পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

সোমবার মঞ্জুর হত্যা মামলার রায় অনিশ্চিত

Posted on February 9, 2014 | in জাতীয় | by

Untitled-1ঢাকা : হত্যাকাণ্ডের ৩৩ বছর পর বহুল আলোচিত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলার রায় সোমবার ঘোষণা করার কথা থাকলেও ওই আদালতের বিচারক বদলি হওয়ায় মামলার রায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আসাদুজ্জামান খান রচি   বলেন, যেহেতু নতুন বিচারক আসছেন সুতরাং মামলার নথিপত্র উপলব্ধি করার স্বার্থে আবারও যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করা লাগতে পারে। “সুতরাং নতুন বিচারক সিদ্ধান্ত নিবেন কবে রায় হবে, তবে নির্দিষ্ট তারিখে রায় অনিশ্চিত।”

এ বিষয়ে ক্রিমিনাল আইন বিশেষজ্ঞ ও দুদকের প্রধান আইনজীবী মোশাররাফ হোসেন কাজল বলেন, যেহেতু আগের বিচারক যুক্তি-তর্ক শেষে সব দলিলপত্র লিপিবদ্ধ করে গেছেন এবং বর্তমান বিচারকের মামলা সর্ম্পকে ধারণা নেই তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রথা অনুযায়ী আবারও যুক্তি-তর্ক শোনা জরুরি। “তাই বিচারক সোমবার এজলাশে বসে দিন ধার্য করবেন কবে রায় ঘোষণা করা হবে”, যোগ করেন মোশাররাফ হোসেন কাজল। ঢাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের নতুন নিয়োগকৃত বিচারক খন্দকার হাসান মাহমুদ ফিরোজ সোমবার এ এজলাশে বসার কথা রয়েছে।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২২ জন বিচারক বদলি হয়েছেন। সর্বশেষ বিচারক হোসনে আরা আক্তার গত ২২ জানুয়ারি মামলার আনু্ষ্ঠানিক যুক্তি-তর্ক শেষ করে উপস্থিত আইনজীবীদের ‌উল্লেখ করে বলেন, এ মামলায় অনেক বিচারক বিভিন্ন সময়ে বিচারকাজ করছে। আমি আশা করছি আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় ঘোষণা করতে পারব।

তবে বদলির নির্দেশ আসায় বিচারক হোসেনে আরা আক্তারের আশা আর পূরণ হলো না। গত ২২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম  সমাপ্ত করে বিচারক হোসনে আরা আক্তার সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। রায় ঘোষণার আগ মুহূর্তে বিচারক বদলি হওয়ায় রায় ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ মামলার প্রধান আসামি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ এবং বাকি দুই আসামি মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভুইঞা।

মামলার চার্যশিটভুক্ত অপর দুই আসামি মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শমসেরের   বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত আছে। মোট ৪৯ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত এই মামলায় ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২০১২ সালের ২ অক্টোবর আত্মপক্ষ সমর্থন করে  নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এরশাদ। এর সমর্থনে আদালতে লিখিত বক্তব্যও দাখিল করেন তিনি।

গত ২২ জানুয়ারি সকাল ১১ টায় আসামি এরশাদ সরকারের প্রটোকলসহ পতাকাবাহী গাড়িতে করে আদালতে উপস্থিত হন। এসময় তার ছোট ভাই জিএম কাদেরও সঙ্গে ছিল। তবে এ মামলার প্রতিটা হাজিরায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে দেখা গেলেও ‌ওইদিন তাকে এরশাদের সঙ্গে দেখা যায় নি।

যুক্তি তর্ক উপস্থাপন শেষে সাবেক বিচারক হোসনে আরা আক্তার উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে বলেন,‘ন্যায় বিচার দেওয়ার মালিক আল্লাহ, আমি কেবল সাধ্যমত চেষ্টা করতে পারি এর বাইরে করার কিছু নেই। দীর্ঘ ১৯ বছর মামলাটি বিভিন্ন কারণে ঝুলে আছে। আমি সহ মোট ২২জন বিচারক বিভিন্ন মেয়াদে এই মামলার বিচারিক কার্যক্র নিয়োজিত ছিলাম, আমি আশা রাখছি এবার আমি রায়টি ঘোষণা করতে পারব’।

কোনো এক পর্য়ায়ে বিচারক উপস্থিত তিন আসামির দিকে লক্ষ্য করে বলেন,‘এ মামলায় দুই আসামির বিচার কাজ হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত আছে বাকি তিন আসামির শাস্তি সমান হবে সেহেতু একটু সময় নিয়েই রায় দিতে হবে।অপরতিকে যেহেুতু মামলাটি সর্বচ্চ শাস্তির (ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট)মামলা তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যই একটু সময় নেওয়া উচিৎ,তাই আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হবে’।

ওইদিনই এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) আসাদুজ্জামান খান সাংবাদিকদের বলেন,‘আমরা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি সর্বচ্চ শাস্তি চেয়েছি বাকিটা বিচারক সিদ্ধান্ত নিবে’। এরশাদের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,‘মামলার এজাহারে এরশাদের নাম ছিল না। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। অপর আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল না। বাদিসহ ২৮ জন সাক্ষির কেউই এ ঘটনায় এরশাদ জড়িত মর্মে সাক্ষ্য দেননি। প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমান করতে পারেননি। তাই ন্যায় বিচার পেলে আসামিরা খালাস পাবেন’।

উল্লেখ্য,১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন চট্টগ্রামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার স্টাফ (জিওসি) ছিলেন আবুল মঞ্জুর। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর আত্মগোপনে যাওয়ার পথে মঞ্জুরকে পুলিশ আটক করে। এরপর ২ জুন মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং মৃত্যুসনদপত্র পেতে বিলম্ব হওয়ায় ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই আইনজীবী আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন এরশাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud