পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

সময় এখন নতুন বাংলাদেশের

Posted on May 5, 2015 | in নির্বাচিত কলাম | by

জাহিদ আহসান রাসেল: আমরা রাজনীতি করি, রাজনীতির মানুষ আমরা। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকার করি। চেষ্টা করি মানুষের পাশে থাকার। কখনো সেই অঙ্গীকার পালন করতে পারি, Tongi-MP-Photoআবার কখনো বা পারি না। এটি আমাদের সীমাবদ্ধতা। অন্তত আমার কথা বলতে পারিÑ আমি কখনো মানুষের সঙ্গে শঠতায় বিশ্বাস করি না। এ বিশ্বাস আমার মধ্যে নেই। আমি বিশ্বাস করি, আমরা বিশ্বাস করি একটি প্রাণবন্ত বাংলাদেশ। একটা প্রাণবন্ত সমাজ যেখানে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াবে। একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক সমাজ। যে গণতান্ত্রিক সমাজের সূচনা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। সবাই উদ্বুদ্ধ হয়ে লড়বে বাংলাদেশ গড়তেÑ অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অধিকার আদায়ে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাব। এগিয়ে যাব জয় বাংলার চেতনায়। জয় বাংলার চেতনাই এগিয়ে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে জয় বাংলার চেতনায়ই।
তারুণ্য, তরুণেরাই আমাদের সম্পদ। আমাদের আশার জায়গার প্রায় পুরোটা জুড়েই আছে তারা। সেই তরুণেরাই বিজয় ছিনিয়ে আনছে বারবার। আমরা গর্বিত হচ্ছি। আমরা অহংকার করছি। আমরা আনন্দিত হচ্ছি, পুলক অনুভব করছি। ক্রিকেট আমাদের সেই ভালোবাসার, গৌরবের জায়গার একটি। নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে আমরা অংশগ্রহণ করেছি। কতটা ভালো করবে ক্রিকেট দল, আমরা কেউ জানতাম না। কারণ কয়েক বছর ধরে ক্রিকেট দল ভালো করে এলেও ধারাবাহিক ছিল না, ’১৪ সালের শেষে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে আংশিক সফলতা ধরা দিলেও শ্রীলংকা, এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমরা ভালো খেলতে পারিনি। আমরা আফগানিস্তান ও হংকং দলের সঙ্গেও হেরেছিলাম ’১৪ সালে। আমাদের ক্রিকেট দলের সামর্থ্য নিয়ে কখনো সন্দেহ না থাকলেও প্রত্যাশিত ভালো না করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছিল বারবার। এসব প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেবের খেরোখাতা নিয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করি আমরা। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা দেখিয়ে দিয়েছে যে, তারা আর ছোট নয়, বেড়ে উঠেছে, বড় হয়েছে, সামর্থ্যবান হয়েছে। হেলার দিন শেষ, সময় এখন বাংলাদেশের। বাংলাদেশ যুদ্ধ করা জাতি, হারতে হারতে জিতে যাওয়া জাতি। বিজয় তাদের গন্তব্য, বিজয় তাদের চাই। সেটিই হয়েছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কয়েকটি খেলা আমি দেখেছি। কাছ থেকে দেখেছি ছেলেদের মানসিকতা, দেশপ্রেম। দেশকে ভালোবেসে উজাড় করে দিয়ে তারা খেলেছে। আমরা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছি। ভারতের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচ যদি আম্পায়ারদের নির্মোহ আচরণ থাকত, তাহলে কে জানে বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে থামত। বাংলাদেশ দল এমন ছন্দে ছিল যে, এমনও হয়তো হতো, বাংলাদেশ ফাইনাল পর্যন্ত খেলতে পারত। ফাইনাল খেললে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নও হতে পারতÑ এমন ভাবনা বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। কিন্তু এমনটি কেবল আমার ভাবনা নয়, আমি দেখেছি মানুষের উচ্ছ্বাস। বিদেশিদের বাংলাদেশকে নিয়ে আগ্রহ। সেদিন হয়নি, সামনে নিশ্চয়ই বাংলাদেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল হবে, এটি এখন বলাই যায়।
মাত্র কদিন আগে পাকিস্তানকে যেভাবে বাংলাদেশ হারিয়েছে, তা কিসের সঙ্গে আপনি তুলনা করবেন? যেভাবে বিধ্বস্ত করল পাকিস্তানকে বাংলার বাঘেরা, একটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল যেভাবে বাংলাওয়াশ হলোÑ যেভাবে পাকিস্তানকে নিয়ে ছেলেখেলা হলো, তা কি শুধু কয়েকটি শব্দ বা বাক্য দিয়ে বোঝানো যাবে? বিশ্লেষণ করা যাবে? আমি এমনিতেই ক্রীড়ামোদি মানুষ। ক্রিকেট আমার পছন্দের খেলা। এর বাইরে আমি বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি। ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতির জন্য কাজ করা, তাদের উৎসাহ, প্রণোদনা দেওয়া আমার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। দায়িত্ব এবং ভালোবাসা থেকেই ক্রিকেট মাঠে যাই। যাই অন্যান্য খেলাধুলা উন্নতির জন্য করণীয় ঠিক করতেও। তবে পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ, একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারিয়ে দেওয়ার দৃশ্য খুব কাছ থেকেই আমি দেখেছি। আমি খুব ভাগ্যবান যে, ক্রিকেটের এই গৌরবের সময় তাদের পাশে থাকতে পেরেছিলাম। গর্বিত যে, বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে মাঠে চলে এসেছিলেন। পুরস্কার বিতরণ করা, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সেলফি তোলাÑ এক বিস্ময়ের ঘটনাই বটে। পৃথিবীর আর কোনো রাষ্ট্রনায়ক সংস্কৃতির প্রতি এত প্রীতি আছে কি না, আমার জানা নেই। ক্রীড়া-অন্তঃপ্রাণ জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই উদাহরণ অনেক আগেই সৃষ্টি করেছেন। যখনি দেশের ছেলেরা দেশের জন্য খেলছে, তাদের পাশে থাকছেন। আমাদের ক্রিকেট এগিয়ে যাওয়ার পেছনে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, প্রতিমুহূর্তে চমকে উঠছেÑ গোটা পৃথিবী। সামাজিক সূচক, অর্থনীতির সূচক, ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তিতে বিপ্লব সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৮ সালের দেশের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয় ঘোষণা দিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার। মানুষের কাছে তখন শব্দটি অনেক অচেনা মনে হয়েছিল। ডিজিটাল বলতে আসলে কী বুঝিয়েছেন, তাও বুঝে উঠতে পারছিলেন না তারা। কিন্তু আজ ২০১৫ সালে এসে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান জাতীয় স্লোগানে পরিণত হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর জন্য মডেল। তাদের অনেকেই ধার চায় ডিজিটাল বাংলাদেশের এই মডেল। তারা স্বীকার করে নিয়েছে, তারা আজ স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের মতো হওয়ার। সেটি সম্ভব হয়েছে জননেত্রীর সরকারের কারণেই। সজীব ওয়াজেদ জয়ের কারণেই।
তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে যেখানে তরুণেরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর, নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেÑ তখনি হরতাল-অবরোধ নামে এক অভিশাপ আমাদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হলো। যেখানে মানুষের উন্নয়ন, দেশের উন্নয়নই দেশের মানুষের ব্রত, তরুণদের আকাশ ছোঁয়ার কল্প যেখানে সক্রিয়, সেখানে এমনভাবে আমাদের ওপর হরতাল-অবরোধ জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসল যে, মানুষের কষ্টের আর শেষ থাকল না। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারল না ঠিকমতো করে, ব্যবসায়ীদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হলো, সামাজিক-আর্থিক ক্ষতি হলো। মানুষকে পুড়িয়ে মারা হলো। যেখানে মঙ্গলে যাওয়ার ভাবনা আমাদের, সেখানে হরতালের মতো অ্যানালগ পদ্ধতি বাতিল বলে গণ্য করল মানুষ। ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন হতেই পারে, তাই বলে মানুষকে পুড়িয়ে, মানুষের অধিকার হরণ করে? রাজনীতির ভাষা, গণতন্ত্রের ভাষা এমন নয়, তা বিএনপির নেত্রীকে বুঝতে হবে। মানুষকে বুঝতে হবে, তা না হলে রাজনীতি তার কাছ থেকে টা টা দেবে। তখন আর কিছুই করার থাকবে না।
জাতির জনক একদিন স্বপ্ন দেখেছিলেনÑ একদিন এদেশ স্বাধীন হবে। হয়েছে। স্বপ্ন দেখেছিলেন উন্নত বাংলাদেশেরÑ সেটি হওয়ার পথে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে সবার জন্য উদাহরণÑ সেটিও হবে। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার, তাদের অধিকার আদায়ে যে দৃঢ়তা ছিল, সেটি ধারণ করছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। যোগ্য পিতার সুযোগ্য কন্যা তিনি। বঙ্গবন্ধুর মতো তিনিও দেশকে প্রচন্ড ভালোবাসেন। মানুষকে ভালোবাসেন। বারবার হত্যাচেষ্টায় ভয় না পেয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে। আমার বাবাও একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, স্বপ্ন দেখেছিলেন বৈষম্যহীন সমাজের। একটি উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন অবলীলায় মানুষকে ভালোবেসে, মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে। আমার স্বপ্নও, আমার আশা মানুষের পাশে থাকার। মানুষের জন্য কাজ করার। দেশকে ভালোবেসে জীবন দিতেও প্রস্তুত। শুধু প্রত্যাশাÑ একটি উদার, গণতান্ত্রিক, মানুষের অধিকার আদায়ের এক বাংলাদেশ। এই ভূখন্ড সবার। সম্মান নিয়ে যেন সবাই এই ভূখন্ডে বসবাস করতে পারেÑ কোটি তরুণের মতো আমার প্রার্থনাও তাই। আমার বিশ্বাসের জয় হবে বলেই আশা করি। কারণ, সময় এখন নতুন বাংলাদেশের। নতুন বিশ্বাসের।
লেখক: জাহিদ আহসান রাসেল এমপি, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud