পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

সর্দি, কাশি থেকে বাঁচার জার্মান টোটকা

Posted on January 3, 2015 | in জতীয় সংসদ | by

36845_bডেস্ক,ঢাকা: স্বাস্থ্য সেবায় জার্মানি বেশ উন্নত। তাই চিকিৎসা নিয়ে বিশেষ চিন্তা-ভাবনার দরকার নেই জার্মানদের। তারপরেও তারা নিজেরাই ডাক্তারি করতে চান। আর শীতের হাত থেকে বাঁচতে তাদের রয়েছে নিজস্ব কিছু কৌশল। চলুন সেগুলো জানা যাক।

পায়ের ‘ডায়াপার’!কোনো জার্মানকে যদি দেখেন পায়ে ভেজা কাপড় জড়িয়ে শুয়ে আছেন, তাহলে বুঝবেন যে তিনি জ্বরের সাথে লড়ছেন। আসলে কপালের চেয়ে পায়ে খোলা জায়গা অনেক বেশি। তাই পায়ে ভেজা কাপড় জড়ালে তাপমাত্রা দ্রুত কমে আসে। এক্ষেত্রে জার্মানদের পরামর্শ হচ্ছে, কাপড়টি কুসুমকুসুম গরম পানিতে ডুবিয়ে পায়ে পানিপট্টির মতো ধরুন এবং ৩০ মিনিট পর সরিয়ে নিন।

স্কার্ফ ইঙ্গিত বহন করে !ঘরের মধ্যে ঢিলেঢালা স্কার্ফ পরে থাকাটা জার্মানে ফ্যাশন। তবে সেটা ‘টাইট’ করে বসে পরে থাকাটা অসুস্থতার লক্ষণ। জার্মানরা স্কার্ফ ব্যবহার করেন গলা ব্যাথা কমানোর এবং ভাইরাস যাতে ‘টন্সিলাইটিস’-এর রূপ না নেয়, তা ঠেকানোর জন্য।

ঘাড়ে ঠাণ্ডা! জার্মানরা বিশ্বাস করেন যে, ঘরের মধ্য থেকে বয়ে যাওয়া বাতাস ঘাড়ে লাগলে ঘাড় ব্যথা, মাথা ব্যথা, ঠাণ্ডা, এমনকি ইনফুয়েঞ্জাও হতে পারে। তবে জার্মান ভাইরোলজিস্টদের মত হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ ভুল একটি তত্ত্ব।

দুইবার সেঁকা বিস্কুট এবং কোকাকোলা ! অসুস্থতা থেকে রক্ষার আরেকটি জার্মান টোটকা হচ্ছে দুইবার সেঁকা রুটি বা বিস্কুট খাওয়া। ডায়রিয়া বা বমি হলে জার্মানরা এ ধরনের বিস্কুট খান। সাথে সাথে আবার কোকাকোলাও পান করেন অনেকে। এতে নাকি খাওয়ার সহজে হজম হয়। কথা হচ্ছে, বিস্কুট উপকারী হতে পারে, কেননা এতে লবণ রয়েছে। কিন্তু কোক কীভাবে উপকারী হয়? কোকে থাকা ক্যাফেইন যে ‘মূত্রবর্ধক’!

শান্তি দেয় ক্যামোমিল ! জার্মানরা বিশ্বাস করেন ঠাণ্ডার বিভিন্ন উপসর্গ, এমনকি ব্যথা এবং যন্ত্রণা বিলুপ্ত হতে পারে যদি ক্যামোমিল লবণ মেশানো পানির মধ্যে শরীর ডুবিয়ে রাখা যায়। বিজ্ঞানও বলছে ক্যামোমিলে ব্যথা কমানোর উপাদান রয়েছে। এবং এটা শুধু জার্মান নয়, সবার জন্যই প্রযোজ্য। তবে ডাক্তররা বলছেন, এটা ২০ মিনিটের বেশি করলে উল্টে ক্ষতি হতে পারে।

দয়া করে সাহায্য করুন! ভাইরাস পুরোপুরি হত্যার উপায় কী? ‘সাওনা’ স্টিম বাথ কি ‘নকল জ্বর’ তৈরি করতে পারে, যা ভাইরাস ধ্বংস করবে? ভাইরোলজিস্ট এডামস মনে করেন, জ্বর ভাইরাস ধ্বংস করতে পারে না, ফলে এই পন্থা কার্যকর নয়। আর ‘সাওনা’ শরীরের তাপমাত্রা সেই পর্যায়ে নিতে পারবে না, যে পর্যায়ে রাইনোভাইরাস বা ইনফুয়েঞ্জা ধ্বংস হতে পারে।

দুধ এবং মধু : শুকনো, বিরক্তিকর কাশি ঠেকাতে কি মধু মেশানো এক কাপ গরম দুধ কাজে লাগতে পারে? মধু আসলেই উপকারী। ২০০৭ এবং ২০১২ সালে মার্কিন গবেষণায় দেখা গেছে পরিমিত মাত্রার মধু রাতের বেলা শিশুদের কাশি প্রতিরোধে সহায়তা করে।

পেয়াজও নাকি উপকারী! গুজব রয়েছে, পেয়াজ নাকি ভাইরাস সারাতে জাদুর মতো কাজ করে। আর তাই জার্মানিতে পেয়াজের জুস পানের প্রবণতা রয়েছে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে ভাইরাস সারাতে পেয়াজের জুস উপকারী হতে পারে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া এটি দেহে বমির ভাব সৃষ্টি করতে পারে।

পুরুষরা ব্যথায় কাতর! জার্মান মেয়েরা বিশ্বাস করে, পুরুষরা অসুস্থ হলে বাচ্চাদের মতো আচরণ করে। ব্যথা তাদের কাছে অনেক বেশি অসহ্যকর মনে হয়। সত্যিই কি তাই? স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন হাসপাতালে থাকা একলাখ ৬০ হাজার নথিপত্র ঘেঁটেছে, যেগুলোতে ২৫০ রকম রোগে কোন রোগী কতটা ব্যথার কথা জানিয়েছেন, তার উল্লেখ আছে। সেগুলো বলছে, ব্যথার কথা নারীরা বেশি বলেন, পুরুষরা নয়। সূত্র : ডয়চে ভেল

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud