May 6, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : এখন ২০১৪ সালের শেষ লগ্ন। ২০৪৮ সালের মধ্যেই পৃথিবীর সব সমুদ্র মাছ শূন্য হয়ে যাবে। এমনটাই অনুমান করছেন আন্তর্জাতিক ইকোলজিস্ট ও ইকোনমিস্ট গবেষকরা। তাদের মতে, দূষণ, বাসস্থান ধ্বংস, আবহাওয়া পরিবর্তন এবং ওভারফিসিং-এর কোপে পড়ে পৃথিবী থেকে চিরতরে লুপ্ত হয়ে যাবে সামুদ্রিক বা নোনা জলের মাছদের প্রজাতি। এখনই তার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। হ্যালিফক্সের ডালহাউসি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী বরিস ওয়ার্মের নেতৃত্বাধীন এই
গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন ও পানামার বহু গবেষক। গবেষকরা জানান, তারা যা অনুমান করেছিলেন লাগাতার গবেষণার ফলে বুঝতে পেরেছেন বাস্তবটা আরও ভয়ঙ্কর। যে হারে সামুদ্রিক মাছের বিভিন্ন প্রজাতিগুলি বিলুপ্ত হচ্ছে, তা রীতিমত ভয়াবহ। ধীরগতিতে নয়, বরং এই ধ্বংসলীলা চলছে ভীষণ দ্রুততার সঙ্গে। ইতিমধ্যেই ২৯% খাদ্যযোগ্য সামুদ্রিক মাছের প্রজাতি হ্রাস পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে সামুদ্রিক মাছের ক্ষেত্রে এই হারটা ৯০%। গবেষকরা জানান, সামুদ্রিক মাছের গুরুত্ব শুধু আমাদের খাবার প্লেটেই শেষ হয়ে যায় না। সামুদ্রিক মাছ জলরাশির বিষাক্ত পদার্থও ফিল্টার করে। শোরলাইন রক্ষা করে। রেড টাইডের মত অ্যালগাম ব্লুম প্রতিরোধ করে। আসলে সামুদ্রিক মাছের অবর্তমানে ধ্বংস হয়ে যাবে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র। দূষণ বাড়বে। সরাসরি প্রভাব ফেলবে মানুষের সভ্যতার উপর। সোজা কথায় মানুষ সভ্যতা, জীবন সরাসরি ধ্বংসের খুব কাছাকাছি চলে আসবে। সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে অত্যাধিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি বাড়িয়ে তুলছে ব্যাপকহারে সমুদ্র দূষণ। এখনই তা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ফলাফলা মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। ভিন্ন ভিন্ন সামুদ্রিক পরিবেশে ৩২ রকমের পরীক্ষা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী জুড়ে ১২টি সামুদ্রিক অঞ্চলের ১,০০০ বছরের ইতিহাসের উপর সমীক্ষা চালিয়েছেন। ৬৪টি বৃহৎ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ফিশারি ডেটা নিয়ে কাজ করেছেন। গবেষকরা জানান, সমস্ত রকম সামুদ্রিক প্রাণ গুরুত্বপূর্ণ। এরা সমুদ্রের বৈচিত্র বেঁচে থাকার রসদ সরবরাহ করে। সমুদ্র তীরবর্তী যে অঞ্চলগুলোতে জীব বৈচিত্র সর্বাধিক, সেই সব অঞ্চল সর্বাপেক্ষা স্বাস্থ্যকর। তবে গবেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন, এখনও খুব দেরি হয়ে যায়নি। এখনই যদি সারা বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক প্রাণীদের রক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে হয়ত টিকে যেতে পারে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র। আর তার সঙ্গেই টিকে যেতে পারে মানব সভ্যতাও।