April 16, 2026
সিলেট: ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে সুমন নামে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১০ জন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের অঞ্জন-উত্তম ও পার্থ-সবুজ গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে রাবার বুলেট ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হত সুমন চন্দ্র সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র। সংঘর্ষ চলাকালে সে অঞ্জন-উত্তম গ্রুপের হয়ে শাবিতে গিয়েছিল। গুলিবিদ্ধ হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিমাদ্রি শেখর রায়, শাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র অঞ্জন রায় এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ও ছাত্রলীগকর্মী খলিলুর রহমান। বাকি গুলিবিদ্ধ দুইজনের নাম জানা যায়নি।
এছাড়া আহত হয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ছাত্রলীগকর্মী হুসাইন মোহাম্মদ সাগর ও আবদুস সালাম মঞ্জু।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অঞ্জন রায় ও সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য উত্তম কুমার দাস গ্রুপের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিবন চক্রবর্তী পার্থ ও যুগ্ম-সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সবুজ গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকলে উত্তেজনা দেখা দেয়। সকাল ১০টায় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় গ্রুপ আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটার ব্যবহার ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ছাত্রলীগের ৫ কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। এর মধ্যে সুমন আহমদ নামের এক বহিরাগতকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
সংঘর্ষকালে উভয় গ্রুপের পক্ষ নিয়ে বহিরাগত ক্যাডাররা অংশ নেয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ অন্তত ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটে প্রক্টর হিমাদ্রি শেখর রায় আহত হন বলে জানা গেছে।
এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হলের ৩৫টি কক্ষ ভাঙচুর করে। বেশকয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলামেইলকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
এদিকে সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেন। তবে ভর্তি কার্যক্রম চলবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
এছাড়া বিকেল ৩টার পর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভায় সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা রয়েছে।