April 29, 2026
মেহেদী হাসান বাবু: চলচ্চিত্রের একজন খল নায়িকা হিসেবেই বেশি পরিচিত রীনা খান। কিন্তু বাস্তব জীবনে রীনা খান সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রাণবন্ত বিনয়ী একজন মানুষ। সত্তর দশকে সাইক্লিং-এ গোল্ড মেডেল পাওয়া রীনা খান অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবেন এটা ভাবেননি কখনো।
অনেকটা হঠাৎ করেই সুভাষ দত্তের নির্দেশনায় ‘সোহাগ মিলন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে তার সম্পৃক্ততা ঘটে। এই চলচ্চিত্রে একজন পাহাড়ী মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। এটি ১৯৮২ সালের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র। সেই সময় তিনি বাজাজ’র বিজ্ঞাপনেও মডেল হিসেবে কাজ করেছিলেন।
১৯৮২ সালেই সুভাষ দত্তেরই ‘সবুজ সাথী’ চলচ্চিত্রে প্রথম সৎ বোনের চরিত্রে অভিনয় করে নেগেটিভ চরিত্রে অর্থাৎ খল চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। পরের বছর কাজী নূরুল হকের নির্দেশনায় ‘মেঘ বিজলী বাদল’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়েও আলোচনায় আসেন রীনা খান। এরপর একে একে ‘মান সম্মান’, ‘সাহেব’, ‘তাসের ঘর’,মহানায়ক’, ‘মায়ের দোয়া’, ‘সুদ আসল’, ‘প্রেম যমুনা’, ‘বউ শ্বাশুড়ির যুদ্ধ’, ‘দজ্জাল শ্বাশুড়ি’, ‘আমার সংসার’ ,সংসারের সুখ দুঃখ’, ‘বাংলার বউ’, ‘রিক্সাওয়ালার প্রেম’সহ ছয় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘সাক্ষাৎ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ‘বাচসাস’ পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। রীনা খান বলেন,‘ আমি ভীষণ গর্ববোধ করি একজন চলচ্চিত্রাভিনেত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে। অভিনয় আমার নেশা, পেশা দুটোই।
আজীবন অভিনয়ই করতে চাই। কারণ অভিনয়ই আমাকে একজন রীনা খান হিসেবে ব্যাপক খ্যাতি আর সম্মান এনে দিয়েছে।’ মাদারীপুরের কালকিনির মেয়ে সেলিনা সুলতানা চলচ্চিত্রে এসে সুভাষ দত্তের দেয়া নাম নিয়ে হয়ে যান রীনা খান। দুই ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে সবার বড় রীনা খান। রীনা খান শান্তু ও অন্তুও গর্বিত মা। অতি সম্প্রতি তিনি ‘পীর মা’র কিচ্ছা’ নামে একটি ধারাবাহিক নাটক নির্মাণ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে এটি ‘তাল বেতাল’ নামে মোহনা টিভিতে প্রচার হয়।