April 21, 2026
ঢাকা: চলতি মাসেই ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পরীক্ষামূলক সঞ্চালন শুরু হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে আমদানি শুরু হবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে।
বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী আলমগীর হোসেন।
চৌধুরী আলমগীর হোসেন জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে টেস্টিং শুরু হচ্ছে। আর ২৭ সেপ্টেম্বর ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্য দিয়ে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আসবে। পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বৃদ্ধি করে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিদ্যুতের পরিমাণ ২৫০ মেগাওয়াটে উত্তীর্ণ করা হবে।
তিনি জানান, পরীক্ষামূলক সঞ্চালনের সময়ে প্রাপ্ত বিদ্যুতের দাম আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে পিডিবি ও ভারত সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানির (এনটিপিসি) মধ্যে একটি পৃথক বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তিও করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং অথবা ভারতীয় প্রতিনিধির উপস্থিতিতে অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে চায় ঢাকা।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অথবা তাদের প্রতিনিধির সূচি পাওয়া গেলেই তারিখ চূড়ান্ত করা হবে বলে চৌধুরী আলমগীর হোসেন জানান।
এদিকে, একই দিনে রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে পিডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, ভারত থেকে মোট ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। এরমধ্যে ভারতের রাষ্ট্রীয়খাত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট এবং বেসরকারিখাত থেকে কেনা হবে আরো ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। রাষ্ট্রীয়খাতের বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য ইতোমধ্যেই ২৫ বছরের ক্রয়চুক্তি করা হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ রেগুলেটরি কমিশনের (সিইআরসি) নির্ধারিত দামে সরকারি অংশের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। অন্য ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ভারতের পাওয়ার ট্রেডিং কর্পোরেশন (পিটিসি) এর দরপ্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম পড়বে ছয় টাকা ৩৪ পয়সা। এরসঙ্গে ভারত এবং বাংলাদেশ অংশের হুইলিং চার্জ যুক্ত হবে।
তবে ভারত সরকারের দেওয়া বিদ্যুতের দাম কত হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি কেউই। পিজিসিবি এমডি বাংলানিউজকে জানান বিষয়টি তার জানা নেই। পিডিবি ভালো বলতে পারবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব তাপস কুমার রায় বলেন, চলতি মাসেই পরীক্ষামূলক সঞ্চালন শুরু হবে। তবে কত দর সে বিষয়ে আমার ভালো জানা নেই।
এর আগে বিদ্যুতের দামের বিষয়ে পিডিবি জানিয়েছিল, যেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে সেই কেন্দ্রের উৎপাদন খরচ হিসেবে মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ২ দশমিক ৮০ ভারতীয় রুপি ধরা হতে পারে বলে সে সময় ধারণা দেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে প্রতি ইউনিটের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসেবে আরও ২০ পয়সা করার ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ দশমিক ৮০ টাকা।
এদিকে, মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ যেকোনো প্রক্রিয়ায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আনতে চায়। এ কারণে দামের বিষয়টি নির্ধারণ না করেই বিদ্যুৎ আনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। এ লক্ষে ২০১০ সালে ভারতের বহরমপুর ও বাংলাদেশের ভেড়ামারায় সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০১২ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বিদ্যুৎ আমদানি করার কথা ছিল।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ২৭৭ কোটি এবং পিজিসিবির তহবিল থেকে ১০১ কোটি টাকা ব্যয় নির্বাহের সিদ্ধান্ত হয়। তবে প্রকল্প সময়মত শেষ করতে না পারায় দুই বছরে ব্যয় প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৫০১ কোটি টাকা।