April 16, 2026
বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক
স্মার্টফোনের হাত ধরে আসছে নতুন মহামারীঢাকা: মানুষের মাথার ওজন বড় জোর ১২ থেকে ১৪ পাউন্ড। মেরুদণ্ড অনায়াসে এ ওজন বইতে পারে। কিন্তু একটু ঝুঁকে যখন সামনে তাকানো হয় তখন মেরুদণ্ডের (কার্ভিকাল স্পাইন) চাপ বাড়তে থাকে। যেমন: ১৫ ডিগ্রি বাঁকালে চাপ পড়ে ২৭ পাউন্ড, ৩০ ডিগ্রির জন্য ৪০ পাউন্ড, ৪৫ ডিগ্রির জন্য ৪৯ পাউন্ড আর ৬০ ডিগ্রির জন্য ৬০ পাউন্ড।
এই অতিরিক্ত চাপ পড়ছে মূলত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ঘাড়ে বা ঘাড় থেকে মাথা পর্যন্ত মেরুদণ্ডে। প্রতিদিন এভাবে অতিরিক্ত ভার বহন করার ফলে দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে বর্তমান প্রজন্ম।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের গবেষক কেনেথ হ্যান্সরাজের নেতৃত্বে পরিচালিত এ গবেষণা প্রতিবেদন আগামী মাসে সার্জিক্যাল টেকনোলজি ইন্টারন্যাশনাল সাময়িকীতে প্রকাশিত হবে।
স্মার্টফোনের হাত ধরে আসছে নতুন মহামারীগবেষকরা স্মার্টফোনে স্ক্রিনের দিকে এভাবে ঝুঁকে থাকার প্রবণতার কারণে বাঁকানো ঘাড়কে বলছেন টেক্সট নেক (text neck)। তারা বলছেন, এই অভ্যাসের ফলে মানুষের মেরুদণ্ডে চিড় ধরে যেতে পারে, বিকৃত হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার ছাড়া হয়ত কোনো উপায় থাকবে না।
হ্যান্সরাজ বলেন, ‘এটা একটা মহামারী। তা না হলেও অন্তত খুবই কমন একটা সমস্যা বলা যেতে পারে। একটু চারপাশে তাকান দেখবেন কতো মানুষ ঘাড় ঝুঁকে একটা ছোট্ট ডিভাইসের দিকে কেমন ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে আছে।’
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, অনুমান করুন আপনার ঘাড়ে ৬০ পাউন্ডের একটি বোঝা। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা আপনি এই বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন। বেশিরভাগ মানুষই দৈনিক গড়ে ২-৪ ঘণ্টা এভাবে ব্যয় করে। অর্থাৎ বছরে ৭০০ থেকে ১৪০০ ঘণ্টা মানুষ তার মেরুদণ্ডের উপর অত্যধিক চাপ প্রয়োগ করে।
আর এই সমস্যাটা তরুণদের মধ্যে অত্যন্ত প্রবল। ফলে এই নতুন প্রজন্মকে নিয়েই যতো আশঙ্কা।
তবে এ সমস্যা এড়ানোর জন্য কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তারা:
১. ঝুঁকে না পড়ে বরং চোখটাই নিচু করে ডিভাইসের দিকে তাকান। তাতে ঘাড় বাঁকানোর প্রয়োজন হবে না।
২. হালকা ব্যয়াম করুন। মাথাটা ডান-বাম ও সামনে-পেছনে মাঝে মাঝে নাড়ান। হাতের উপর মাথাটা হেলে রাখনু আর হাত দিয়ে বিপরীত দিকে চাপ দিন। দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে দুই হাত প্রসারিত করে চৌকাঠ ধরুন এবং বুকটা সামনে বাড়িয়ে দিয়ে পেশীতে চাপ দিন। এভাবে অভ্যাস করলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যায় পড়তে হবে না বলে আশা করা যায়।