May 1, 2026
নিউজ ডেস্ক : স্বল্প ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য রাজধানীর উত্তরায় ৬৭২টি ফ্ল্যাট তৈরি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৩২৯ কোটি টাকা।
বুধবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিসভা কমিটি বাস্তবায়নাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের ছয়টি প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। এতে চারটি প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ও দুটি প্রকল্পের ব্যয় কমেছে। সব মিলিয়ে আজকের বৈঠকে মোট ১২টি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আহমেদ পলক প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘স্বল্প ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ১৬তলা বিশিষ্ট ৮টি ভবন নির্মাণ করা হবে। যাতে এক হাজার ২৫০ ফুট আয়তনের ৬৯৬টি ফ্ল্যাট থাকবে। তিন ভাগে ভবনগুলো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে চারটি ভবন যৌথভাবে নির্মাণ করবে এআরকে-এমবিপি কোম্পানি। এ চার ভবনে মোট ফ্ল্যাট সংখ্যা হবে ৩৩৬টি। ব্যয় হবে ১৭০ কোটি ৮ লাখ টাকা।’
‘এআরকে-এমবিপি আরো দুটি ভবন নির্মাণ করবে। যাতে ফ্ল্যাট সংখ্যা হচ্ছে ১৮০টি। ব্যয় হবে ৭৯ কোটি ৪ লাখ টাকা। অন্য দুইটি ভবন নির্মাণ করবে নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। দুটি ভবনে ফ্ল্যাট হবে ১৮০টি। ব্যয় হবে ৭৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।’
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বাস্তবায়নাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ছয়টি প্যাকেজের ব্যয় সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে চারটি প্যাকেজে নির্মাণ ব্যয় মোট ১৫১ কোটি ৮১ লাখ টাকা বাড়ছে ও দুটিতে মোট কমছে ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
প্যাকেজ-০১-এর আওতায় দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে কুটুম্বপুর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় বাড়ছে ৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা (মূল প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা)।
প্যাকেজ-০২-এর আওতায় কুটুম্বপুর থেকে কুমিল্লা বাইপাসের শুরু পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা (মূল প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৮৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা)।
প্যাকেজ-০৪-এর আওতায় কুমিল্লা বাইপাসের শেষ থেকে বাতিশা বাজার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় বাড়ছে ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা (মূল প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৫৬ কোটি ৮ লাখ টাকা)।
প্যাকেজ-০৮-এর আওতায় মিরসরাই বাজার থেকে পঞ্চশিলা বাজার পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যয় কমছে ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা (মূল প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬১ কোটি ১৫ লাখ টাকা) ।
প্যাকেজ-০৯-এর আওতায় পঞ্চশিলা বাজার থেকে কুমিল্লা বাইপাসের শেষ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার সড়কে নির্মাণে ব্যয় বাড়ছে ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা (মূল প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৫৭ কোটি ২০ লাখ টাকা)।
প্যাকেজ-১০-এর আওতায় কুমিল্লা বাইপাসের শেষ প্রান্ত থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেইট পর্যন্ত ১৫ দশমিক ২৯ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যয় বাড়ছে ৬৩ কোটি ৭ লাখ টাকা (মূল প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা)।
বৈঠকে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা হয়ে চালাকচর পর্যন্ত নির্মিতব্য নতুন রেল লাইনের পাবনা-ধলারচর সেকশনে দুটি রেল সেতু নির্মাণে কাজের ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যৌথভাবে এ কাজটি পেয়েছে পিবিএএল-এসি। এতে ব্যয় হবে ১৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
রাজধানীর সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান কার্যালয় নির্মানের অনুমোদনও দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে ব্যয় হবে ১৪৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে যৌথভাবে প্রতিভা কনস্ট্রাকশন ও নাভানা কনস্ট্রাকশন।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে সারফেস ড্রেনসহ অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ কাজের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দুটি প্যাকেজে এ কাজটি করা হবে। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৯ লাখ টাকার একটি কাজ পেয়েছে মেসার্স আতাউর রহমান। ১৫ কোটি ৪ লাখ টাকার অন্য কাজটি পেয়েছে এমপিসি-আরবিএম।
উত্তরা আদর্শ আবাসিক শহর (তৃতীয় পর্ব) প্রকল্পের ৬ নং ব্রিজের অবশিষ্ট নির্মাণ কাজের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ কাজটি পেয়েছে কাজী এন্টারপ্রাইজ। এতে ব্যয় হবে ১২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন রিমডেলিং কাজের ব্যয় বাড়ছে ২৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। মূল প্রস্তাবে এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২২৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
ক্রয় কমিটির বৈঠকের আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে তিনটি বিষয়ে নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয় । এগুলো হচ্ছে- সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার (পিপিপি) আওতায় কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক স্থাপনে কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিতব্য চুক্তি অনুমোদন এবং চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্সকে বেসরকারিকরণের তালিকা থেকে অবমুক্ত করার প্রস্তাব। সুত্র : বাংলামেইল২৪ডটকম