February 22, 2026
ঢাকা: ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। শুক্রবার প্রথম দিনই রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে টিকিট কাউন্টারগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। লাইনে দাঁড়ানো যাত্রীরা রেলওয়ে কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে ধীরগতিতে টিকিট দেওয়া ও কালোবাজারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। ঈদের সময় মহাসড়কে যানজট, দুর্ঘটনা ও নানা দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ট্রেনের টিকিটের প্রতিই নগরবাসীর ঝোঁক বেশি থাকে। এবারও একই দৃশ্য দেখা গেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আজ সকাল নয়টায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু ভোর থেকে কমলাপুর স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে লাইন ধরে বসে পড়েন অনেকে। সকাল নয়টায় টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটি কাউন্টারের সামনে অপেক্ষমাণ লোকদের সারি আঁকাবাঁকা হয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে যায়। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মনসুর আলী সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারি নিয়মে নয়টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হবে। যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে অভিযোগ দিলে সময় পরিবর্তনের চিন্তা করা হবে।’
টিকিট দিতে ধীরগতি
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, কাউন্টার থেকে ধীরগতিতে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘লাইনে দাঁড়ানোর পর স্টেশন থেকে একটি চাহিদাপত্র দেওয়া হচ্ছে। তথ্য লিখে টিকিট কাটার সময় যাত্রীরা তা কাউন্টারে জমা দিচ্ছেন। এর পরও টিকিট দিতে অনেক দেরি হচ্ছে। কম্পিউটার অপারেটররা অদক্ষ। এক আঙুল দিয়ে কী-বোর্ড প্রেস করছেন।’
শুরু হতে না হতেই টিকিট শেষ
সব কটি ট্রেন মিলিয়ে তাপানুকূল (এসি) আসন ও বার্থ (শুয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা) আছে মাত্র এক হাজার ৮০২টি। এর মধ্যে মুঠোফোনে খুদেবার্তা (এসএমএস) ও ই-টিকিটের জন্য কিছু বরাদ্দ থাকে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিআইপি) ও রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কিছু বরাদ্দ থাকে। তাই চাহিদার তুলনায় আসন সীমিত বলে লাইনের শুরুর দিকের লোকেরাই কেবল এসব টিকিট পাচ্ছেন বলেও কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেছেন। চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফজলে আমিন। তাঁর ভাষ্য, ‘টিকিট বিক্রি হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ। পরে আমরা সাধারণ আসনের টিকিট কিনেছি। সব এসির টিকিট কালোবাজারি হচ্ছে।’ এ ব্যাপারে রেলওয়ের মহাপরিচালক তাফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কেবিন ও এসি প্রথম শ্রেণির টিকিট সীমিত হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তবে এত দ্রুত শেষ হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তাফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সব কটি ট্রেনে বসে ও দাঁড়িয়ে প্রতিদিন এক লাখ ৮০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করবেন। ঈদের সময় আমাদের ধারণা, এটা দুই লাখের কাছাকাছি চলে যাবে।’ রেলসূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর), ঢাকা-পার্বতীপুর, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর, ঢাকা-খুলনা এবং ঈদের দিন ভৈরব-শোলাকিয়া ও ময়মনসিংহ-শোলাকিয়ায় ট্রেনের বিশেষ সার্ভিস চালু হবে। এ ছাড়া রেলে নতুন বগিও সংযোজন করা হবে। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ৩ অক্টোবর থেকে দেওয়া হবে ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট। আজ দেওয়া হচ্ছে ১ অক্টোবর যাওয়ার টিকিট। এভাবে ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ২, ৩, ৪ ও ৫ অক্টোবরে যাওয়ার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে। ফিরতি টিকিটের যাত্রা শুরু হবে ঈদের (৬ সেপ্টেম্বর) দুই দিন পর থেকে।
ঈদ উপলক্ষে রেলওয়েতে সাধারণত যাওয়ার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয় শুধু ঢাকার কমলাপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট স্টেশনে। ফিরতি টিকিট এই তিন স্টেশন ছাড়াও রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, সৈয়দপুর, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্রি হবে। প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে বলে রেল কতৃর্পক্ষ আশা করছে।