April 24, 2026
প্রতিবেদক: শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেছেন চিত্রনায়িকা পপি। অসংখ্য সুপারহিট চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই হতাশায় ভুগছেন গুণী এই অভিনেত্রী। তার অভিনীত এবং নারগিস আক্তার পরিচালিত ‘পৌষ মাসের পিরিতি’ ও ‘শর্টকাটে বড়লোক’ এবং জাহিদ হোসেন পরিচালিত ‘লীলামন্থন’ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তি না পাওয়ায় পপি প্রচন্ড হতাশ। আরও দুই ছবি ‘আদরের ভাই’ ও ‘দ্য ডিরেক্টর’ রয়েছে সেন্সর বোর্ডে আটকে। শুরু হচ্ছে না সালমান হায়দারের ‘দেহ’। মুক্তির জন্য প্রস্তুত কাজী হায়াতের ছবি ‘বিয়ে হলো বাসর হলো না’। কিন্তু
মুক্তি পাবে সেটাও সঠিক জানেন না। এ প্রসঙ্গে পপির কথা, “আমি সময় মতো ছবির কাজ শেষ করে দিয়েছি। এখন প্রযোজক পরিবেশক যদি ছবি মুক্তি না দেন তাহলে একজন শিল্পী হিসেবে আমার কিইবা করার আছে। পপি বলেন, আমার দায়িত্ব আমি যথাযথভাবে পালন করেছি। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আমার কোন কিছুই করার নেই।” পপির সুরে আক্ষেপ। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকার সময় যাদের তিনি প্রচণ্ডভাবে সহযোগিতা করেছেন তারাই প্রয়োজনের সময় রহস্যজনক কারণে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। পপি বলেন, “এসব চলচ্চিত্রের অনেকেই জানেন। ক্যারিয়ারের দেড় যুগ পার করে আমি তা নতুন করে কিছু বলতে চাই না। শুধু একটা কথাই বলতে চাই, আমি অভিনেত্রী হিসেবে যোগ্যতা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছি। জনপ্রিয়তা, দর্শক ভালবাসা সবই পেয়েছি। যতদিন অভিনয় করবো আমার বিশ্বাস এসব পাবোই।”
১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের ‘কুলি’ ছবির মাধ্যমে পপি চলচ্চিত্রে ঝড় তুলেছিলেন। হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে। ফলশ্রুতিতে অল্প সময়ের মধ্যে নাম্বার ওয়ান নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে চালে যান তিনি। পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ‘কারাগার’, ‘মেঘের কোলে রোদ’ এবং ‘গঙ্গাযাত্রা’ ছবিতে। জনপ্রিয়তা স্বীকৃতি ইত্যাদি মিলিয়ে পপি দেশের সেরা চার নায়িকার একজন হয়ে ওঠেন। এখনও চলচ্চিত্রের নায়িকা বলতেই মৌসুমী, শাবনূরের পরে এবং পূর্ণিমার আগে চলে আসে পপির নাম। ভাল ছবির নায়িকা বলতেও পপি। তারপর কেবলমাত্র ছবি মুক্তি না পাওয়ার কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে অন্যতম সেরা এই নায়িকাকে।
ছবিগুলো মুক্তি পেলে অনিশ্চয়তা কাটার পাশাপাশি অভিনেত্রী হিসেবে পপি নিজের সুনাম সমৃদ্ধ করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।