April 4, 2026
ব্রাহ্মণভাড়িয়া: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড মোড় এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের ‘বেপরোয়া’ চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, বিশ্বরোড খাটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট মো, হানিফ মিয়া ও এস আই নজরুল ইসলাম এখানে মহাবাণিজ্য শুরু করেছে। তারা মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের গতিরোধ করে কাগজপত্র চেকের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজিসহ রেজিস্টেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা আটক করে প্রত্যেক মালিকের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করছে।
মো, হানিফ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আগে এই ফাঁড়িতে যে সার্জেন্ট দায়িত্বে ছিলেন তিনি বিভিন্ন সময়ে গাড়ি আটক করে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিতেন। অনেকে তদবির করেও তার কাছ থেকে গাড়ি ছাড়িয়ে নিতেন। বর্তমানে এখানে এ অনিয়মটি চালু নেই। এখন গাড়ি আটকের পর মামলা দেয়া হয়। তাই অনেকে ক্ষোভে এ ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে।
জয়-পূজা এন্টারপ্রাইজ নামে সিএনজি অটোরিকশার মালিক চন্দন দেব জানান, গত শুক্রবার তার অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার শিকার হলে বিশ্বরোড হাইওয়ে পুলিশ এটিকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। পরে ১৬ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে হয়েছে।
আজিজুল হাকিম-২ এন্টারপ্রাইজ নামে সিএনজি অটোরিকশার মালিক মো. আজিজুল হাকিম জানান, কয়েকদিন আগে তার অটোরিকশাটি হাইওয়ে পুলিশ আটক করে। মামলার ভয় দেখিয়ে পাঁচ হাজার টাকা নেয় পুলিশ। পরিবহন শ্রমিক মো. কালাম মিয়া, সারোয়ার মিয়া, কালন মিয়াসহ অনেকে জানান, বিশ্বরোড হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজিতে শ্রমিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মহাসড়কে চলাচলকারী মালবাহী প্রত্যেক যান থেকে পুলিশ ২০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। পুলিশের পাশাপাশি তাদের কয়েকজন সোর্স এসব গাড়ি থামিয়ে টাকা নেয়। টাকা না দিলে মামলাসহ নানা হয়রানির হুমকি দেয় পুলিশ।
তারা জানান, এখানকার সড়কে চলাচলকারী রেজিস্টেশনবিহীন অনেক সিএনজি অটোরিকশার মালিক প্রতিমাসে হাইওয়ে পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে হয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশ টোকেন-এর ব্যবস্থা চালু করেছে। যারা পুলিশকে টাকা দিয়ে টোকেন নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সময়ে তাদের অটোরিকশা আটকের পর কৌশলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে হাইওয়ে পুলিশ।
সরাইল উপজেলা সিএনজি অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. ওয়াসিদ আলী জানান, মহাসড়ক থেকে প্রতিদিন আট/১০টি অটোরিকশা হাইওয়ে পুলিশ আটক করে প্রত্যেক মালিকের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করে নেয়। দুর্ঘটনার শিকার গাড়ি এ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ছাড়িয়ে আনতে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়।
তিনি জানান, এ জেলায় রেজিস্টেশনবিহীন প্রায় আট হাজার সিএনজি অটোরিকশা আছে। সরকারের রাজস্ব দিয়ে এসব গাড়ির রেজিস্টেশন করাতে মালিকরা ইচ্ছুক। রেজিস্টেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সুযোগে হাইওয়ে পুলিশ নানা কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।