ে স্ট্যম্প বন্ধ করে ভেন্ডারদের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। একারণে তল্লাসীকাকরা জনসাধারণের কাছে থেখে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়াও নিবন্ধন পরিদপ্তরের নাম ভাঙ্গিয়ে ক্ষমতার দাপটে নিয়ম বহিভূতভাবে সদর রেকডরুমে এক সঙ্গে ২ জন নকল নবীসের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বদলী করা হয়েছে। আবু তালেব নামে এক ব্যক্তি জানান,এখানে কর্মরত নকল নবীসরা চাকুরির ভয়ে মুখ খুলার সাহস পাচ্ছে না। অবৈধভাবে অর্জিত আয়ের খাতগুলো সুষ্টু তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে উত্তরা সাবরেজিষ্ট্রার এসএম সারোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,তার অফিসে কোন বহিরাগত লোকের আনাগোনা নেই। বিহিরাগতদের সঙ্গে মাসিক লেনদেন হয়কি না? জবাবে তিনি জানান,এধরণের সংবাদ সঠিক নয়।কেই আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কারো কাছে অর্থ আদায় করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপর দিকে ঢাকা সদররেকর্ড রুমের সাবরেজিষ্ট্রার মো.আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর জানান, আমার এখানে কোন প্রকার লেনদেন করা হয়না। সরকারি ভাবে দলিলের জন্য যে ফি দেওয়া প্রয়োজন মানুষ তাই দিয়ে থাকে। আপনার দপ্তরে কোন অবৈধ লোক করে কি? জবাবে তিনি সঠিক জবার দিতে পানেনি।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud