April 21, 2026
বিনোদন ডেস্ক: কাপুর পরিবারের সদস্য নন। ফিল্মি পরিবার থেকেও আসেননি। বড় হননি বলিউড পাড়া বলে খ্যাত মুম্বাই শহরেও। তবুও বলিউডে পা রেখেছেন এবং সফল হয়েছেন সমসাময়িক অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি।
সেরা সময় বলতে যা বোঝায় দীপিকা পাড়ুকোনের এখন তাই চলছে। বলিউডের সবচেয়ে বেশি আয় করা চলচ্চিত্রের নায়িকা এখন দীপিকা। চেন্নাই এক্সপ্রেস হয়ে এ সাফল্য আসার আগে বাজিমাত করেছিলেন ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি দিয়েও।
বছরের শেষ দিকে আসছে সঞ্জয় লীলা বানসালীর ‘রামলীলা’। এখন কাজ করছেন ফারাহ খানের হ্যাপি নিউ ইয়ার সহ ইমতিয়াজ আলী ও হোমি আদজানিয়ার সিনেমায়।
অবশ্য ব্যক্তি জীবনে অতটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই তিনি। রণবীর কাপুরের সঙ্গে প্রেম পর্ব শেষ। রণবীর সিংয়ের সঙ্গে প্রেম নিয়ে কোনো কথা বলছেন না অন্য সব বলিউডি নায়িকার মতই।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন নিজের অভিনয় জীবন ও দর্শন, বলিউড ইন্ডাস্ট্রি, সাবেক প্রেমিক রণবীর কাপুর ও প্রতিদ্ব›িদ্ব অন্য নায়িকাদের নিয়ে। ফিল্মফেয়ার অবলম্বনে দীপিকা পাড়-কোনের সাক্ষাৎকাটি ভাষান্তর করেছেন সিয়াম আনোয়ার।
চেন্নাই এক্সপ্রেস-এ বিশাল সাফল্য। আপনার সাফল্যের মুকুটে যোগ হলো আরেকটি পালকৃ
দীপিকা: আমার ও তেমনটাই মনে হচ্ছে। চেন্নাই এক্সপ্রেস শুরুই হয়েছে রেকর্ড ব্রেকিং দিয়ে। প্রত্যাশা মতো ভালো চলেছে এবং চলছে। এটি আমার জন্য বিশেষ একটি চলচ্চিত্র। আরও বিশেষ শাহরুখ খানের জন্য।
বলিউডে আপনার আগমনের পর মাত্র ছয় বছর পেরিয়েছে। ইতোমধ্যে আপনাকে নাম্বার ওয়ান বলা হচ্ছে। কীভাবে জানাবেন এর প্রতিক্রিয়া?
দীপিকা: এরকম শুনতে পারাটা চমৎকার। পড়তে অথবা এটি নিয়ে কথা বলাটাও বিরাট আনন্দের। মাঝে মাঝে আমি আবেগাপ্লুতও হয়ে যাই। আমার মনে হয় আমি খুব তাড়াতাড়ি বেশি পেয়ে গেছি। আজ যখন আমি পথ চলি,তখন মানুষের ভালোবাসার শক্তি পাই নিজের মাঝে। এটা আমার জন্য বিশাল জায়গা। নাইস ফিলিংস।
অতীতের দিকে তাকালে কী মনে হয়,কতটা কঠিন ছিল পথচলা?
দীপিকা: এটা মোটেই সহজ ছিল না। ওম শান্তি ওমের আগে আমার জন্য বেশ কঠিন ছিল। এই ছবিটা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। ফারাহ খান ও শাহরুখ খান আমাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। আমাকে দুর্দান্ত একটা শুরু দিয়েছেন। এরপর আমি ছিলাম আমার মাঝেই। আমি কোনো চলচ্চিত্রের পরিবার থেকে আসিনি। আবার কোনো শহর থেকেও না। তাই আমাকে ক্ষত নিয়ে শুরু করতে হয়েছে। আমি চলচ্চিত্র বিষয়ে কিছুই জানতাম না। আমি এখনো চলচ্চিত্র তেমন একটা জানি না। আমি চলচ্চিত্র দেখেও বড় হয়ে উঠিনি। যখন আমি ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের সঙ্গে মিশতাম তারা কথা বলত সিনেমা নিয়ে। কিন্তু আমি ঠিক মেলাতে পারতাম না। নিজেকে দূরে কোথাও ভাবতাম।
কিন্তু আমি পরিশ্রম করতে প্রস্তুত ছিলাম। একটা চলচ্চিত্রে নিজেকে পুরোপুরি ঢেলে দিতে প্রস্তুত ছিলাম। এভাবেই আমি একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা থেকে অফার পাই। সুতরাং আমার পথচলাটা বিভিন্ন ক্ষেত্রে লার্নিং এক্সপেরিয়েন্স। এটা ছিল সংগ্রামের। ইন্ডাস্ট্রি বোঝা,মানুষ বোঝা,সম্পর্ক বোঝা, কোন ধরনের চলচ্চিত্র আমি করব তা বোঝা,একটা নতুন শহরে নিজেকে সেট করা- এরকম অনেক কিছু ছিল। এখন আমি একটু বেশি স্পষ্ট। আমি আমার ভুলগুলোসহ ব্যক্তি আমি ভালো আছি।
একটা নিম্ন অধ্যায়ও আমি পার করে এসেছি যখন আমার চলচ্চিত্র ভালো করছিলো না। মানুষ আমাকে থামতে বলছিলো। এগুলো আমাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। আমি আনন্দিত যে এমন সময় থেকে আমি হারিয়ে যাইনি। আমি খুশি যে নিজেকে নিয়ে এবং নিজের কাজ নিয়ে একটু ভালো কিছু করার সুযোগ আমি পেয়েছি।
নিজের মাঝে কী পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন আপনি?
দীপিকা: এখন আমি ভুল করা বিষয়গুলো নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। প্রথমদিকে আমি খুব উদ্বিগ্ন থাকতাম ঠিক কাজটি করার ব্যাপারে। অথবা একজন যেভাবে চায় সেভাবে কাজটি করতে পারব কিনা ভাবতাম। এখন আমি শেষ ফলাফলের কথা চিন্তা করি না। আপনাকে নিজের কাজ নিজেই করতে হবে। নিজের বোকামি কিংবা আসলে কী হচ্ছে এসব নিয়ে আমি এখন সচেতন। আমি মনে করি কিছু কাজ ঠিক মতো হবে,আর কিছু হবে না। যা হয় তাতেই আমি ঠিক।
সফলতার স্বাদটা কেমন?
দীপিকা: আমি জানি না এটা সফলতা কি না। আমি যেটা বুঝি যে আমার চারপাশে এখন অনেকগুলো ইতিবাচক ব্যাপার আছে। আমার চারপাশে অনেক আনন্দ। আমি কর্মশক্তিতে বিশ্বাসী। আমি মনে করি আমার চারপাশে বেশ ইতিবাচক প্রাণচঞ্চলতা আছে। এটা যদি সফলতা হয় তবে তো দারুণ অনুভুতি।
অনেক মেয়েই বিশ্বাস করে আপনার জীবনটাই পারফেক্ট।আপনি সুন্দর,প্রতিভাবান এবং বিখ্যাত।আপনি নিজেকে কীভবে দেখেন?
দীপিকা: এই সুযোগে সবাইকে বলতে চাই,আমার জীবনটাও অন্য সবার মত ব্যস্ততাময়,রুটিনে আবদ্ধ এবং কঠিন।আমি আমার কাজ কে কাজ বলি না।কারণ আমি যা করি তা ভালোবেসে করি।কিন্তু দিনশেষে এখনো এটা পরিশ্রমের কাজ।যদি চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করা কষ্টের হয়,তবে এটাও একই রকম কষ্টের।যতটা দেখা যায় এতটা গø্যামারাস নয় বিষয়টা। ব্যাপারটা এমন যে আমি যে কাজটা করি সেটা আমাকে খ্যাতি দেয়,তারকা পরিচয় দেয়।এর বেশি কিছু না।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হয় কীভাবে আর সফলই বা কীভাবে হওয়া যায়?
দীপিকা: আপনি যা চান তা থেকে কখনোই ফোকাস হারানো চলবে না। মানুষ আপনাকে নিচে নামাতে চাইবে। আপনার জীবনে এমন কিছু থাকতে পারে যেটি আপনার আত্মবিশ্বাসকে দমিয়ে রাখবে। এমন দিন আসবে যখন আপনি ভেঙে পড়বেন, সবকিছু ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনাকে আবেগের দিক থেকে বেশ শক্ত এবং ফোকাস থাকতে হবে। যারা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন তাদের নিশ্চিত হতে হবে তারা নিজের থেকে কী চান? নিজের মতো করেই করুন। ভুলের কারণে ভয় পাওয়ার কারণ নেই।
মানুষ এখন আপনার সৌন্দর্যের বাইরে একজন অভিনেত্রী হিসেবেও স্বীকৃতি দিচ্ছে। আপনার নিজের কী মনে হয়, আপনি নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছেন?
দীপিকা: আমি প্রমাণ করেছি শুধু মানুষের কাছেই না, অবশ্যই নিজের কাছে। আমি কখনোই কারো কাছে কিছু প্রমাণ করতে চাইনি। আমার একটা লেখার কথা মনে পড়ছে। যেখানে আমাদের চার পাঁচজন সম্পর্কে বলা হয়েছিলো যারা একই সময়ে সিনেমায় একটু থেমে ছিলাম। ওই সময় আমাদের কাছে ওটা পড়তে ভালো লাগেনি। আমরা আমাদের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করেছি। যখন বিশ্ব আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছে, তখন একজন আমাদের নিয়ে এমন লিখল।
আমার বাবা মা বেশ হতাশ হয়েছিলেন। বিশেষ করে আমার মা। আমি এটাকে কমলা রঙের মার্কার দিয়ে হাইলাইট করে রেখেছিলাম আমার বোর্ডে। চিন্তা ছিল এটি হয়তো কখনো আমাকে সাহায্য করবে। হয়তোবা আমি একজন স্পোর্টস ম্যান ছিলাম বলে এটি আমাকে সহায়তা করেছে। যখন আমি নিজেকে নিয়ে স্ট্রং ছিলাম না তখন আমার বাবা মা বেশ বিশ্বাসী ছিলেন।
কিছুদিন গেছে যখন আমি ভেঙে পড়েছিলাম, ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু সবসময় শেষ পর্যন্ত এটা বড় মূল জায়গায় ফোকাস রাখার বিষয়।
তাই এটা কারো কাছে নিজেকে প্রমাণ করার ছিল না। এটা নিজেকে নিজের কাছে প্রমাণ করাই। হয়তো এটা সময়ের ব্যাপার ছিল। হতে পারে মানুষ আমাকে তাড়াতাড়ি শেষ লিখে ফেলেছে। হতে পারে মানুষ আমার জন্য অপেক্ষা করেছে এবং সুযোগ দিয়েছে। আপনার প্রয়োজন সঠিক সুযোগ।
শাহরুখ খান এবং ফারাহ খান আমার মাঝে কিছু দেখেছিলেন। যেটা অন্যরা দেখেনি। তাদের জন্য এতবড় একটা সুযোগ পাওয়া আমার জন্য বিশাল। এটা ছিল দুর্দান্ত সিনেমা। তারা কখনোই আমার স্ক্রিন টেস্ট করাননি। সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খান বলেছিলেন, একটি ছবিতে হিরোইন গুরুত্বপূর্ণ। ওম শান্তি ওম ছবিতে তিনি নতুন শুভ্রতাকে ক্রেডিট দিয়েছেন যেটি আমি এনেছি। এটা আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। এটা সম্পূর্ণই অনুভূতির ব্যাপার।
আপনি কি মনে করেন আপনার প্রতিদ্ব›িদ্বদের পিছনে ফেলতে পেরেছেন?
দীপিকা: আমি জানি আপনি আমাকে বিশ্বাস করবেন না। তবুও বলছি আমি এসব নিয়ে ভাবি না। আমি মনে করি না আমি কারো সাথে প্রতিদ্ব›িদ্বতায় আছি। আমি জানি না অন্যরা কি ফিল্ম করছে, কেমন সফল হচ্ছে তাদের ফিল্ম। আমি শুধু আমার কাজকে ভালো করার চেষ্টা করছি। বিশেষভাবে যেভাবে আমার বছরটা ককটেল দিয়ে শুরু হলো। আমি মনে করি ‘রেস টু’ ‘ককটেল’ থেকে ভালো। ‘ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ ‘রেস টু’ থেক ভালো। আর চেন্নাই এক্সপ্রেস সবগুলো থেকেই ভালো।
সম্প্রতি আপনি বলেছেন সফলতার সাথে সমীকরণ বদলে যায়ৃ
দীপিকা: ঠিক তাই। নতুন কিছু নতুন ঝোঁক নিয়ে আসে। সফলতা কিছু মানুষকে কাছে আনে আর কিছু মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়। কিছু মানুষ আপনার পাশে দাড়াবে আর কিছু মানুষ আপনাকে টেনে ধরবে।
আপনি কি এখন মানুষকে চিনতে সক্ষম?
দীপিকা: আমি বিশ্বাসকরি খুব সহজভাবেইৃ।
আপনি কি কখনো চিনতে ভুল করেছিলেন?
দীপিকা: হ্যাঁ। আমি ভুলভাবে বিচার করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি জানি এটা আমার নিজের বিচার। আবার আমি কখনোই একজন মানুষকে বিচার করবো না তাকে অন্যরা যেভাবে মূল্যায়ন করে। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই বিচার করব। মানুষ আমাকে কী বলল এটির ওপর ভিত্তি করে নয়।
ফারাহ খানের হ্যাপি নিউ ইয়ারে শাহরুখ খানের বিপরীতে সাইন করলেন। জীবনটা কি পূর্ণতা পেল?
দীপিকা: হ্যাঁ তাই। আমি সবসময় তাদের ব্যাপারে নিঃসন্দেহ ছিলাম। তারা আমাকে অনেক দিয়েছেন। শাহরুখ এবং ফারাহ খানের সঙ্গে মেশাটা আমার জন্য আবেগীয় অভিজ্ঞতা। তাদের কাছে আমি নিরাপদ বোধ করি। যখন আমি শাহরুখে পাশে থাকি যেমন চেন্নাই এক্সপ্রেস-এর প্রমোশনের সময়, আমি তখন নিজেকে সুরক্ষিত বোধ করেছি। আমার মনে হয় কোনোকিছু নিয়ে আমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
সর্বশেষ কবে আপনি একজন অভিনেত্রী হিসেবে অনিরাপদ বোধ করেছেন?
দীপিকা: আমি সবসময়ই অনিরাপদ বোধ করি।
সত্যিৃ?
দীপিকা: হ্যাঁ।কিন্তু আমি অনিরাপদ অন্যের কাছে নই। নিজের কাছেই।অন্যরা কী বলছে বা করছে এ নিয়ে আমি কখনোই ভয় পাইনি।আমার নিজেকে নিয়ে নিজের মাঝেই নিরাপত্তাহীনতা।আমি কী আমার সর্বোচ্চ দিতে পারছি,আমি যা করছি মানুষ কি ভালোভাবে নিচ্ছে,আমি কী ভালো করছি? সবই আমার নিজের সাথে সম্পর্কিত।এর বড় অংশই এসেছে আমি যেভাবে বড় হয়ে উঠেছি এবং আমি আমার বাবার কাছ থেকে যা কিছু শিখেছি তা থেকে।(দীপিকা’র বাবা ভারতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন প্রকাশ পাড়-কোন)।
কোন মানুষের সঙ্গে আপনি আবারো কাজ করতে চান?
দীপিকা: যখন আমি ভাবি যে আমাকে মানুষ ভালো হিসেবে জানবে তখন আমি একজন ভালো মানুষ হওয়ার কথাই চিন্তা করি। আমি বিশ্বাস করি যাদের সঙ্গে আমি সিনেমায় ভালো কিছু করতে পেরেছি তারা আমার সঙ্গে আবার কাজ করতে চাইবে। অবশ্যই, তখনই আপনার জন্য পথচলাটা আনন্দের হবে যখন তারা আপনার জন্য তেমনই করবে।
মানুষ আপনার আর রণবীর কাপুর জুটিকে পর্দার দশকসেরা জুটির খেতাব দিয়েছে..?
দীপিকা: পর্দার জুটিকে দর্শক পছন্দ করলে সবসময়ই ভালো লাগে। আমি খুশি যে রণবীর এবং আমি সেটা করতে পেরেছি। আমি মনে করি ছবিতে আমাদের চরিত্র এবং পুরো ছবিটা ভালো হওয়ার কারণে। এছাড়া আমাদের বন্ধু অয়ন (অয়ন মুখার্জি) ছবিটি পরিচালনা করেছে সেটাও সাহায্য করেছে। সে আমাদের মধ্য থেকে সেরাটা বের করে এনেছে। আমি আনন্দিত যে রণবীরের সঙ্গে আমার এমন সমীকরণ হয়েছে। সে এমন একজন যাকে আমি জীবনের মতো বিশ্বাস করি।
সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা কি সম্ভব। তার সঙ্গে থাকার সময় কি অতীত পিছু টেনে ধরে না?
দীপিকা: আমাদের ক্ষেত্রে না। আমি জানি না অন্যদের ক্ষেত্রে কি হয়। তারা কি বন্ধু হতে পারে কি পারে না। কিন্তু আমরা পেরেছি। যেভাবে এখন চলছে এমনটা ভেবেচিন্তে করিনি। আমি খুশি যে আজ আমরা সুবিধাজনক একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে। যেখানে সবাই আমাদের পছন্দ করছে এবং আমাদের সামনের দিকে তাকাতে দিচ্ছে। আমরা দু’জন এতটাই স্বাচ্ছন্দ্য যে মানুষ আগে ভাবতেই পারেনি। কিছু সমীকরণ অন্যরকম অর্থ বহন করে। এটা এমনই বিশেষ যেটা অন্যরা বুঝবে না।
গুজব আছে রণবীরের সঙ্গে আপনার বন্ধুত্বের চাইতে বেশি কিছু আছে?
দীপিকা: আমরা আমাদের বর্তমান অবস্থানকে সম্মান করি। এটা নিয়ে অনেক বেশি জিজ্ঞেস করা বিষয়টাকে অস্বস্তিকর করে তোলে। যেমন আমরা যেভাবে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া নিয়ে চলছি মানুষ বুঝতেও পারে নাও পারে। এটা নিয়ে ঘুরে ফিরে বারবার কিছু না কিছু বলা মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক।
বলা হয়ে থাকে, রণবীর আপনার কাছে আবার ফিরে আসবে। আপনি কি মনে করেন?
দীপিকা: আমরা যেখানে আছি এর চেয়ে ভালো কিছু হতে পারে না। আর বর্তমান সময়ে আমাদের মধ্যে যতটুকু সম্পর্ক আছে আমি তা হারাতে চাই না। এটাই ভালো অবস্থান। আমি বিশ্বাস করি মানুষের এমন ধারণা চলে যাবে।
এবার রামলীলা নিয়ে বলুন। সঞ্জয় লীলা বানসালীকে বলা হয় কাজের মানুষ। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
দীপিকা: সঞ্জয় লীলা বানসালীর সঙ্গে কাজ করাটা স্বাধীনতার অভিজ্ঞতা। সে তার অভিনেতাদের ইচ্ছেমতো কাজ করতে দেন। শুটিংয়ের আগে আপনি তিন ঘণ্টা রিহার্সাল করতে চান? ওকে। তিনি আপনাকে যথেষ্ট বিশ্রাম দেবেন। একজন পরিচালক হিসেবে বেশ সুবিধা দেন। সময় হোক কি জায়গা হোক। তিনি আপনাকে ভাবাবেন যে আপনিই হতে পারেন সেরা অভিনেতা। তার অভিনয়শিল্পীদের তিনি পুরোটাই বোঝেন।
একজন অভিনেতা যা করতে চান তার পেছনের যুক্তি তিনি দেখেন। তার কাছে কোনো কিছুই ভুল নয়। তার সঙ্গে কাজ করা অনেকটা একটা ছবি আঁকার মতো। তার জীবন এবং নিঃশ্বাস হলো সিনেমা।
এবার রণবীর সিংয়ের প্রসঙ্গে আসি। আপনাদের দু’জনকে ইদানীং প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায়। অনেকেই এ নিয়ে জল্পনা করছে?
দীপিকা: মানুষ আমাকে আর রণবীর সিংকে নিয়ে কিছু চিন্তা করেছে, করছে। কিন্তু তাদের এই জল্পনা নিয়ে ভাবনার বেশ কিছু ভালো ইতিবাচকতা আছে আমার জন্য।
একজন সহ অভিনেতা হিসেবে তাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
দীপিকা: খুবই ইতিবাচক এবং আনন্দাদায়ক। সে খুব সূক্ষ¥ অনুভূতিশীল। সে সবসময় তার মজার দিকটাই উপস্থাপন করে। এটার বাইরে সে মানুষের কথা নিয়ে খুব সংবেদনশীল। এটা এমন এক সুন্দর গুণ, যেখানে একদম স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে। সে সত্যিই এক সংকোচহীন সংস্কারহীন একজন মানুষ। তার সঙ্গে মেশাটা বেশ সুন্দর।
অতীত অভিজ্ঞতার কারণে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে সম্পর্ক নিয়ে আর কথা বলবেন না?
দীপিকা: এটা অতীত থেকে শেখার কোনো বিষয় নয়। এর সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক নেই। কারণটা আমি নিজেই। আমি কোনো সম্পর্কে জড়ানোর জন্য প্রস্তুত নই। সুতরাং এখানে সত্যি অর্থে বলার কিছু নেই। আমি আবেগীয় বা মানসিক কোনোভাবেই এখন কোন সম্পর্কে জড়াতে প্রস্তুত নই।
রণবীর সিং এবং রণবীর কাপুর দু’জনই যদি আপনাকে লিফট দিতে চায়, তবে কে জিতবে?
দীপিকা: বলা কঠিন। দু’জনই অসাধারণ নাচিয়ে। (হাসি)
ঠিক আছে। যদি আনুশকা এবং ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে একসাথে কোথাও যান?
দীপিকা: (হাসতে হাসতে) আমরা তিনজন যদি একসাথে থাকি তবে মনে হয় তিনজনই ভালো খাবার রান্না করব আর আমাদের বাকি বন্ধুদের ডেকে আনব।
সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গ করা নিয়ে আপনি কী ভাবেন?
দীপিকা: আমি সবসময় একজনের প্রতিই বিশ্বাসী। সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গ ব্যাপারটা অগ্রহণযোগ্য। আমি খুবই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এবং রক্ষণশীল এসব ব্যাপারে। সম্পর্কের ব্যাপারে আমি খুবই রক্ষণশীল।
রূপকথা বা হ্যাপি এন্ডিংয়ে বিশ্বাস করেন?
দীপিকা: হ্যাঁ। আমি মনে করি যদি আমি সুখী থাকতে চাই, আমি সুখী হতে পারব। এটা আপনি জীবনে পাওয়া সুযোগকে কীভাবে কীভাবে নিয়েছেন, কাজে লাগিয়েছেন বা গ্রহণ করেছেন তার ওপর নির্ভর করবে।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রি এখন কতটা কঠিন?
দীপিকা: এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমি বেশ কিছু ভলো মানুষের সঙ্গে মিশেছি। যারা সত্যিকারের মানুষ। একজন বহিরাগত হিসেবে সবাই আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। আমাকে তাদের একজন করেই ভেবেছে। আমার কখনোই মনে হয়নি আমি বহিরাগত। আমি বিশ্বাস করি আপনি যদি ভালো হন মানুষও আপনাকে ভালোভাবেই নেবে। এটার অনেক ভালোদিক আছে। যেমনটি আমি আমার প্রথম চলচ্চিত্রে পেয়েছি। আমি নিরাপদ বোধ করেছি।
এমন কিছু কি আছে যাতে মনে হয় আরো ভালো হতে পারত?
দীপিকা: আমার মনে হয়,আমি যদি মানুষের সাথে কথা বলায় আরো ভালো হতাম।দীর্ঘ সময় কথা বলায় আমি একদম অপটু। আমার ইচ্ছে হয়,মানুষের প্রশংসা যদি ভালোভাবে হ্যান্ডেল করতে পারতাম।কেউ যখন আমার প্রশংসা করে আমি তাকে ধন্যবাদ দিতে ভুলে যাই।আমি ভালো ধন্যবাদ গ্রহীতা নই আবার দিতেও পারি না।কিন্তু আশা করছি অচিরেই এটা ঠিক হয়ে যাবে।
কোনো অপূর্ণ আশা আছে?
দীপিকা: আমার অপূর্ণতা যদি আমি যশজির (যশ চোপড়া) সঙ্গে কাজ করতে পারতাম। তিনি আমাকে ভালোবাসতেন। আর আমিও। তার সঙ্গে যদি একটা ছবি অন্তত করতে পারতাম!