April 16, 2026
বিশেষ প্রতিনিধি : এ বছরের ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় শুরু হবে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বিনিময়ের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে। দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের ২০১১ সালে যৌথভাবে করা শুমারি অনুযায়ী ছিটমহলবাসীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী নাগরিকত্ব এবং জাতীয়তা লাভের সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে সোমবার রাতে গণমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে এই তথ্য জানান হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে করা ১৯৭৪ সালের চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রটোকল অনুযায়ী, ছিটমহলবাসীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী নাগরিকত্ব ও জাতীয়তা লাভের অধিকার পাবেন। ছিটমহলবাসীরা যে দেশের নাগরিকত্ব লাভ করতে চান, সেই দেশের মূল ভূ-খন্ডে বসবাস করার অধিকার পাবেন। ছিটমহলবাসীদের স্থায়ী সম্পদ স্থানান্তর বা বিক্রি করতে চাইলে (প্রকৃত নথিপত্র অনুযায়ী) সংশ্লিষ্ট দেশের জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা নেবেন। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট জরিপকারী দল মানচিত্রে দুইদেশের সীমানা চিহ্নিত করার কাজ ২০১৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করবে। ছিটমহলবাসীদের সম্পদ স্থানান্তরে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা ২০২০ সাল পর্যন্ত দুই দেশের প্রতিনিধি নিয়ে গঠন করা যৌথ সীমান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ ২০১১ সালের প্রটোকল অনুযায়ী সমাধান করবে।
সদ্য সমাপ্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় ৬ জুন বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ও এস জয়শঙ্কর ছিটমহল বিনিময় সংক্রান্ত নথিপত্র বিনিময় করেন।
নথিপত্রের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল :
ভারত এবং বাংলাদেশ এই মর্মে একমতে সম্মত হয়েছে যে বাংলাদেশের মধ্যে ভারতের যে ছিটমহল রয়েছে এবং বাংলাদেশের যে ছিটমহল ভারতের মধ্যে রয়েছে তা ১৯৭৪ সালের চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রটোকল অনুযায়ী বিনিময় হবে। যা ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
২০১৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের আগে দুই দেশের যৌথ প্রতিনিধি দল ছিটমহল এলাকা পরির্দশন করবেন।
ছিটমহলবাসীদের জাতীয়তা এবং নাগরিকত্ব ১৯৭৪ সালের চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রটকল অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
ছিটমহল এলাকায় বসবাসরতরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী নাগরিকত্ব লাভের অধিকার পাবেন। নাগরিকত্ব লাভের এই অধিকার তারাই পাবেন যাদের নাম ২০১১ সালের জুলাই মাসে দুই দেশের যৌথভাবে করা শুমারি গণনাতে অর্ন্তভূক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ২০১১ সালের শুমারিতে অর্ন্তভূক্তদের পরবর্তী সময়ে প্রসব করা সন্তানরাও এই অধিকার পাবেন।
নিরাপদে এবং সহজে ছিটমহলবাসীদের স্থানান্তর এবং তাদের সম্পদের স্থানান্তরের বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারত সরকার নিশ্চিত করবে।
ছিটমহল থেকে যে সকল অধিবাসী বাংলাদেশ বা ভারতের মূল ভূ-খন্ডে বসবাস করতে চায়, তাদের এই বসবাসের ব্যবস্থা সমাঝোতা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা করবে। যা ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে করতে হবে। এ ক্ষেত্রে হলদিবাড়ি, বুড়িবাড়ি এবং বাঙলাবান্ধা এই সীমান্ত দিয়ে এই প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।
যে কোনো ধরণের সমস্যা ২০১১ সালের প্রটকল অনুযায়ী সমাধান করা হবে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দুই দেশের মানচিত্রও ২০১১ সালের প্রটকল অনুযায়ী সংশোধন করা হবে। মানচিত্রে সীমানা নির্ধারণের কাজ দুই দেশের সরকারি জরিপ বিভাগ ২০১৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করবে।
ছিটমহলবাসীরা ভারত বা বাংলাদেশের মূল ভূ-খন্ডে স্থায়ী সম্পদ হস্তান্তর করতে চাইলে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের আগেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রসাশককে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার নিরাপদে স্থায়ী সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রির ব্যবস্থা করবে।
দুই দেশের যৌথ সীমান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সবকিছু চূড়ান্ত করবে। ২০২০ সাল পর্যন্ত ছিটমহলবাসীদের স্থানান্তর বা এ সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে তা দুই দেশের যৌথ সীমান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ সমাধান করবে।