May 7, 2026
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। ইতিমধ্যে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রমের সাফল্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে এক ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সময় বান্দরবান থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় পার্বত্যবাসীদের উদ্দেশে বলেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে বিশ্বে বাহকবাহিত রোগে ৬ লাখ ৬০ হাজার লোক মারা যায়। এর মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে শিশু। বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, যাতায়াত বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, কৃষিব্যবস্থার পরিবর্তন, বনাঞ্চল ধ্বংস, পারিপার্শ্বিক পরিবেশের পরিবর্তন ইত্যাদি বাহকবাহিত রোগের ঝুঁকি ও বিস্তারের অন্যতম কারণ। বিশ্বে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের মধ্যে ১৭ শতাংশই হচ্ছে বাহকবাহিত।
বাহকবাহিত রোগ নির্মূলের অগ্রগতি তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরো বলেন, উষ্ণমণ্ডলীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও নানা ধরনের বাহকবাহিত রোগ বিরাজ করছে। নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণের ফলে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়া, চিকনগুনিয়া এবং জাপানিজ এনক্যাপালাইটস রোগগুলোর অনেকটাই নির্মূলের পর্যায়ে গেছে। এ ছাড়া আমাশয়, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগও বাহকের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ২০০৮ সালে ৮৪ হাজার লোক ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ১৫৪ জন। ২০১৩ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৮৫১ জনে। মারা যান ১৫ জন। জনগণের দোরগোড়ায় রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদান এবং কীটনাশক মশারি বিতরণের ফলে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মনিটর করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে ডেঙ্গু জ্বরও কমে এসেছে। দেশের ১৯টি জেলায় ফাইলেরিয়া রোগপ্রবণ ছিল, ১৫টি জেলায় প্রাথমিকভাবে এ রোগ নির্মূল করা হয়েছে। বাকি চার জেলাতেও নির্মূল করা হবে। সরকারের পদক্ষেপে কালাজ্বরের বিস্তারও কমে এসেছে- বলেন প্রধানমন্ত্রী।