April 16, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফ্রান্সের নিস শহরে হামলার এক বছর পূর্তিতে হামলাস্থলে শ্রদ্ধা জানিয়ে এ প্রত্যয় জানান তিনি। এ উপলক্ষে সামরিক কুচকাওয়াজেও অংশ নেন তিনি। এর আগে বাস্তিল দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজনে যোগ দেন তিনি।
এ যেন আলোর নাচন, বর্ণিল আতশবাজির খেলায় রাতের আঁধারেও যেন আকাশের আলোর ছটা। আইফেল টাওয়ার ঘিরে নানা আতশবাজির এ রঙের খেলা দেখতে প্যারিসে ভীড় করেন বিভিন্ন শহর থেকে আসা ফরাসিরা। শুক্রবার ফ্রান্সের বাস্তিল দিবস উপলক্ষে সবশেষ আয়োজন ছিলো এই আতশবাজির প্রদর্শনী। রঙ আর আলোর প্রদর্শনী বিমোহিত করে রাখে দর্শর্ণার্থীদের।
এর আগে বাস্তিল দিবস উপলক্ষে মার্কিন এবং ফরাসি বাহিনী যৌথভাবে সামরিক কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করে। যেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সস্ত্রীক যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কুচকাওয়াজের পাশাপাশি যুদ্ধ বিমানের প্রদর্শনী ও নানা কসরত দেখান বৈমানিকরা। এসময় ম্যাক্রোঁ বলেন, কোন কিছুই যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সুসম্পর্ক ভাঙতে পারবে না।
এরপর ম্যাক্রোঁ যান ফ্রান্সের নিস শহরে। যেখানে গত বছর বাস্তিল উৎসবে উপলক্ষে জড়ো হওয়া মানুষের ওপর দ্রুতগতিতে ট্রাক চালিয়ে নৃসংশ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছিলো ৮৬ জন,আহত হয় অর্ধশতাধিক। হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ম্যাক্রোঁ। তাদের স্মরণে উপস্থিত সবাই ১ মিনিট নিরবতা পালন করেন। দিনটি উপলক্ষে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করে নগর কর্তৃপক্ষ। কুচকাওয়াজের পাশাপাশি যুদ্ধবিমান প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।
ঐ হামলায় হতাহতদের সাহায্যকারী দুজন পুলিশ, একজন দমকলকর্মী ও দুই বেসামরিক নাগরিককে সম্মানজনক মেডেল পরিয়ে দেন ম্যাক্রোঁ। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ওই হামলায় হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেন। তিনি বলেন, তার সরকার সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘যে মানুষগুলো হামলায় নিহত হয়েছে আমরা কি তাদের ভুলে যাবো? আমরা তাদের কোনভাবেই ভুলবো না। আমাদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীরা আমাদের চোখে অশ্রু দেখে নারকীয় আনন্দ পেতে চায়। ক্ষমাহীন ও কঠোরভাবে আমরা তাদের জবাব দেব। সীমান্তের ভেতর এবং বাইরে সবজায়গায় আমরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিযে যাবো।’
নিস হামলায় এক বছর পূর্তিতে হতাহতদের স্মরণে শুক্রবার বিশেষ কনসার্টেরও আয়োজন করা হয়। ফ্রান্সে এমন ভয়াবহ হামলার পুণরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এবং সবাই যেন নিরাপদে থাকে সে প্রার্থনাই করেন সবাই।