পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

‘সহকর্মী ঘুমালে মুখোশ পরে ভল্ট থেকে টাকা নেন শহীদ’

Posted on October 15, 2014 | in সারা দেশ | by

Taka-(1)_EDচট্টগ্রাম ব্যুরো: প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী হওয়ার সুবাদেই কার্যালয়ের কোথায় টাকা থাকে, ভল্টের চাবি কোথায় তা জানা ছিল বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা ‘গ্রুপ ফোর’র কর্মী শহীদুল হক শান্তনুর। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম কার্যালয় থেকে তিন কোটি টাকা লুটে নেন তিনি। বুধবার র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর টাকা চুরির বিস্তারিত জানিয়েছেন এই নিরাপত্তা কর্মী। র‌্যাব-৭ এর মেজর মো. জাহাঙ্গীর জানান, শহীদই ওই টাকা চুরির মূল হোতা। বুধবার সকালে রাঙামাটি কলেজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আগের দিন সরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মসজিদের মুয়াজ্জিন বশিরুল আলমের (২৮) শয়ন কক্ষ থেকে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের খবর জানাজানি হওয়ার পর চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটি চলে যান শহীদ। “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, চাকরির পাশাপাশি রাঙামাটি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে পড়াশোনা করে।চুরির ঘটনাটি ধামাচাপা পড়া পর্যন্ত রাঙ্গামাটিতে অবস্থান করে কলেজ থেকে কাগজপত্র তুলে অন্য কোনো জায়গায় গিয়ে চাকরির চেষ্টা করার পরিকল্পনা করছিল সে,” বলেন র‌্যাব কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, গত শনিবার রাতে শহীদসহ তিনজন ‘গ্রুপ ফোর’র কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। তাদের একজন ছিলেন ফটকের বাইরে। আর শহীদ ও আরেকজন ছিলেন ভিতরে।

“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শহীদ জানিয়েছে, কার্যালয়ের প্রথম দুই রুমের চাবি থাকে ফ্রন্ট ডেস্কে। ভেতরে থাকা অন্য নিরাপত্তা কর্মী ঘুমিয়ে পড়লে ডেস্ক থেকে চাবি নিয়ে প্রথম দুটি রুম খুলে কন্ট্রোল রুমে প্রবেশ করে সে। “পরে সেখান থেকে ভল্টের চাবি নিয়ে মুখোশ পরে উক্ত টাকা চুরি করে। তারপর টাকাগুলো নিয়ে তার পূর্ব পরিচিত মুয়াজ্জিন বশিরের কাছে জমা রাখে।” ২০১২ সালে এইচএসসি প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার জন্য সিটি কলেজের আবেদনপত্র তুলে তা জমা দিতে দেরি হওয়ায় ভর্তি হতে ব্যর্থ হন শহীদ। সে সময় মুয়াজ্জিন বশিরের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে জানান মেজর জাহাঙ্গীর। “সেই সূত্র ধরে চুরির টাকা মুয়াজ্জিন বশিরের শয়নকক্ষে রেখে আসে শহীদ,” বলেন তিনি। রোববার ভোররাতে নগরীর খুলশী চার নম্বর সড়কের ১৫/২ নম্বর ভবনে গ্রুপ ফোরের কার্যালয় থেকে তিন কোটি টাকা চুরি হওয়ার পরদিন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক তারেক মনসুর খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যাতে বিকল্প চাবি দিয়ে ভল্ট খুলে চুরির কথা বলা হয়।

এরপর টাকার সন্ধানে সদরঘাট ও খুলশী থানা পুলিশের সঙ্গে গোয়েন্দা পুলিশও অভিযানে নামে। মঙ্গলবার ভোরে সরকারি সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মসজিদের মুয়াজ্জিন বশিরুল আলমের (২৮) শয়ন কক্ষ থেকে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বশিরকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার জলিল মণ্ডল জানান, বশির ছিলেন শান্তনুর পূর্ব পরিচিত। শান্তনু তিনটি চালের বস্তায় করে ওই টাকা সোমবার ভোরে মসজিদ লাগোয়া বশিরের ঘরে নিয়ে যান। পরে তারা দুটি ট্রলি ব্যাগে টাকাগুলো ভরে রাখেন। চোর কিভাবে সনাক্ত হল-জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মুখোশধারী এক ব্যক্তির টাকা নিয়ে বের হয়ে আসার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তা দেখেই চোর সনাক্ত করা হয়।”

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud