April 26, 2026
চট্টগ্রাম: ইমরুল কায়েস ও শামসুর রহমানের ক্যারিয়ার সেরা পারফরমেন্সের পর সাকিব আল হাসানের ফিফটিতে ফলো অন এড়াতে সমর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। শেষ বিকেলে অজন্তা মেন্ডিসের জোড়া আঘাতে ব্যাটিং লাইনআপ কিছুটা নড়েচড়ে উঠলেও দুই উইকেট হাতে রাখতে পেরেছে স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিন শেষে আট উইকেটে মুশফিক বাহিনীর প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ ৪০৯ রান।
তৃতীয় দিন শেষে
শ্রীলঙ্কা: প্রথম ইনিংস– ৫৮৭/১০
বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংস– ৪০৯/৮ (১১৫ ওভার)
শ্রীলঙ্কার রানের পাহাড়ে উঠতে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে আরও ১৭৮ রান। এদিন নাসির হোসেন ও মাহমুদউল্লাহর জুটিতে স্বাগতিকরা ফলো অন এড়ায়। কিন্তু এরপরই মেন্ডিসের ঘূর্ণি জাদু। লঙ্কান এই স্পিনারের ২৬তম ওভারে পরপর দুই বলে নাসির ও সোহাগ গাজী সাজঘরে যান। যদিও নাসিরের আউটটি একেবারেই বিতর্কিত। মেন্ডিস হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েও গিয়েছিলেন, আল-আমিনকে এলবিডব্লুর জোরালোর আবেদন করলেও পল রেইফেল সাড়া দেননি। নাসির খেলেন ৪২ রানের ইনিংস।
আল-আমিন নেমে কয়েকটি ঝড়ো শট খেলতে চাইলেও শেষ মুহূর্তে জীবন পান। তিনি অপরাজিত খেলছেন ৩ রানে। অপর প্রান্তে মাহমুদউল্লাহ টিকে আছেন ৩০ রানে।
এর আগে দলীয় ২৩২ রানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে শামসুর রহমানের সাজঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে। পরে ২৭ রানের মধ্যে আরও দুটি উইকেট হারালে বিপদে পড়ে দল। এরপর কনিষ্ঠ আঙ্গুলের চোট নিয়েও হাল ধরতে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। অনবদ্য পারফরমেন্সে আশা জাগানিয়া শামসুর ও ইমরুল অজন্তা মেন্ডিসের ঘূর্ণিতে কাবু হলে সাকিব আল হাসানকে সঙ্গ দিতে নামেন তিনি। ৫৬ বল মোকাবিলা করে ২০ রানে শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা কৌশল সিলভার তালুবন্দি হন মুশফিক।
দিলরুয়ান পেরেরার কাছে আউট হওয়ার আগের বলেই প্রতিপক্ষের জোরালো এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ার স্বাগতিক অধিনায়কের অনুকূলে সাড়া দেন।
এর আগে আচমকা বাংলাদেশি ব্যাটিং লাইন আপে ছোটখাটো ধস নামে। টেস্টে দ্বিতীয় উইকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ জুটি গড়া শামসুর ও ইমরুল সাজঘরে ফেরেন মধ্যাহ্নবিরতির পর। মাঝে আরেক নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। সেট হয়ে যাওয়া ইমরুল দুর্বল একটি শট চোখ বন্ধ করে মারতে গিয়ে বোল্ড হলেন, শুধু তাই নয় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটও পেলেন। অজন্তা মেন্ডিস নিজের দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠালেন। ৩৭ রানে অপরাজিত থাকা সাকিবকে সঙ্গ দিতে নেমেছেন নাসির হোসেন।
এর আগে তৃতীয় দিন শামসুর ৪৫ ও ইমরুল ৩৬ রানে খেলতে নামেন। দলীয় স্কোরবোর্ডে ছিল এক উইকেটের বিনিময়ে ৮৬ রান। দুজনে অভিষেক সেঞ্চুরি পেলেন, একইসঙ্গে গড়লেন ২৩২ রানের অনবদ্য জুটি। দুজনের দারুণ ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশের আশা জেগেছিল ভালো কিছুর। কিন্তু শামসুর ১০৬ রানে মেন্ডিসের কাছে বোল্ড হলে এই জুটি ভাঙে। দলে ২৭ রান যোগ হতে আরও দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মুমিনুল ব্যক্তিগত ১৩ রানে দিলরুয়ান পেরেরার এলবিডব্লুর ফাঁদে পড়েন। ইমরুল থামেন এখন পর্যন্ত ইনিংস সেরা ১১৫ রানে, ১৭টি চার ও এক ছয়ে সাজানো তার ইনিংস।