February 23, 2026
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) ২০১৩ সালের তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিকতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি দেশের যে তালিকা করেছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান ৬ নম্বরে। বাংলাদেশে রাজনীতি আর সাংবাদিকতার ভেদরেখা এখন অনেক বেশি অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে সংগঠনটি। অবশ্য অনলাইন মাধ্যমে সাংবাদিকতার চর্চার ব্যাপক প্রসারের কারণে এবার তালিকার শুরুতেই রাখা হয়েছে সাইবার স্পেসকে। ইন্টারনেট ও টেলিফোনে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) আড়িপাতারও সমালোচনা করেছে সিপিজে।
সাংবাদিকতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের যে তালিকা সংগঠনটি করেছে, তার শীর্ষে রয়েছে মিসর। তালিকার বাকি দেশগুলো হলো : রাশিয়া, সিরিয়া, ভিয়েতনাম, তুরস্ক, লাইবেরিয়া, ইকুয়েডর ও জাম্বিয়া্। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক মেরুকরণে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। রাজনীতি আর সাংবাদিকতার মাঝে ভেদরেখা অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও ধর্মীয় টানাপড়েনের প্রভাবে টানা রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে এ বছর সাংবাদিকরা আক্রান্ত হয়েছেন সবদিক থেকেই।
ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের হামলায় ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার নিহত ও আসিফ মহিউদ্দিনের আহত হওয়ার পাশাপাশি তিন ব্লগারের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলার বিষয়টিও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ব্লগারদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে, আবার লেখালেখির কারণে বিচারের মুখোমুখিও হতে হয়েছে তাদের।
সিপিজের প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে বলা হয়, ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার আন্দোলনকর্মীদের সঙ্গে উগ্র ইসলামপন্থীদের সংঘাতের মধ্যে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ের পর যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার পাশাপাশি এর বিপরীতে ‘নাস্তিক-ব্লগারদের’ প্রাণদণ্ডের দাবিতে মতিঝিলে উগ্র ইসলামপন্থি সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচির বিষয়টিও তুলে ধরেছে সিপিজে।
শাহবাগ ও ইসলামপন্থীদের আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হয়রানি ও হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। এপ্রিলে উগ্র ইসলামপন্থীদের একটি প্রতিবাদ সমাবেশের খবর সংগ্রহে গিয়ে মারধরের শিকার হতে হয়েছে একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক নাদিয়া শারমিনকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারবিরোধী পত্রিকা দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ৪টি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ রেখেছে।