April 20, 2026
যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে সরকারি বাহিনীকে হঠিয়ে একের পর এক শহর দখল অব্যাহত রেখেছেন ইরাকের সুন্নি যোদ্ধারা। রোববারও তারা তিনটি শহর দখলে নিয়েছেন। এর মধ্যে গণমাধ্যমে খবর হয়েছে, বিদ্রোহী যোদ্ধারা দখলে নেওয়া শহরগুলোতে সঙ্গিনীর সন্ধান করছেন। উত্তরাঞ্চলের বাইজি শহরে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এখন এ শহরের দ্বারে দ্বারে গিয়ে যোদ্ধারা শুনছেন, কার বাড়িতে কতজন নারী আছেন এবং জানতে চাইছেন বিবাহিত এবং অবিবাহিত নারীর সংখ্যা কত। ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভ্যান্টের (আইএসআইএল) যোদ্ধাদের এ তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে। ব্রিটেন ভিত্তিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর অনলাইনে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে আবু লাহিদ নামে একজন ইরাকি নাগরিকের সঙ্গে ইন্ডিপেনডেন্টের সাংবাদিক প্যাট্রিক ককবার্নের কথোপকথন তুলে দেওয়া হয়েছে।
আবু লাহিদ বলেন, যোদ্ধারা যখন আমাদের বাড়িতে এসে আমার কাছে জানতে চাইলেন, এ বাড়িতে কতজন নারী আছেন এবং তাদের মধ্যে কতজন বিবাহিত ও অবিবাহিত। আমি বললাম, দুইজন নারী আছেন এবং দুইজনই বিবাহিত। কিন্তু তারা আমার কথায় বিশ্বাস করলেন না। যোদ্ধাদের মধ্যে অনেকেই অবিবাহিত রয়েছেন। তারা স্ত্রীর সন্ধান করছেন। যোদ্ধারা আমাকে উপেক্ষা করে ঘরের ভেতর ঢুকে গেলেন এবং তন্ন তন্ন করে তল্লাশি করলেন। তারা নারীদের পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখলেন। ইরাকের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাগরিকরা ‘বিবাহিত’, না ‘অবিবাহিত’ তা লেখা থাকে।
আইএসআইএলের সদস্যরা তাদের দখলে নেওয়া শহরের অধিবাসীদের বলছেন, তাদের ওপর নির্দেশ আছে, সুন্নি নয় এমন লোকদের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করা যাবে না। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্রোহীরা তাদের নিয়ম-কানুন শিথিল করছেন। মসুল শহর থেকে শিয়া সরকারের স্থাপন করা তল্লাশিচৌকিগুলো সরিয়ে দিয়েছেন বিদ্রোহীরা। এতে আগের চেয়ে সেখানকার জনজীবন কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
বাজি ও মসুল শহরের ব্যবসায়ী ও কৃষকদের পণ্যমূল্য কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্রোহীরা। তাদের এসব উদ্যোগ ক্ষণস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মসুল দখল করার পর একজন নারী ও তার স্বামীকে দোররা মেরেছেন তারা। বোরকার সঙ্গে নেকাব না পরায় তাকে এ শাস্তি দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাদের দখল করা অন্য শহরগুলোতে নারীদের পোশাক, কপি হাউসে টিলিভিশন দেখা ও ধূমাপন করা নিয়ে নানা ধরনের নিয়ম-নীতি আরোপ করা হচ্ছে।
এর আগে ২০০৪ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ইরাকে সুন্নি ও শিয়াদের মধ্যে চলা যুদ্ধের সময় আল-কায়েদার সদস্যরা জোর করে শিয়া নারীদের বিয়ে করেন। বর্তমানের আইএসআইএলের সদস্যরা সে সময়ে ইরাকে আল-কায়েদার সমর্থক হিসেবে যুদ্ধ করতেন। সে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের চেয়ে নাগরিকরদের মধ্যে বেশি ত্রাসের কারণ ছিলেন আল-কায়েদার সদস্যরা।
মার্কিন সেনাদের সঙ্গে ইরাকের আল-কায়েদার সমর্থকদের যুদ্ধের সময় এক ব্যক্তি বলেছিলেন, মার্কিন সেনারা আমার দরজায় লাথি মারলে আমি যতটুকু আতঙ্কিত হই, তার চেয়ে বেশি হই যখন আল-কায়দের সদস্যরা এক কাজ করেন। কারণ মার্কিন সেনাদের হাতে প্রাণে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় কিন্তু আল-কায়েদার কাছে নয়।
সুন্নি বিদ্রোহীদের আল-কায়েদার সদস্যদের সঙ্গে তুলনা করছেন শিয়ারা। জোর করে বিয়ে করা, গর্ভধারণে বাধ্য করা এবং পর্দাপ্রথায় নারীদের ঘরে বন্দি করাসহ অনেক জবরদস্তিমূলক আইন চালু করেছিলেন ওই সংগঠনের সদস্যরা। কিন্তু বেশি দিন সেসব টেকেনি।
এখন দেখার বিষয় সুন্নি বিদ্রোহীরা কত দিন শহরগুলো দখল করে রাখতে পারেন। কারণ এর আগে সুন্নি সংগঠনগুলোর মধ্যে ভাঙা-গড়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।