পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

স্মার্টফোনের লোভে দেহ ব্যবসা !

Posted on May 26, 2015 | in আন্তর্জাতিক | by

386168774_640নিউজ ডেস্ক : ইচ্ছাপূরণ করতে রোজগারের জন্য দেহ ব্যবসায় নামল ১৩ বছরের এক কিশোরী। শুধু তাই নয়, এর জন্য কোনও অনুতাপের ধার ধারল না কিশোরী।

বন্ধুদের হাতে প্রায়ই দেখা যায় ঝাঁ-চকচকে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ। লোভ হলেও অভাবের সংসারে শখ মেটানো দায়। তাই বছর খানেক আগে যৌন ব্যবসায় নামে ভারতের ভদোদরার বাসিন্দা এই কিশোরী।

পরিবারের অজান্তে স্বেচ্ছায় দিনের পর দিন বিভিন্ন পুরুষের শয্যাসঙ্গী হয় সে। কয়েক মাস পর ঘটে অঘটন। নিজেকে গর্ভবতী আবিষ্কার করে অবশেষে মায়ের কাছে বিস্তারিত জানায় সে। তবে মা অনেক বোঝালেও পেশা ছাড়তে অস্বীকার করে কিশোরী। মেয়েকে সুপথে ফেরাতে বাধ্য হয়ে মনোবিদের সাহায্য প্রার্থনা করেন ওই মহিলা।

মধ্যবিত্ত পরিবারটির আদিবাস আনন্দ শহরে। বছর বারো আগে নিঃসন্তান দম্পতি শিশুকন্যাকে দত্তক নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁরা ভদোদরার সুভানপুরা অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন। তিন বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর পারিবারিক আয়ের উত্ৎ মুদির দোকান চালানোর ভার বর্তায় মধ্যবয়সী মহিলার ওপর। এদিকে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চড়তে শুরু করে মেয়ের মেজাজ। এক সময় তাকে আনন্দে মামার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে বেশি দিন সে টেকেনি। আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে পের ভদোদরায় ফিরে আসে সে।

এর পর শহরের স্বচ্ছল পরিবারের কিছু ছেলেমেয়ের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। তাদের কাছে স্মার্টফোন দেখে লোভ হয়। অথচ পরিবারের সেই আর্থিক সংস্থান না থাকায় প্রথমে মুষড়ে পড়েছিল কিশোরী। কিছু দিন পর টাকা রোজগারের নয়া রাস্তা খুঁজে পায় সে। গণিকাবৃত্তি করে রাতারাতি মোটা আয় শুরু করে, তবে সব কিছুই মায়ের অজান্তে। সারা দিন দোকানে ব্যস্ত মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্জন বাড়িতে নিয়মিত গ্রাহকদের আমন্ত্রণ জানাতে শুরু করে মেয়ে। দেহ ব্যবসার কাজে দ্বিতীয় একটি মোবাইল ফোন কিনে ফেলেছিল সে, তবে প্রকাশ্যে তা ব্যবহার করত না।

কিশোরীর চিকিৎসা করতে এসে প্রথমে হতবাক হন মনোবিদ। অর্থ উপার্জনের জন্য এই পথ যে অনৈতিক ও বেআইনি, তা কিছুতে মানতে চায়নি সে। কোনও বিবেকের দংশনেও ভোগেনি। তবু হাল না ছেড়ে চেষ্টা চালিয়ে যান তাঁরা। চিকিত্সাকরা লক্ষ্য করেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর মা-মেয়ের সম্পর্কে ফাটল ধরে। উপার্জনের জন্য দোকান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে মেয়ের থেকে নজর সরে যায় মায়ের। আর সেই সুযোগে বেপথু হয় কিশোরী।’
মনোবিদরা মনে করেন, ইদানীং বাজার ছেয়ে ফেলা অজস্র স্মার্টফোন উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের আকৃষ্ট করছে। লোভের ফাঁদে পা দিয়ে তাদের অনেকেই নানা অপরাধ ও অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সমস্যার সমাধানে পারিবারিক নজরদারিকেই গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। সূত্র ইন্টারনেট।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud