April 19, 2026
ঢাকা: বিভিন্ন সময়ে অপরাধ বিষয়ক জরিপে দেখা গেছে, পবিত্র রমজান মাসে অপরাধীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে রমজান মাসের শেষ সপ্তাহে অপরাধীরা বেশি তৎপর থাকে। এসময়ে ছিনতাই, অজ্ঞান করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়া এবং পকেটমারের ঘটনা ঘটে বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট, শপিং মল, শপিং মলের প্রবেশ মুখ, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকার প্রবেশ মুখে অপরাধীদের তৎপরতা বেশি দেখা যায়। একাধিক চক্র বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে অপরাধ ঘটিয়ে নিরাপদ জায়গায় পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। দিন রাত ২৪ ঘন্টাই এরা অপরাধ ঘটিয়ে যায় এবং নিজেদের মধ্যে শিফট ভাগ করে কাজ করে। প্রত্যুষে বাস টার্মিনাল, রেল ষ্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের আশপাশে একাধিক চক্র ছিনতাই কাজে তৎপর থাকে। এরা নৈশকালীন কোচ, ট্রেন বা লঞ্চে রাজধানীতে আসা যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এই পবিত্র রমজান মাসে কড়া নজরদারী শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। রমজান মাসের শেষ সপ্তাহে নজরদারী বেড়ে যায়। কিন্তু তবুও অপরাধ কমে না; বরং বাড়ে। তবে অপরাধীরা বিশেষ করে ছিনতাইকারীরা তাদের ছিনতাইয়ের কৌশল পরিবর্তন করায় তাদের অনেক সময়ই ধরা কঠিন হয়ে পড়ে বলে পুলিশের ধারণা। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও ছিনতাইকারীদের কৌশল বুঝে টহল ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। র্যাব সৃষ্টির পর ঈদের কেনাকাটার সুবিধার্থে র্যাব মার্কেট ও শপিং মলগুলোর আশপাশে ২৪ ঘন্টা কড়া নজরদারি শুরু করেছিল। এতে অনেকেই যানজট এড়াতে এবং নিরাপদে কেনাকাটা করতে রাতকে বেছে নিয়েছিলেন। অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করে নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখন আর মানুষ রাতে কেনাকাটায় নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না। সংবাদপত্রের খবরে প্রকাশ, রাজধানীর ৩৫১ পয়েন্টে শতাধিক ছিনতাইকারী চক্র এখন সক্রিয়। মালিবাগের এসবি অফিসের সামনে থেকে কাকরাইল মোড়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ১ নম্বর গেট থেকে পীরজঙ্গি মাজার, শান্তিনগর মোড় থেকে ইস্টার্ন প্লাস মার্কেট, মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর থেকে টেকনিক্যাল মোড়, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে গুলশান শুটিং ক্লাব, মহাখালী কাঁচাবাজার, পান্থপথ মোড় থেকে ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে কাজলার পাড়, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে জনপথ মোড় হয়ে ধলপুর সিটি, মেরুল বাড্ডা থেকে রামপুরা ব্রিজ, মৌচাক থেকে মগবাজার মোড়, গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া, বাবুবাজার ও হাতিরঝিল প্রকল্পের মতো স্পটে ছিনতাই হচ্ছে বেশি। অলি-গলিতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। আর ছিনতাইকারীদের অধিকাংশই তরুণ। গত এক মাসে রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। ছিনতাইকারীদের গুলি ও ছুরির আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন দুজন। এসব ঘটনায় কোটি টাকার ওপরে ছিনতাই হয়ে যায়। পবিত্র রমজান মাসে এসব ছিনতাইকারী চক্র আরও তৎপর হয়ে পড়বে এবং তাদের স্পটের সংখ্যা বাড়াতে পারে বলে পুলিশ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের আশংকা। এসময়ে তারা ছিনতাইয়ের কৌশলও পরিবর্তন করবে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব বিবেচনায় রেখেই আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুতি নিচ্ছে সাধারণ মানুষের চলাচল ও কেনাকাটা নিরাপদ করার জন্য। পোষাকী পুলিশ ছাড়াও সাদা পোষাকধারীরা তৎপর থাকবেন রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট, শপিং মল, কাঁচা বাজার, বিভিন্ন প্রবেশমুখসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে। কিন্তু এসব প্রস্তুতির পরও অপরাধীরা কি তাদের তৎপরতা থেকে বিরত থাকবে? ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা কিংবা পকেটমারের ঘটনা কি বন্ধ হবে? এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। এসব প্রশ্ন নিয়েই মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সারবেন, ঈদের কেনাকাটা করবেন, প্রিয় জনের সাথে ঈদ করতে বাড়ি যাবেন। আর এসব করতে গিয়ে অনেকেই ছিনতাইকারীর কবলে পরে সর্বস্ব হারাবেন। আবার ছিনতাইকারীর হাতে খুনও হতে পারেন। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা কিছুদিন হায় হায় করে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। কিন্তু পরিবর্তন কিছুই হবে না। অর্থাৎ সবকিছুই আমাদের গা সওয়া হয়ে যাচ্ছে।