April 18, 2026
ঢাকা: ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশী বংশদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক সামিউন রহমান ইবনে হামদান ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জন্য কর্মী সংগ্রহ করছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সামিউন সিরিয়ার জঙ্গি সংগঠনের পক্ষে জিহাদে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী সংগ্রহের কাজ করছিল। সে গত ফেব্র“য়ারি মাসে বাংলাদেশে আসে। এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সিরিয়ায় অবস্থান করে কতিথ জিহাদে অংশ নেয়। শুধু সিরিয়া নয় গত বছর সে মৌরতানিয়া ও মরোক্কোতে গিয়েছিলেন। আর এই তথ্যগুলো প্রমাণিত, সত্য। পাসপোর্ট থেকে বিভিন্ন দেশে অবস্থানের বিষয়গুলো জানা গেছে।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন। এর আগে রাজধানীর কমলাপুর থেকে আইএস এবং আল কায়েদার সহযোগী সংগঠন নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগে রবিবার রাতে সামিউনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।
তবে সামিউন আইএসের সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আইএসের সঙ্গে জড়িত নই। আপনারা আমার বিষয়ে জানতে ব্রিটিশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করেন।’
সামিউন আইএসের কর্মী সংগ্রহ করছে দাবি করে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে সে বখাটে ছিল। ওই সময় মাতাল অবস্থায় ব্রিটেনে পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়। জেল থেকে বের হওয়ার পর সে আলোর সন্ধান পায় বলে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে দাবি করে। তার ভাষায় সে পুনর্জীবন লাভ করে। ওই সময় সে জঙ্গি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়।’
আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন ও শরীয়াহ মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে তার জনবল এবং অস্ত্র দরকার বলে পুলিশকে জানিয়েছে দাবি করে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে লোক সংগ্রহ করা সম্ভব বলে সে বাংলাদেশে এসেছে। এমনকি প্রতিবেশী ২/১টি দেশ থেকেও লোক সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে।’
জিহাদে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক সদস্য সংগ্রহ করতে সে প্রাথমিকভাবে ফেসবুকে যোগাযোগ করত। এরপর টেলিফোনে যোগাযোগ করে সে দেখা করত বলে মনিরুল ইসলাম দাবি করেন।
বাংলাদেশ থেকে জিহাদে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের নিয়ে সামিউনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জিহাদে অংশ নিতে বাংলাদেশী সদস্যদের সিরিয়ায় প্রবেশ করিয়ে জঙ্গিদের পক্ষে অংশ নিবে। এখানে উল্লেখ করার মতো বিষয় হল- আল-কায়েদা বা আইএস কোনো কথা নেই, যেই জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে যে এলাকা আছে তাদের পক্ষেই কতিথ জিহাদে অংশ নেওয়াই মূল উদ্দেশ্য।’
মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে এর আগে গ্রেফতার হওয়া আসিফ আদনান, ফজলে এলাহি তানজিল, সেকান্দর আলী নকি ও তাসকিন ওরফে নাহিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সামিউন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিরিয়ায় একটি টিম পাঠানোর পরিকল্পনা করে। তারা সামিউনের সহযোগী বলেও পুলিশকে জানায়।’
সিরিয়ার জিহাদ শেষে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারসহ ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার জঙ্গি নেটওয়ার্ক স্থাপনে সামিউনের পরিকল্পনা ছিল বলেও মনিরুল ইসলাম জানান।